ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধবিরতির ঘোষণা এবং আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) থেকে নতুন ঋণ অনুমোদনের খবরে পাকিস্তান শেয়ারবাজারে রেকর্ড উত্থান দেখা গেছে। সোমবার সকালে পাকিস্তান স্টক এক্সচেঞ্জের (পিএসএক্স) প্রধান সূচক কেএসই-১০০ এক দিনে ৯,৯২৯ পয়েন্ট বা ৯.৩% বেড়ে ১১৭,১০৪.১১ পয়েন্টে পৌঁছায়, যা পিএসএক্সের ইতিহাসে এক দিনের সর্বোচ্চ পয়েন্ট বৃদ্ধির রেকর্ড। এই দ্রুত উত্থানের ফলে বাজারে অতিরিক্ত অস্থিরতা নিয়ন্ত্রণে রাখতে পিএসএক্স কর্তৃপক্ষ এক ঘণ্টার জন্য লেনদেন স্থগিত করে।
উত্থানের পেছনের প্রধান কারণসমূহ:
ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধবিরতি: কাশ্মীরে সাম্প্রতিক সন্ত্রাসী হামলার পর দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা বৃদ্ধি পায়। তবে, পাকিস্তানের সামরিক বাহিনীর যুদ্ধবিরতির আহ্বানে ভারত সাড়া দিলে পরিস্থিতি শান্ত হয়। এই শান্তিপূর্ণ পদক্ষেপ বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আস্থা ফিরিয়ে আনে।
আইএমএফ ঋণ অনুমোদন: আইএমএফ পাকিস্তানকে $১ বিলিয়ন ঋণ এবং $১.৪ বিলিয়ন রেজিলিয়েন্স অ্যান্ড সাসটেইনেবিলিটি ফ্যাসিলিটি (RSF) অনুমোদন করে, যা দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বৃদ্ধি এবং অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতায় সহায়তা করবে।
মুদ্রানীতির শিথিলতা: পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় ব্যাংক নীতিগত সুদের হার ১% কমিয়ে ১১% নির্ধারণ করে, যা বিনিয়োগকারীদের মধ্যে ইতিবাচক মনোভাব সৃষ্টি করে।
এই তিনটি প্রধান কারণের সম্মিলিত প্রভাবে পিএসএক্সে ব্যাংকিং, জ্বালানি, সিমেন্ট ও টেলিকম খাতে ব্যাপক লেনদেন বৃদ্ধি পায়। বিশেষ করে হাবকো, ওজিডিসি, এমসিবি, ইউবিএল, পিপিএল, পিএসও, এনআরএল এবং মারি পেট্রোলিয়াম-এর শেয়ারমূল্য উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পায়।
বিশ্লেষকরা বলছেন, “যুদ্ধবিরতি, আইএমএফ ঋণ এবং সুদের হার হ্রাস — এই তিনটি ঘটনা একসঙ্গে বাজারে ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। এই প্রবণতা অব্যাহত থাকলে পিএসএক্স আরও শক্তিশালী হতে পারে।”
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যুদ্ধবিরতির ফলে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে স্থিতিশীলতা ফিরে এসেছে এবং অর্থনৈতিক উন্নয়নের সম্ভাবনা বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে, তারা সতর্ক করেছেন যে যুদ্ধবিরতির স্থায়িত্ব এবং ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক পরিস্থিতি বাজারের উপর প্রভাব ফেলতে পারে।
ভারতীয় শেয়ারবাজারেও যুদ্ধবিরতির প্রভাব পড়েছে। সোমবার সকালে বিএসই সেনসেক্স সূচক ২,৩০০ পয়েন্ট বৃদ্ধি পেয়ে ৮১,৭০০ পয়েন্টে পৌঁছেছে এবং নিটিফাই ৫০ সূচক ৭০০ পয়েন্ট বৃদ্ধি পেয়ে ২৪,৭০০ পয়েন্টে পৌঁছেছে।
সামগ্রিকভাবে, ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধবিরতি দক্ষিণ এশিয়ার অর্থনৈতিক বাজারে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে এনেছে এবং বিনিয়োগকারীদের মধ্যে নতুন আশার সঞ্চার করেছে।