যুক্তরাষ্ট্রের ২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন এখনো দুই বছর দূরে। কিন্তু সাম্প্রতিক মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটদের বড় জয় ঘিরে এরই

যুক্তরাষ্ট্রে ২০২৮ সালে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের দৌড়ে কোন দল থেকে কারা থাকতে পারেন

নিউজটি প্রতিবেদন করেছেন: নিউজ ডেস্ক।

আপলোড সময় : ৮ নভেম্বর ২০২৬, সকাল ৯:৫২ সময় , আপডেট সময় : ৮ নভেম্বর ২০২৬, সকাল ৯:৫২ সময়

যুক্তরাষ্ট্রের ২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন এখনো দুই বছর দূরে। কিন্তু সাম্প্রতিক মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটদের বড় জয় ঘিরে এরই মধ্যে শুরু হয়েছে সম্ভাব্য প্রেসিডেন্ট প্রার্থীদের নিয়ে আলোচনা। বিশেষ করে রিপাবলিকানদের শক্ত ঘাঁটিতে ডেমোক্র্যাটদের সাফল্য দুই দলের রাজনৈতিক হিসাব-নিকাশে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। প্রশ্ন উঠেছে, ২০২৮ সালে হোয়াইট হাউসের দৌড়ে কারা হতে পারেন দুই দলের সম্ভাব্য মুখ?


যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে জিততে একজন প্রার্থীকে অন্তত ২৭০টি ইলেকটোরাল কলেজ ভোট পেতে হয়। মধ্যবর্তী নির্বাচনের ফলাফল ডেমোক্র্যাটদের সামনে সেই লক্ষ্য অর্জনের নতুন সম্ভাবনা তৈরি করেছে। অন্যদিকে, ভোটারদের অসন্তোষের মুখে পড়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ফলে রিপাবলিকানদের সামনে এখন বড় চ্যালেঞ্জ নিজেদের সমর্থকদের ঐক্য ধরে রাখা এবং নির্বাচনী কৌশলে প্রয়োজনীয় পরিবর্তন আনা।


ডেমোক্র্যাট শিবিরে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে সবার আগে আলোচনায় রয়েছেন পেনসিলভানিয়ার গভর্নর জশ শ্যাপিরো। মধ্যবর্তী নির্বাচনে বড় ব্যবধানে পুনর্নির্বাচিত হওয়ার পাশাপাশি তার অঙ্গরাজ্যে প্রতিনিধি পরিষদের কয়েকটি আসনও পুনরুদ্ধার করেছে ডেমোক্র্যাটরা। গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গরাজ্য পেনসিলভানিয়ায় তার এই সাফল্য ২০২৮ সালের মনোনয়ন দৌড়ে বাড়তি সুবিধা দিতে পারে।


এ ছাড়া জর্জিয়ার সিনেটর রাফায়েল ওয়ার্নক, ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম, সাবেক পরিবহনমন্ত্রী পিট বুটিগেগ এবং ইলিনয়ের গভর্নর জেবি প্রিৎসকারের নামও আলোচনায় রয়েছে। কেন্টাকির গভর্নর অ্যান্ডি বেশিয়ার মধ্যপন্থী রাজনীতির কারণে দলের ভেতরে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারেন।


সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট কমলা হ্যারিস আবারও মনোনয়ন চাইবেন কি না, তা নিয়েও কৌতূহল রয়েছে। তবে ২০২৪ সালের নির্বাচনে পরাজয়ের পর দলের ভেতরে নতুন করে সমর্থন তৈরি করা তার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হতে পারে। অন্যদিকে, তরুণ ও প্রগতিশীল ভোটারদের মধ্যে জনপ্রিয় আলেক্সান্দ্রিয়া ওকাসিও-কর্টেজের নামও সম্ভাব্য নেতৃত্বের আলোচনায় রয়েছে। জর্জিয়ার সিনেটর জন অসফ এবং শিকাগোর সাবেক মেয়র রাম ইমানুয়েলও আলোচনার বাইরে নন।


রিপাবলিকান শিবিরে সবচেয়ে এগিয়ে থাকা সম্ভাব্য নাম ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। ট্রাম্পের রাজনৈতিক উত্তরসূরি হিসেবে পরিচিত ভ্যান্স মধ্যবর্তী নির্বাচনে দলের পরাজয়ের পর ইরান যুদ্ধের বিষয়টি সামনে এনেছেন। তবে দলের অভ্যন্তরীণ বিভক্তি সামাল দেওয়া তার জন্য বড় পরীক্ষা হবে।


এ ছাড়া ফ্লোরিডার গভর্নর রন ডিস্যান্টিস, পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এবং টেক্সাসের সিনেটর টেড ক্রুজের নামও সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে আলোচিত হচ্ছে। প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ ও আরকানসাসের গভর্নর সারা হাকাবি স্যান্ডার্সও রয়েছেন আলোচনায়। এমনকি রক্ষণশীল ভাষ্যকার টাকার কার্লসন স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নিলে রিপাবলিকান ভোটে বিভক্তি তৈরি হতে পারে।


সব মিলিয়ে, ২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের লড়াই এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়নি। তবে মধ্যবর্তী নির্বাচনের ফলাফল দুই দলের সম্ভাব্য প্রার্থীদের সামনে নতুন সুযোগ ও চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। ডেমোক্র্যাটদের জন্য বড় প্রশ্ন হবে মধ্যপন্থী ও প্রগতিশীল নেতৃত্বের মধ্যে সমন্বয় করা। আর রিপাবলিকানদের সামনে সবচেয়ে বড় পরীক্ষা হবে ট্রাম্পের রাজনৈতিক উত্তরাধিকার, মাগা সমর্থকদের ঐক্য এবং ইরান যুদ্ধের প্রভাব সামাল দেওয়া। শেষ পর্যন্ত কার ভাগ্যে জুটবে দলের মনোনয়ন, তা নির্ধারণ করবে আগামী দুই বছরের রাজনৈতিক পরিস্থিতি।

সম্পাদকীয় :

সম্পাদকঃ মো: ফারুক হোসেইন,

এক্সিকিউটিভ এডিটরঃ ড. আব্দুর রহিম খান,

প্রকাশকঃ মো: মতিউর রহমান।


অফিস :

অফিস : রুপায়ন জেড. আর প্লাজা (৯তলা), প্লট- ৪৬,রোড নং- ৯/এ, সাতমসজিদ রোড, ধানমন্ডি, ঢাকা- ১২০৯।

ইমেইল : info@banglann.com.bd, banglanewsnetwork@gmail.com

মোবাইল : +৮৮ ০২ ২২২২৪৬৯১৮, ০২২২২২৪৬৪৪৯