সাম্প্রতিক সময়ে দেশের বিভিন্ন সীমান্ত দিয়ে ভারত থেকে লোকজনকে বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার বিষয়ে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী

সীমান্তে পুশ-ইন: উসকানি নয়, অতীতের পুনরাবৃত্তি বলেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা

নিউজটি প্রতিবেদন করেছেন: স্টাফ রির্পোটার।

আপলোড সময় : ১৭ মে ২০২৫, দুপুর ৪:১৯ সময় , আপডেট সময় : ১৭ মে ২০২৫, দুপুর ৪:১৯ সময়
সাম্প্রতিক সময়ে দেশের বিভিন্ন সীমান্ত দিয়ে ভারত থেকে লোকজনকে বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার বিষয়ে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেছেন, অতীতেও এমন ঘটনা ঘটেছে। তিনি এই কর্মকাণ্ডকে 'উসকানি' হিসেবে দেখতে নারাজ।

বাংলাদেশ-ভারত জলসীমার নিরাপত্তা জোরদারে সুন্দরবনের অভ্যন্তরে নতুন ভাসমান সীমান্ত পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র (বিওপি) উদ্বোধনের পর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।

সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার রায়মঙ্গল নদী ও বয়েসিং খালের সংযোগস্থলে 'বয়েসিং ভাসমান বিওপি' উদ্বোধন করে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। এই পদক্ষেপটি এমন সময়ে নেওয়া হলো, যখন প্রায় প্রতিদিনই ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) লোকজনকে সীমান্তের এপারে ঠেলে দিচ্ছে।

গত রোববার শ্যামনগর উপজেলার পশ্চিম সুন্দরবনের মান্দারবাড়িয়া চরে বিএসএফ ৭৮ জন 'বাংলাভাষী'কে ফেলে যায়, যাদের পরে উদ্ধার করে শ্যামনগর থানায় হস্তান্তর করে কোস্টগার্ড।

মান্দারবাড়িয়া চরের প্রায় ২০ কিলোমিটার দূরে ভারতীয় সীমান্ত সংলগ্ন বিজিবির নতুন এই বিওপি উদ্বোধনের পর স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেন, ভারতের এই 'পুশ-ইন' তার কাছে উস্কানিমূলক মনে হয়নি। "এটা তেমন উস্কানিমূলক মনে হচ্ছে না। কারণ, আমি যখন বিজিবির মহাপরিচালক ছিলাম, তখনও এমন ঘটনা ঘটেছিল।" জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী ২০০৩ সালের জানুয়ারি থেকে ২০০৬ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বিজিবির মহাপরিচালক ছিলেন।

বর্তমানে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালনকালে ভারত থেকে বাংলা ভাষাভাষী লোকজনকে ঠেলে দেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে জাহাঙ্গীর আলম বলেন, "আমরা তাদের জানিয়েছি, আমাদের বাংলাদেশি কেউ ভারতে থাকলে, আপনারা যথাযথ মাধ্যমে পাঠান। প্রতিটি বিষয়ের একটি যথাযথ প্রক্রিয়া আছে। যেমন, বাংলাদেশে থাকা ভারতীয়দেরও আমরা যথাযথ মাধ্যমে পাঠাই। আমরা কাউকে জোর করে পাঠাই না। তাই তাদেরও বলা হয়েছে, বাংলাদেশিরা থাকলে তারা যেন যথাযথ মাধ্যমে পাঠায়।"

'পুশ-ইন' ঠেকাতে কূটনৈতিক সমাধানের অংশ হিসেবে ভারতকে চিঠি পাঠানোর কথা জানিয়েছেন উপদেষ্টা। একইসঙ্গে ভারতে অবস্থানরত বাংলাদেশের দূত, পররাষ্ট্র উপদেষ্টা এবং সরকারের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমানের সঙ্গেও আলোচনা হয়েছে বলে জানান তিনি।

'পুশ-ইন'-এর কারণ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, "কিছুদিন আগে শুনেছি গুজরাটে একটি বাঙালি কলোনি ভেঙে দেওয়া হয়েছে। এরপর থেকেই এই ঘটনা শুরু হয়েছে।" এরপর থেকে বাংলাদেশের কয়েকটি সীমান্ত দিয়ে বিএসএফ অন্তত ৩৭০ জনকে বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার তথ্য দিয়েছে বিজিবি।

ইউএনএইচসিআর কার্ডধারীদেরও 'পুশ-ইন' করার বিষয়ে প্রতিবাদ পাঠানোর কথা জানিয়ে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম বলেন, "এর মধ্যে কিছু রোহিঙ্গা ঢুকে পড়েছে। এসব রোহিঙ্গা আমাদের দেশেও ছিল, আবার ভারতের রোহিঙ্গারাও ঢুকে পড়েছে। তাই আমরা এর প্রতিবাদলিপি পাঠিয়েছি।"
বাংলাদেশে অবৈধ ভারতীয় থাকলে তাদের বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে কি না জানতে চাইলে উপদেষ্টা বলেন, "বাংলাদেশে অবৈধ ভারতীয় একেবারে নেই, তা নয়। তবে, আমি আপনাদের অনুরোধ করব, যদি থাকে আমাদের জানান, আমরাও যেন যথাযথ উপায়ে পাঠাতে পারি। আমরা তাদের মতো অবৈধভাবে পাঠাব না।"

বাংলাদেশের 'পুশ-ব্যাক'-এর চিন্তা আছে কি না, এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, "এরা যদি আমাদের দেশের নাগরিক হয়, পুশ-ব্যাক করার কোনো অধিকার নেই। অবৈধভাবে থাকা ভারতীয়দের আমরা এভাবে পুশ-ব্যাক করব না, আমরা যথাযথ প্রক্রিয়ায় পাঠাব। অবৈধভাবে পাঠানো আইনত সিদ্ধ নয়।"

এর আগে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জানান, 'বয়েসিং ভাসমান বিওপি' একটি স্বয়ংসম্পূর্ণ অপারেশনাল প্ল্যাটফর্ম, যা জলপথে সীমান্ত এলাকায় টহল ও নজরদারি জোরদার করবে। এই উদ্যোগ সীমান্তে নতুন নিরাপত্তা সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠার পথে অগ্রণী ভূমিকা রাখবে এবং কার্যকর সীমান্ত ব্যবস্থাপনায় সহায়ক হবে বলে তিনি মনে করেন।

বাংলাদেশ-ভারতের ৪ হাজার ১৫৬ কিলোমিটার সীমান্তের মধ্যে ১৮০ কিলোমিটার জলসীমা, যার মধ্যে প্রায় ৭৯ কিলোমিটার এলাকা সুন্দরবনের অন্তর্গত। এর আগে সুন্দরবনের সীমান্ত সুরক্ষায় কাঁচিকাটা ও আঠারোবেকিতে দুটি ভাসমান বিওপি স্থাপন করা হয়েছে। কৈখালী স্থল বিওপি ও কাঁচিকাটা ভাসমান বিওপির মধ্যকার দূরত্ব ৩০ কিলোমিটারের বেশি হওয়ায় মধ্যবর্তী স্থান বয়েসিংয়ে তৃতীয় ভাসমান বিওপি স্থাপন করল বিজিবি।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলছে, সীমান্তে কার্যকর জলভিত্তিক নজরদারি নিশ্চিত করতে বিজিবির অধীনে একটি বিশেষ 'রিভারাইন বর্ডার গার্ড ব্যাটালিয়ন' গঠনের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে, যা ভবিষ্যতে সীমান্ত ব্যবস্থাপনায় যুগান্তকারী ভূমিকা রাখবে। বর্তমানে বিজিবির 'রিভারাইন বর্ডার গার্ড কোম্পানি' একটি স্থল বিওপি, তিনটি ভাসমান বিওপি, একটি জাহাজ ও কিছু জলযানের মাধ্যমে দায়িত্ব পালন করছে।

নতুন বিওপি উদ্বোধন শেষে বিজিবি মহাপরিচালক (ডিজি) মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান সিদ্দিকী বলেন, "মূলত পুশ-ইন হচ্ছে সিলেট, কুড়িগ্রাম ও পার্বত্য চট্টগ্রামের কিছু এলাকায়। এটা প্রতিরোধে আমরা চেষ্টা চালাচ্ছি। আজ সকালেও কিছু পুশ-ইন হয়েছে। 

আমাদের সীমান্ত এত বিস্তৃত যে প্রতিটি জায়গা পাহারা দেওয়া সম্ভব নয়। তাই আমরা জনগণের সাহায্য চেয়েছি।" বিষয়টি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে জানানো হয়েছে এবং সীমান্তে বিজিবির 'সার্বিক প্রচেষ্টা' অব্যাহত রয়েছে বলে তিনি জানান।

জনসাধারণকে এই কার্যক্রমে অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, "স্থানীয় জনগণ যদি খেয়াল রাখে, তাহলে তারা আমাদের পেট্রোলকে খবর দিতে পারে।" এছাড়া নিজেদের টহল ও জনবল বাড়ানো হয়েছে জানিয়ে তিনি জনসাধারণের কাছে 'তথ্য সহায়তা' চেয়েছেন।

পুশ-ইনের মধ্যে জঙ্গি বা অপরাধী দেশে প্রবেশের সম্ভাবনা থাকে কি না জানতে চাইলে মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান সিদ্দিকী বলেন, "কোনো সম্ভাবনাই উড়িয়ে দেওয়া যায় না। তবে, দেশের জন্য ক্ষতিকর কিছু যাতে না হয়, সেজন্য আমরা জোরদার নিরাপত্তা নিশ্চিতের চেষ্টা করছি।"

এই ভাসমান বিওপিটি দেশেই নারায়ণগঞ্জ ডকইয়ার্ডে তৈরি করা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, "এর মাধ্যমে আমরা এ এলাকায় অপরাধ ও চোরাচালান আরও সুন্দরভাবে প্রতিহত করতে পারব বলে আশা রাখি।"

সম্পাদকীয় :

সম্পাদকঃ মো: ফারুক হোসেইন,

এক্সিকিউটিভ এডিটরঃ ড. আব্দুর রহিম খান,

প্রকাশকঃ মো: মতিউর রহমান।


অফিস :

অফিস : রুপায়ন জেড. আর প্লাজা (৯তলা), প্লট- ৪৬,রোড নং- ৯/এ, সাতমসজিদ রোড, ধানমন্ডি, ঢাকা- ১২০৯।

ইমেইল : info@banglann.com.bd, banglanewsnetwork@gmail.com

মোবাইল : +৮৮ ০২ ২২২২৪৬৯১৮, ০২২২২২৪৬৪৪৯