সোমবার (১২ জুন) রাতে সাপের কামড়ে স্বর্ণালী খাতুন ১৫ নামের এক কিশোরীর মৃত্যু হয়েছে। স্বর্ণালী খাতুন (১৫) মাগুরা সদর উপজেলা কুচিয়ামোড়া ইউনিয়নের বড়শলই গ্রামের মঞ্জুর বিশ্বাসের মেয়ে। সে বছর বড়শলই মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিল।
স্বর্ণালির বাবা মঞ্জুর বিশ্বাস বলেন, মেয়েটা পড়াশোনায় অনেক ভালো ছিল। এ বছর এসএসসি পরীক্ষা দিয়েছিল ভালো একটা রেজাল্ট করবে আশা করেছিলাম। কিন্তু পরীক্ষার রেজাল্ট জেনে যেতে পারল না সে। বড় ছেলেটার জন্মের ১০ বছর পর মেয়েটাকে আল্লাহ দিয়েছিল আমাদের। অনেক ভালবাসতাম, এত বড় হয়েছে তবুও রাতে আমার কাছেই ঘুমোতো। হঠাৎ রাতে টয়লেট থেকে ফিরে এসে বলল খুব গা জ্বলছে, জ্বালা যন্ত্রণা করতেছে। তারপর মেয়েটা আমাদের ছেড়ে চলে গেল।
নিহত স্বর্ণালী খাতুনের বাবা মঞ্জুর বিশ্বাস জানান, সোমবার রাত সাড়ে ১১ টার দিকে ঘুমাতে যাওয়ার আগে বাড়ির পাশে কাচা টয়লেটে যাই স্বর্ণালী। টয়লেট থেকে ফিরে এসে গায়ে জ্বালা যন্ত্রণা করছে বলে তাদেরকে জানায়। এ সময় তারা স্থানীয় বড়শলই বাজারে পল্লী চিকিৎসকের কাছে তাকে নিয়ে যায়। চিকিৎসক তাকে সাপে কাটতে পারে বলে জানিয়ে সদর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেয়। রাতে তাকে সদর হাসপাতালে নিয়ে আসলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাত বারোটার দিকে তার মৃত্যু হয়।
কুচিয়ামোড়া ইউনিয়ন পরিষদের ২ নং ওয়ার্ডের সদস্য মোঃ তারিকুল ইসলাম বলেন, মেয়েটাকে হয়তোবা কোন বিষধর বাচ্চা সাপে কামড়িয়েছে। যে কারণে সে কামড়ানোর বিষয়টি প্রাথমিকভাবে বুঝতে পারে নাই।
মাগুরা সদর হাসপাতালে কর্মরত পুলিশ কনস্টেবল সোহেল রানা জানান, রাতে সদর হাসপাতালে নিয়ে আসার পর চিকিৎসারত অবস্থায় কিছুক্ষনের মধ্যেই তার মৃত্যু হয়েছে। সাপের কামড়ে নাকি অন্য কোন কারণে তার মৃত্যু হয়েছে সেটি তদন্ত করা হচ্ছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।