লা লিগায় যেন অপ্রতিরোধ্য হয়ে উঠেছে রিয়াল মাদ্রিদ। কিলিয়ান এমবাপ্পের দুর্দান্ত ধারাবাহিকতার দিনে এবার ভ্যালেন্সিয়াকে তাদেরই মাঠে ৩-০ গোলে হারিয়েছে লস ব্লাঙ্কোসরা। এই জয়ে টানা চতুর্থ জয় তুলে নিয়ে পয়েন্ট তালিকার শীর্ষে থাকা বার্সেলোনার সমান পয়েন্ট অর্জন করেছে রিয়াল। তবে গোল ব্যবধানে পিছিয়ে থাকায় আপাতত দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে তারা।
শনিবার রাতে ভ্যালেন্সিয়ার মেস্তায়া স্টেডিয়ামে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে রিয়াল। ম্যাচের ২৮ মিনিটে অধিনায়ক ফেদেরিকো ভালভার্দের গোলে এগিয়ে যায় সফরকারীরা। এমবাপ্পের নেওয়া ফ্রি-কিক প্রতিপক্ষের দেয়ালে লেগে ফিরে এলে প্রায় ২০ গজ দূর থেকে দুর্দান্ত নিচু শটে বল জালে পাঠান উরুগুইয়ান এই মিডফিল্ডার।
এর আট মিনিট পর ব্যবধান দ্বিগুণ করেন তুরস্কের তরুণ তারকা আরদা গুলার। জুড বেলিংহামের বাড়ানো বল প্রতিপক্ষের এক খেলোয়াড়ের গায়ে লেগে গুলারের সামনে চলে আসে। সুযোগ পেয়ে ছয় গজ দূর থেকে ভলিতে লক্ষ্যভেদ করেন তিনি। দ্বিতীয়ার্ধেও ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখে রিয়াল। ৭৫ মিনিটে গুলারের পাস থেকে গোলরক্ষককে কাটিয়ে বল জালে পাঠান এমবাপ্পে। এই গোলের মধ্য দিয়ে চলতি লা লিগায় নিজের গোলসংখ্যা ১৩-তে নিয়ে যান ফরাসি তারকা। প্রতিযোগিতায় তার চেয়ে বেশি গোল রয়েছে কেবল বার্সেলোনার ব্রাজিলিয়ান তারকা রাফিনিয়ার, যিনি ১৫ গোল নিয়ে শীর্ষে রয়েছেন।
এমবাপ্পের জন্য ম্যাচটি ছিল আরও একটি মাইলফলক। টানা সপ্তম ম্যাচে গোল করে নিজের দুর্দান্ত ধারাবাহিকতা ধরে রেখেছেন তিনি। অন্যদিকে গুলার চলতি মৌসুমে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে চারটি গোলের পাশাপাশি সাতটি গোলে সহায়তা করেছেন। ম্যাচের ৭৯ মিনিটে আরও বিপদে পড়ে ভ্যালেন্সিয়া। এমবাপ্পেকে ফাউল করায় সরাসরি লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন ডিফেন্ডার হোসে গায়া। ফলে বাকি সময় ১০ জন নিয়ে খেলতে হয় স্বাগতিকদের।
এই জয়ের পর ১২ ম্যাচে রিয়াল মাদ্রিদের সংগ্রহ ৩০ পয়েন্ট। সমান পয়েন্ট নিয়ে গোল ব্যবধানে এগিয়ে শীর্ষে রয়েছে বার্সেলোনা। তবে আতলেতিকো মাদ্রিদের বিপক্ষে বার্সেলোনা জয় পেলে রিয়ালের সঙ্গে ব্যবধান আবার তিন পয়েন্টে দাঁড়াবে। অন্যদিকে ভ্যালেন্সিয়ার অবস্থাও বেশ নাজুক। ১২ ম্যাচে সপ্তম হারের পর ১১ পয়েন্ট নিয়ে অবনমন অঞ্চলের কাছাকাছি, ১৯তম স্থানে রয়েছে দলটি। ফলে একদিকে শিরোপার লড়াই জমিয়ে তুলছে রিয়াল, অন্যদিকে টিকে থাকার লড়াইয়ে আরও চাপে পড়ছে ভ্যালেন্সিয়া।