যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে বড় ধরনের রাজনৈতিক বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দল রিপাবলিকান পার্টি। নির্বাচনের ফলাফলে কংগ্রেসের

ডেমোক্র্যাটদের কবজায় কংগ্রেস

নিউজটি প্রতিবেদন করেছেন: নিউজ ডেস্ক।

আপলোড সময় : ৫ নভেম্বর ২০২৬, সকাল ৯:৩৬ সময় , আপডেট সময় : ৫ নভেম্বর ২০২৬, সকাল ৯:৩৬ সময়

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে বড় ধরনের রাজনৈতিক বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দল রিপাবলিকান পার্টি। নির্বাচনের ফলাফলে কংগ্রেসের উচ্চকক্ষ সিনেট ও নিম্নকক্ষ প্রতিনিধি পরিষদ—দুটির নিয়ন্ত্রণই পেয়েছে বিরোধী ডেমোক্র্যাটরা। ফলে আগামী দুই বছর আইন প্রণয়ন থেকে শুরু করে প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন পর্যন্ত নানা ক্ষেত্রে বাধার মুখে পড়তে পারেন ট্রাম্প। কিন্তু হঠাৎ করে কেন এমন বিপর্যয় ঘটল রিপাবলিকানদের? এর পেছনে উঠে এসেছে পাঁচটি বড় কারণ।


নির্বাচনের আগে জনসভায় নিজের দলের এমন দুরবস্থার কারণ জানতে চেয়েছিলেন ট্রাম্প। যদিও এর উত্তর তাঁর অজানা ছিল না। ইরান যুদ্ধ, জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়ে যাওয়াই শেষ পর্যন্ত ভোটের মাঠে রিপাবলিকানদের জন্য বড় বিপদ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সিনেটে নির্বাচনের আগে ৫৩টি আসন ছিল রিপাবলিকানদের দখলে। অন্যদিকে ডেমোক্র্যাটদের আসন ছিল ৪৭টি। এবারের নির্বাচনে ৩৫টি আসনে ভোটগ্রহণ হয়। ফলাফলে ডেমোক্র্যাটরা প্রয়োজনের চেয়েও বেশি আসন অর্জন করে সিনেটের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নিয়েছে।


একই চিত্র দেখা গেছে প্রতিনিধি পরিষদেও। ৪৩৫ আসনের এই কক্ষে নির্বাচনের আগে রিপাবলিকানদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকলেও এবার বড় ব্যবধানে এগিয়ে গেছে ডেমোক্র্যাটরা। ফলে কংগ্রেসের দুই কক্ষেই বিরোধীদের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। সবচেয়ে বড় চমক এসেছে রিপাবলিকানদের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত কয়েকটি অঙ্গরাজ্যে। টেক্সাস, ওহাইও, কানসাস ও আইওয়ার মতো এলাকায় ডেমোক্র্যাট প্রার্থীদের জয় দলটির রাজনৈতিক অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করেছে। মিশিগানে রিপাবলিকান প্রার্থী মাইক রজার্সকে হারিয়ে প্রথম মুসলিম সিনেটর নির্বাচিত হয়েছেন আবদুল আল-সাইয়েদ।


এবার আসা যাক রিপাবলিকানদের পরাজয়ের পাঁচটি প্রধান কারণের দিকে।


প্রথম কারণ ইরান যুদ্ধ। নির্বাচনে রিপাবলিকানদের পরাজয়ের পেছনে এই যুদ্ধকে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কারণগুলোর একটি হিসেবে দেখা হচ্ছে। যুদ্ধের কারণে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। বেড়েছে পেট্রল ও পরিবহণের খরচ। এর প্রভাব পড়েছে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য, বিদ্যুৎ, বাড়িভাড়া এবং চিকিৎসাসেবার ব্যয়েও। ফলে সাধারণ মানুষের মধ্যে ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে অসন্তোষ বাড়তে থাকে।


দ্বিতীয় কারণ ট্রাম্পের শুল্কনীতি। বিদেশ থেকে আমদানি করা পণ্যের ওপর অতিরিক্ত শুল্ক আরোপ করে মার্কিন অর্থনীতিকে শক্তিশালী করার পরিকল্পনা করেছিলেন ট্রাম্প। কিন্তু বাস্তবে আমদানিনির্ভর পণ্যের দাম এবং শিল্পকারখানার কাঁচামালের ব্যয় বেড়ে যায়। শেষ পর্যন্ত এর চাপ গিয়ে পড়ে সাধারণ মার্কিন নাগরিকদের ওপর। তৃতীয় কারণ দুর্নীতি ও ব্যক্তিগত স্বার্থ নিয়ে বিতর্ক। ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে বিভিন্ন ব্যবসায়িক সিদ্ধান্তে ব্যক্তিগত স্বার্থের প্রভাব এবং পরিবারের সদস্যদের ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ড নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। বিশেষ করে ডিজিটাল মুদ্রা ও বিভিন্ন ব্যবসায়িক উদ্যোগ ঘিরে তৈরি হওয়া বিতর্ক ভোটারদের একাংশের মধ্যে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।


চতুর্থ কারণ প্রেসিডেন্টের ক্ষমতা অতিরিক্ত কেন্দ্রীভূত হওয়ার আশঙ্কা। সরকারি কর্মী ছাঁটাই, প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত, শুল্কনীতি এবং স্বাধীন প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে বিরোধের কারণে ট্রাম্পের ক্ষমতা প্রয়োগ নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। ভোটারদের একটি অংশ মনে করেছেন, রিপাবলিকানদের নিয়ন্ত্রণে থাকা কংগ্রেস প্রেসিডেন্টের সিদ্ধান্তের ওপর যথেষ্ট নজরদারি করছে না। পঞ্চম কারণ প্রার্থী নির্বাচনে ভুল কৌশল। দলীয় অভিজ্ঞতা ও জনপ্রিয়তার পরিবর্তে ট্রাম্পের প্রতি আনুগত্যকে বেশি গুরুত্ব দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। বিতর্কিত কয়েকজন প্রার্থীকে মনোনয়ন দেওয়ায় দলের ভেতরেও অসন্তোষ তৈরি হয়েছিল। পাশাপাশি মধ্যবর্তী নির্বাচনকে গুরুত্ব না দিয়ে ট্রাম্পের সমর্থকদের একটি অংশ ভোটকেন্দ্রে না যাওয়ায় রিপাবলিকানরা আরও পিছিয়ে পড়ে।


এই পরাজয়ের প্রভাব শুধু যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং দেশটির পররাষ্ট্রনীতিতেও পড়তে পারে। বিশেষ করে ইরান যুদ্ধ নিয়ে ট্রাম্পের সিদ্ধান্ত এখন নতুন রাজনৈতিক চাপের মুখে পড়বে। জনমত জরিপে প্রায় ৬০ শতাংশ ভোটার ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপকে ভুল সিদ্ধান্ত বলে মনে করেছেন। এ ছাড়া ইউক্রেন যুদ্ধ, রাশিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক এবং চীনের সঙ্গে বাণিজ্যিক ও কূটনৈতিক সমীকরণেও নতুন পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। কংগ্রেসে বিরোধীদের বাধার কারণে ট্রাম্পকে অনেক সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে আরও কঠিন রাজনৈতিক পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হবে।


তবে নির্বাচনে জয় পেলেও ডেমোক্র্যাটদের সামনে রয়েছে বড় দায়িত্ব। সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় কমানো, স্বাস্থ্যসেবার উন্নতি এবং অর্থনৈতিক পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করতে হবে তাদের। শুধু ট্রাম্পবিরোধী অবস্থানের ওপর নির্ভর করে দীর্ঘমেয়াদে জনসমর্থন ধরে রাখা কঠিন হবে। সব মিলিয়ে ইরান যুদ্ধ, মূল্যবৃদ্ধি, শুল্কনীতি এবং প্রশাসনিক বিতর্ক—সবকিছু মিলিয়েই রিপাবলিকানদের জন্য বড় নির্বাচনি বিপর্যয় তৈরি হয়েছে। আর এই পরাজয়ের রাজনৈতিক প্রভাব আগামী দুই বছর তো থাকছেই, এমনকি ২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনেও এর বড় প্রভাব পড়তে পারে।

সম্পাদকীয় :

সম্পাদকঃ মো: ফারুক হোসেইন,

এক্সিকিউটিভ এডিটরঃ ড. আব্দুর রহিম খান,

প্রকাশকঃ মো: মতিউর রহমান।


অফিস :

অফিস : রুপায়ন জেড. আর প্লাজা (৯তলা), প্লট- ৪৬,রোড নং- ৯/এ, সাতমসজিদ রোড, ধানমন্ডি, ঢাকা- ১২০৯।

ইমেইল : info@banglann.com.bd, banglanewsnetwork@gmail.com

মোবাইল : +৮৮ ০২ ২২২২৪৬৯১৮, ০২২২২২৪৬৪৪৯