বয়স ৩৭ হলেও এখনো বিশ্বের সেরা ব্যাটারদের কাছে রীতিমত আতঙ্ক ছিলেন স্টুয়ার্ট ব্রড। নিজের সুইং আর মাইন্ড গেইমের কারণে ক্যারিয়ারের ১৭ বছর পরেও প্রতিপক্ষের সমীহের জায়গায় আছেন তিনি। কিন্তু ফর্ম থাকা অবস্থাতেই অবসরে যাবার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন ব্রড। অ্যাশেজের ওভাল টেস্টই তার শেষ ম্যাচ সেটি জানিয়ে দিয়েছেন ম্যাচের আগেই।
ব্রডের সিদ্ধান্তে খুশি হয়েছেন তার বাবা ক্রিস ব্রড। সাবেক এই ইংলিশ ক্রিকেটারের মতে, তার ছেলে ‘সাহসী’ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে।
ব্রডের অবসরের বিষয়ে বাবা ক্রিস বলেন, যখনই আপনি অবসরের বিষয় নিয়ে ভাববেন বলতেই হবে, এটাই অবসর গ্রহণের একেবারে সঠিক সিদ্ধান্ত ছিল। আমার জন্য বিষয়টা বলা যেমন সহজ স্টুয়ার্টের জন্যেও তাই। তার কেবল মনে হয়েছে, সে ঠিক সময়ে ঠিক কাজটিই করছে।
অ্যাশেজে অবসর গ্রহণ প্রসঙ্গে তিনি জানান, ‘সে এই প্রতিযোগিতা ভালোবাসে আর ক্রিকেটকে বিদায় দেয়ার জন্য ইংল্যান্ডে অ্যাশেজের মত বড় কোন উপলক্ষ্য আর হতে পারেনা বলে জানান ক্রিস ব্রড।
ওভালে শেষ টেস্ট খেলা প্রসঙ্গেও ইতিবাচক ক্রিস ব্রড। বলেন, ‘আমার মনে হয় যদি ট্রেন্ট ব্রিজে একটা টেস্ট থাকতো, সে ওখানেই অবসর নিতে চাইতো। তবে, দিনশেষে ওভালে, মাঠভর্তি দর্শকদের সামনে, বিষয়টা দারুণ। ইংল্যান্ড ক্রিকেটে তার শুরুটাই হয়েছিল এই মাঠেই ২০০৯ সালে। প্রথম ম্যাচেই প্রতিপক্ষের ৫ উইকেট তুলে নিয়ে সবার নজরে এসেছিল সে। সেসময়ই ও বুঝতে পেরেছিল, ইংল্যান্ড ক্রিকেট দলে তার একটা ভবিষ্যত আছে।‘
ইংলিশ গণমাধ্যমের পক্ষ থেকে জানতে চাওয়া হয়েছিল, ছেলের অবসর নিয়ে জানতেন কিনা। ক্রিস ব্রড জানিয়েছেন, অবসর সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে তার সাথেই কথা বলছিলেন স্টুয়ার্ট ব্রড। ‘আমরা অবশ্যই জানতাম স্টুয়ার্টের ক্যারিয়ার শেষ হয়ে আসছে। ৩৭ বছরে আর কতদিন খেলা চালিয়ে যাবে সে। তাই আমি আর স্টুয়ার্ট এ নিয়ে বেশ কিছুদিন ধরেই কথা বলেছি।’
ইংল্যান্ডের হয়ে আশির দশকে ক্রিকেট খেলেছেন ক্রিস ব্রড। তবে তিনি ছিলেন পুরোদস্তুর ব্যাটার। ওপেনিং পজিশনে খেলেছেন লম্বা সময় ধরে। অবসরের পর থেকে আইসিসির ম্যাচ রেফারি হিসেবে কাজ করছেন এই ইংলিশম্যান।