হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে নতুন করে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। ইরানের দক্ষিণাঞ্চলের কেশম দ্বীপসহ কয়েকটি এলাকায় আবারও বিস্ফোরণের বিকট শব্দ শোনা গেছে। শনিবার সন্ধ্যায় এসব বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটলেও এর প্রকৃত কারণ এখনো নিশ্চিত করতে পারেনি ইরানি কর্তৃপক্ষ। ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে ব্রিটিশ বার্তাসংস্থা রয়টার্স। রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হরমুজ প্রণালিতে ইরানের সামরিক তৎপরতার সঙ্গে এসব বিস্ফোরণের যোগসূত্র থাকতে পারে। তবে সেখানে কোনো ক্ষেপণাস্ত্র হামলা হয়েছে কি না, সে বিষয়ে এখনো নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
এদিকে ইরানের আধা-সরকারি বার্তাসংস্থা তাসনিম একটি সূত্রের বরাতে জানিয়েছে, কেশম দ্বীপে শোনা বিস্ফোরণের শব্দের সঙ্গে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার কোনো সম্পর্ক নেই। ফলে বিস্ফোরণের প্রকৃত কারণ নিয়ে এখনো ধোঁয়াশা রয়েছে। এরই মধ্যে রোববার ভোরে ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর নৌবাহিনী দাবি করেছে, হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলের সময় মাইনে আঘাত লেগে দুটি তেলবাহী জাহাজে আগুন ধরে যায়। বাহিনীটির দাবি, জাহাজ দুটি অনুমোদনহীন পথে চলাচলের চেষ্টা করছিল।
তবে কেশম দ্বীপসহ দক্ষিণ ইরানের বিভিন্ন এলাকায় শোনা বিস্ফোরণের সঙ্গে তেলবাহী জাহাজে আগুন লাগার ঘটনার কোনো সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে কি না, তা এখনো পরিষ্কার নয়। এর আগে কয়েক দিন আগেই কেশম দ্বীপে যুক্তরাষ্ট্র হামলা চালিয়েছিল। মার্কিন এক কর্মকর্তার দাবি, ওই হামলা ছিল সীমিত পরিসরের। এর মাধ্যমে বড় ধরনের সামরিক অভিযান নতুন করে শুরু করা হয়নি বলেও জানান তিনি।
সব মিলিয়ে হরমুজ প্রণালি ও এর আশপাশের এলাকায় একের পর এক বিস্ফোরণ, সামরিক তৎপরতা এবং তেলবাহী জাহাজে আগুন লাগার ঘটনায় নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে পরিস্থিতি কোন দিকে যায়, এখন সেদিকেই নজর রাখছেন সংশ্লিষ্টরা।