সারাদেশে সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত কালবৈশাখী ঝড়ে ৯ জেলায় গাছ চাপা পড়ে ও বজ্রপাতে ১৪ জনের মৃত্যু হয়েছে।
রোববার (৭ এপ্রিল) সকাল থেকে দেশের বিভিন্ন জেলায় এসব মৃত্যু ঘটেছে।
খুলনা : জেলার ডুমুরিয়া উপজেলায় সকাল সাড়ে ৮টার দিকে বজ্রপাতে মো. ওবায়দুল্লাহ গাজী (২৯) নামের একজন নিহত হয়েছেন। বাগেরহাট : ঝড়ের তাণ্ডবে গাছ পড়ে ও বজ্রপাতে একজন নিহত এবং ১০ জন আহত হয়েছেন।
পিরোজপুর : সকালে পিরোজপুরে ১৫ মিনিটের কালবৈশাখী ঝড়ে লন্ডভন্ড হয়ে গেছে পৌরসভার পালপাড়া ও সদর উপজেলার শারিকতলা ডুমরিতলাসহ বেশ কয়েকটি গ্রাম। এতে নলবুনিয়া গ্রামের খালে পড়ে মৃত কানাই লাল পালের ছেলে অনিল পাল (৮২) ও শারিকতলা ইউনিয়নের মরিচাল গ্রামে ঘরের ওপর গাছ চাপা পড়ে রুবী বেগম (২২) নামে এক নারী নিহত হন। এসময় তার শিশু কন্যা গুরুতর আহত হলে তাকে খুলনায় চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয়েছে।
যশোর : জেলার ঝিকরগাছা উপজেলায় সকালে ধান ক্ষেতে কাজ করতে গিয়ে বজ্রপাতে আব্দুল মালেক পাটোয়ারী (৬০) নামে এক কৃষক নিহত হয়েছেন।
ভোলা : কালবৈশাখী ঝড়ে তছনছ হয়ে গেছে ভোলার লালমোহন উপজেলার বিভিন্ন এলাকার বহু ঘর-বাড়ি। রোববার বেলা ১১টা থেকে ১২ টা পর্যন্ত ঝড়ে লালমোহন উপজেলার বদরপুর ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডে ঘর চাপা পড়ে হারিছ আহমেদ (৭০) ও বজ্রপাতে উপজেলার চরভূতা ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের চরলেঙুটিয়া গ্রামে মো. বাচ্চু নামে (৩৫) এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া ঝড়ে দুই শতাধিক ঘর-বাড়ির ক্ষতি হয়েছে। লালমোহন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. তৌহিদুল ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
নেত্রকোণা : জেলার খালিয়াজুরী উপজেলার হাওরে বেলা পৌনে ১২টার দিকে বজ্রপাতে শহীদ মিয়া (৫২) নামে এক কৃষক নিহত হয়েছেন।
পটুয়াখালী : পটুয়াখালীর বাউফলে কালবৈশাখী ঝড়ের সময় বজ্রপাতে রাতুল (১৪) নামের এক কিশোর ও গাছ চাপায় সুফিয়া বেগম (৮৫) নামের এক বৃদ্ধা ও ইব্রাহিম ফরাজী (৪৩) নামে এক জেলে নিহত হয়েছেন। রাতুলের বাড়ি উপজেলার নাজিরপুর ইউনিয়নের রায় তাঁতের কাঠি গ্রামে। আর সুফিয়া বেগমের বাড়ি উপজেলার দাশপাড়া ইউনিয়নের চরআলগী গ্রামে। ইব্রাহিম ফরাজী (৪৩) চন্দ্রদ্বীপ ইউনিয়নের মান্নান ফরাজীর ছেলে।
রাঙামাটি : জেলার রাজস্থলী উপজেলায় বজ্রপাতে সাজেউ খিয়াং (৪৮) নামে একজন নিহত গেছেন।
ঝালকাঠি : জেলার দুই উপজেলায় ঝড়ের সময় মাঠে গরু আনতে গিয়ে বজ্রপাতে দুই নারী ও এক কিশোরীর মৃত্যু হয়েছে। মৃতরা হলেন, কাঁঠালিয়া উপজেলার আওরাবুনিয়া ইউনিয়নের মুন্সিরাবাদ গাজীবাড়ি এলাকার মৃত আলম গাজীর স্ত্রী গৃহিনী হেলেনা বেগম, সদর উপজেলার শেখেরহাট এলাকার ফারুক হোসেনের স্ত্রী গৃহিনী মিনারা বেগম ও পোনাবালিয়া এলাকার মো. বাচ্চুর মেয়ে ৬ষ্ঠ শ্রেণির ছাত্রী মাহিয়া আক্তার ঈশান।