গাজায় চলমান মানবিক বিপর্যয় এবং ক্রমবর্ধমান দুর্ভিক্ষ পরিস্থিতির পটভূমিতে মুসলিম দেশগুলোর প্রতি ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি।
শনিবার (১০ মে) তেহরানে এক বক্তব্যে তিনি বলেন, “মাসের পর মাস ধরে অবরোধ ও সামরিক আগ্রাসনের ফলে গাজার জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। এ অবস্থার জন্য সরাসরি দায়ী ইসরাইল ও তার পশ্চিমা মিত্ররা।”
তিনি আরও বলেন, “বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের প্রত্যক্ষ সহযোগিতায় সংকট আরও গভীর হয়েছে। এ অবস্থায় মুসলিম দেশগুলোর দায়িত্ব আরও বেড়ে গেছে। তারা যদি সত্যিই নিজেদের দায়িত্ব পালন করে, তাহলে গাজার মানুষ অন্তত কিছুটা স্বস্তি পেতে পারে।”
খাদ্য, পানি এবং ওষুধের চরম সংকটে এখন গাজা। ইসরাইলের অবরোধে কার্যত স্তব্ধ হয়ে গেছে সেখানে জীবনযাত্রা। যুদ্ধবিরতির প্রতিশ্রুতি ভেঙে মার্চ থেকে ফের হামাসের বিরুদ্ধে অভিযান শুরু করে ইসরাইলি বাহিনী।
গাজার পরিস্থিতি নিয়ে আল জাজিরা জানিয়েছে, চিকিৎসা সরঞ্জামের তীব্র ঘাটতিতে বিপর্যস্ত হাসপাতালগুলো। ডায়াবেটিস, ক্যানসার, হেপাটাইটিস ও ইমিউন রোগে আক্রান্ত রোগীরা জীবন ঝুঁকিতে রয়েছেন। বিবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এক ফিলিস্তিনি বাবা জানান, ডায়াবেটিস আক্রান্ত সন্তানের জন্য দিনরাত ঘুরে ইনসুলিন খুঁজছেন তিনি।
এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে একটি নতুন ত্রাণ ব্যবস্থাপনার প্রস্তাব এসেছে, যা বেসরকারি কোম্পানির মাধ্যমে পরিচালিত হবে বলে জানা গেছে। কিন্তু হামাস এই উদ্যোগকে 'ত্রাণের সামরিকীকরণ' এবং ‘ইসরাইলি ষড়যন্ত্র’ বলে আখ্যায়িত করেছে।
গাজা এখন এক ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। ইসরাইলের অব্যাহত বিমান, ড্রোন ও স্থল অভিযানে প্রতিদিনই প্রাণ হারাচ্ছেন অসংখ্য নারী-শিশু।
শনিবারও (১০ মে) দেইর আল বালাহ, গাজা সিটির সাবরা, রাফাহ এবং শেখ রাদওয়ান এলাকায় ইসরাইলি বিমান হামলা ও নৌ-আক্রমণে বহু মানুষ নিহত হয়েছেন। বেশ কয়েকটি পরিবারের ওপর সরাসরি তাঁবুতে বোমা বর্ষণের ঘটনাও ঘটেছে।
এই সংকটপূর্ণ মুহূর্তে খামেনি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, “ইসরাইল ও তার মিত্রদের বিরুদ্ধে বিশ্বজনমত গড়ে তুলতে হবে। এখন নীরব থাকা মানবতা ও ন্যায়বিচারের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার শামিল।”