আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি) টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ শুরু হয়েছে বেশ কয়েক দিন হলো। বড় দলগুলো খুব নিরাশ করেনি, সকলেই প্রায় নিজেদের ম্যাচ জিতেছে। এরই মধ্যে পিচ নিয়ে বারবার উঠেছে প্রশ্ন, কারণ পিচ অদ্ভূত বাউন্স এবং খারাপ আউটফিল্ডের কারণে ব্যাটাররা বড় শট খেললেও বাউন্ডারি পর্যন্ত অনেক ক্ষেত্রেই তা পৌঁছাচ্ছে না।
মাঠ কিছুটা বড় হওয়ায় এবং আউটফিল্ড স্লো হওয়ায় ব্যাটাররা সমস্যায় পড়েছে। দক্ষিণ আফ্রিকা বনাম শ্রীলঙ্কা ম্যাচ হোক বা ভারত বনাম আয়ারল্যান্ড, উইকেটের জন্যই অনেকক্ষেত্রে সমস্যায় পড়েছে ব্যাটাররা। কখনো বল সুইং হচ্ছে, তো আবার কখনো একদমই হচ্ছে না। অবশ্য এক্ষেত্রে ব্যাটারদের টেকনিকও পরীক্ষার মুখে পড়ছে বটে। এরই মধ্যে আরো একটি অন্য কারণে মাঠে আসা দর্শকদের রোষের মুখে আইসিসি।
জানা গেছে, নিউইয়র্কে ভারত বনাম আয়ারল্যান্ডের ম্যাচে এক হাজার ডলারের বিনিময় নর্থ ভিআইপি ব্লকের টিকিট কিনেছিলেন এক ব্যক্তি। অথচ এত দামি টিকিট কেটেও তাদের দেয়া হয়েছে মুখে তোলার অযোগ্য খাবার, পরিকাঠামোগত দিক থেকে এত খারাপ পরিস্থিতি দেখে আইসিসিকেই কাঠগড়ায় তুলেছেন সমর্থকরা। যদিও ভুলে গেলে চলবে না, এই একই মাঠে এরপরের ভারত বনাম পাকিস্তান ম্যাচে এই একই টিকিট বিক্রি হয়েছে চার হাজার ডলারে। সেখানেও যদি এমন নিম্নমানের খাবার দেয়া হয়, তাহলে তো প্রশ্ন ওঠাই স্বাভাবিক।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ওয়েস্ট ইন্ডিজে এবারে বসেছে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের আসর। আগেই ভারতীয় দলের কোচ রাহুল দ্রাবিড় অভিযোগ করেছিলেন, পর্যাপ্ত পরিকাঠামো নেই, সেই কারণে তাদের পাবলিক পার্কে অনুশীলন করতে হচ্ছে, যা আইসিসির ইভেন্টে মোটেই কাম্য নয়।
অন্যান্য দেশগুলোতে মূল মাঠেই, সাইড পিচে অনুশীলন করে থাকে দলগুলো। কিন্তু মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে মূল মাঠ থেকে প্রায় পাঁচ কিলোমিটার দূরে, এক পার্কে অনুশীলন সাড়তে হচ্ছে বিরাটদের। এরই মধ্যে নিম্নমানের খাবার দেয়ার অভিযোগ উঠল, আইসিসির বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগড়ে দিলেন মাঠে এসে দামি টিকিট কেটে খেলা দেখতে বসা সমর্থকরা। লোকাল অর্গানাইজিং কমিটিকে বিষয়টিতে নজর দিতে বলছেন সমর্থকরা।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে এবার টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ আয়োজনের জন্য প্রতি পদে পদেই প্রশ্নের মুখে পড়ছে আইসিসি। যদি পরিকাঠামোর দিক থেকে এতটাই পিছিয়ে থাকত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, তাহলে তো এক বছর বা দু’বছর পরেও কোনো আইসিসি প্রতিযোগিতা আয়োজনের দায়িত্ব দেওয়া যেত, এত বড় ইভেন্ট দিয়ে অযথা বড় দলগুলোকে সমস্যায় ফেলার আদৌ কোনো দরকার ছিল কিনা, প্রশ্ন তুলেছে নেটিজেনরা।
সূত্র : হিন্দুস্তান টাইমস