পিএইচডি ডিগ্রি অর্জনের জন্য কলেজের শিক্ষকদের মত বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদেরও তিনটি ইনক্রিমেন্ট সুবিধা (অগ্রীম বেতন বৃদ্ধি) ২০১৫ সাল থেকে কার্যকরের দাবি জানিয়েছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি) শিক্ষক সমিতি। বুধবার (১৯ জুলাই) বেলা ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ডীনস্ কমপ্লেক্স ভবনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই দাবি জানায় সংগঠনটি। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের ইনক্রিমেন্ট সুবিধা ২০১৫ সাল থেকে কার্যকর না করাটা শিক্ষা মন্ত্রনালয় ও ইউজিসি'র দৈত্ব নীতির বহিঃপ্রকাশ বলে মনে করছেন তারা।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন রাবি শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক মো. বোরাক আলী। এ সময় তিনি বলেন, পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের পিএইচডি ডিগ্রি অর্জনের জন্য ইনক্রিমেন্ট সুবিধা ২০১৫ সালের ১ জুলাই থেকে বন্ধ হয়ে যায়। পরবর্তীতে অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ (বাস্তবায়ন অনুবিভাগ) এর ২০২১ ও ২০২২ সালে প্রকাশিত পৃথক দুটি স্মারকের বিবরণে আবারও ইনক্রিমেন্ট সুবিধা প্রদানের বিষয়টি উল্লেখ করা হয়, এবং বলা হয় 'ইহা অবিলম্বে কার্যকর হইবে'। সরকারি কলেজের শিক্ষকদের ক্ষেত্রেও এমন একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছিল। কিন্তু পরবর্তীতে সংশোধনী প্রজ্ঞাপন জারি করে তাদের পিএইচডি ডিগ্রি অর্জনের জন্য ইনক্রিমেন্ট সুবিধা ২০১৫ সালের ১ জুলাই থেকে বহাল করা হয়, যা তাঁদের ন্যায্য প্রাপ্তি বলে আমরা মনে করি।
তিনি আরও বলেন, কলেজ শিক্ষকদের মত বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের জন্যও ৩টি অগ্রিম বেতনবৃদ্ধির সুবিধা ১ জুলাই ২০১৫ সাল থেকে কার্যকর করা দরকার। উক্ত বিষয়টির অদ্যবধি কোনো সমাধান না হওয়ায় সারাদেশে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক মহলে একটি অস্বস্থিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। সিনিয়র-জুনিয়র শিক্ষকদের মধ্যে একটা বেতন বৈষম্য তৈরী হয়েছে। ইতোমধ্যে বিভিন্ন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমাজ উক্ত দাবি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে নানাবিধ কর্মসূচি গ্রহণ করেছে, যা আমরা পত্র-পত্রিকার মারফতে জানতে পারছি।
২০১৫ সাল থেকে ইনক্রিমেন্টটি কার্যকর না করাটা দৈত্ব নীতির প্রকাশ উল্লেখ করে তিনি বলেন, পিএইচডি ডিগ্রি অর্জনের জন্য ইনক্রিমেন্ট সুবিধা প্রকৃত অর্থে গবেষণাকে উৎসাহ প্রদানের জন্য প্রবর্তিত হয়েছিল। এখন এটি বন্ধ করা এক অর্থে গবেষণাকে নিরুৎসাহিত করা। শিক্ষামন্ত্রলায় ও ইউজিসি একদিকে গবেষণা বৃদ্ধির কথা বলছে, অন্যদিকে গবেষণার জন্য সামান্যতম উৎসাহ প্রদান সুবিধা বন্ধ করে দিচ্ছে। এতে আমরা এক ধরণের দৈত্ব নীতি প্রত্যক্ষ করছি। আমরা মনে করি, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন ও সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তর পিএইচডি ডিগ্রি অর্জনের জন্য পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের ৩টি অগ্রিম বেতনবৃদ্ধির সুবিধা প্রদানের বিষয়টি সমাধানকল্পে দ্রুত কার্যকরী ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।
এসময় রাবি শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. সফিকুন্নবি সামাদিসহ শিক্ষক সমিতির অন্যান্য দায়িত্বশীলগন উপস্থিত ছিলেন।