রাজধানীর ব্যস্ত এলাকায় হঠাৎ করেই সাত থেকে আটটি মোটরসাইকেলে এসে একটি পণ্যবাহী গাড়ির পথ আটকে দেয় দুর্বৃত্তরা। এরপর গাড়িতে শুরু হয় এলোপাতাড়ি ভাঙচুর। শুধু তাই নয়, চালককে গাড়ি থেকে টেনেহিঁচড়ে নামিয়ে লোহার রড দিয়ে পিটিয়ে রক্তাক্ত করে ফেলে যায় হামলাকারীরা। রাজধানীর জিগাতলায় ঘটে যাওয়া এই ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন এক চালক।
শনিবার ৭ নভেম্বর রাত সাড়ে ৯টার দিকে জিগাতলা থেকে হাজারীবাগে অবস্থিত এজেআর পার্সেল অ্যান্ড কুরিয়ার সার্ভিসের গুদামে যাওয়ার পথে এ হামলার ঘটনা ঘটে। আহত চালকের নাম মিজানুর রহমান। হামলার পর তাঁকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে তিনি সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তা জয়ন্ত চৌধুরী জানান, রাতে পণ্যবাহী গাড়িটি হাজারীবাগের প্রধান গুদামের দিকে যাচ্ছিল। এ সময় সাত থেকে আটটি মোটরসাইকেলে করে একদল দুর্বৃত্ত এসে গাড়িটির গতিরোধ করে। এরপর তারা লোহার রড দিয়ে গাড়িতে এলোপাতাড়ি আঘাত করতে থাকে।
হামলায় গাড়ির সামনের ও পাশের কাচ এবং পেছনে দেখার আয়না ভেঙে যায়। একপর্যায়ে দুর্বৃত্তরা চালক মিজানুর রহমানকে জোর করে গাড়ি থেকে নামিয়ে কিল-ঘুষি ও লোহার রড দিয়ে মারধর করে। এতে তিনি গুরুতর আহত হন। পরে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ নম্বরে খবর দেওয়া হলে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহত চালককে উদ্ধারের ব্যবস্থা করে।
ঘটনাস্থলে যাওয়া ধানমন্ডি থানার উপপরিদর্শক শাহজালাল মিয়া জানান, গাড়িটির গতি কম থাকার সুযোগ নিয়ে আকস্মিকভাবে হামলা চালানো হয়। তবে হামলাকারীরা কোনো টাকা-পয়সা কিংবা মুঠোফোন ছিনিয়ে নেয়নি। তাদের হামলার মূল লক্ষ্য ছিল গাড়িটির ক্ষতিসাধন এবং চালককে মারধর করা। পুলিশ কর্মকর্তা আরও জানান, কারা এবং কী উদ্দেশ্যে এ হামলা চালিয়েছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। আহত চালক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকায় এখনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে প্রকাশ্য সড়কে এভাবে একটি পণ্যবাহী গাড়িতে হামলা এবং চালককে মারধরের ঘটনায় জড়িতদের পরিচয় ও হামলার উদ্দেশ্য নিয়ে এখনো রহস্য রয়ে গেছে।