কয়েকদিনের উত্তেজনার পর গতকাল শনিবার (১০ মে) যুদ্ধবিরতিতে পৌঁছেছে দক্ষিণ এশিয়ার দুই পারমাণবিক শক্তিধর দেশ ভারত ও পাকিস্তান। এ ঘোষণার কিছুক্ষণের মধ্যেই মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘এক্স’-এ এক পোস্টে জানান, দুই দেশ শিগগিরই একটি নিরপেক্ষ স্থানে বিস্তৃত আলোচনায় বসবে।
পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ দেশটির গণমাধ্যম জিও নিউজকে জানান, এই আলোচনার মূল বিষয় হতে পারে—ভারতের স্থগিত করা সিন্ধু নদ পানি চুক্তি, কাশ্মির পরিস্থিতি, এবং সন্ত্রাসবাদ।
সম্প্রতি জম্মু-কাশ্মিরের পেহেলগামে এক বন্দুকধারীর হামলায় ২৬ জন নিহত হন। ভারত এই হামলার জন্য পরোক্ষভাবে পাকিস্তানকে দায়ী করে। এরপর নয়াদিল্লি সিন্ধু নদ পানি চুক্তি স্থগিত করে, পাকিস্তানিদের ভিসা সুবিধা বাতিল করে এবং কূটনৈতিক সম্পর্ক অবনমন ঘটায়। জবাবে ইসলামাবাদও সিমলা চুক্তি স্থগিতসহ একাধিক প্রতিক্রিয়া জানায়।
১৯৬০ সালে বিশ্বব্যাংকের মধ্যস্থতায় স্বাক্ষরিত সিন্ধু পানি চুক্তি অনুসারে, পাকিস্তান ব্যবহার করছিল সিন্ধু, ঝিলাম ও চেনাব নদীর পানি, আর ভারত পাচ্ছিল শতদ্রু, বিয়াস ও রবি নদীর প্রবাহ। পাকিস্তানের ৮০ শতাংশ কৃষিজমি এই চুক্তির আওতায় পাওয়া পানির ওপর নির্ভরশীল।
গত ৫ মে ভারত হঠাৎ করেই চেনাব নদীর পানি প্রবাহ বন্ধ করে দেয় এবং নিজেদের বাঁধগুলোর জলাধার পূর্ণ করে। এতে পাকিস্তানে নদীর পানির স্তর দ্রুত হ্রাস পায়। তবে ‘দ্য ডন’ পত্রিকার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পরদিনই ভারত আবার পানি ছেড়ে দেয়।
পাকিস্তানের পাঞ্জাব প্রদেশের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, বর্তমানে ঝিলাম, চেনাব ও সিন্ধুর পানির প্রবাহ স্বাভাবিক রয়েছে।
যদিও দুই দেশের মধ্যে আলোচনার প্রস্তুতি চলছে, তবে কবে এবং কোথায় এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে, তা এখনো চূড়ান্ত হয়নি।