থাইল্যান্ডের জনপ্রিয় পর্যটন দ্বীপ ফুকেটে ইসরায়েলি পর্যটকদের কর্মকাণ্ড ঘিরে শুরু হয়েছে ব্যাপক বিক্ষোভ। শুধু প্রতিবাদ নয়, ইসরায়েলি নাগরিকদের জন্য পর্যটন ভিসার মেয়াদ এক মাস থেকে কমিয়ে মাত্র ১৪ দিন করার দাবিও উঠেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, বিদেশি পর্যটকদের একটি অংশ স্থানীয় ব্যবসা ও সংস্কৃতির ওপর প্রভাব বিস্তার করছে।
সোমবার প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়, সপ্তাহান্তে ফুকেট দ্বীপে ‘নো ইসরায়েল—সেভ ফুকেট’ লেখা ব্যানার নিয়ে বিক্ষোভ করেন স্থানীয়রা। সেখানে থাই গণমাধ্যম ব্যবসায়ী ও ইয়েলো শার্ট আন্দোলনের নেতা সোধি লিমথংকুল অভিযোগ করেন, ইসরায়েলি নাগরিকরা স্থানীয় ব্যবসার ক্ষতি করছেন। এমনকি নিজেদের দেশের পর্যটকদের সেবা দেওয়ার উদ্দেশ্যে আলাদা ব্যবসা পরিচালনা করছেন বলেও দাবি করেন তিনি।
একই দিনে দ্বীপে আরেকটি বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়। এর নেতা সাইচোল নুচোট থাই সরকারের কাছে নাগরিকত্ব পাওয়া ইসরায়েলিদের নাগরিকত্ব বাতিল এবং দেশটির সব চাবাদ প্রতিষ্ঠান বন্ধের দাবি জানান। বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, কিছু ইসরায়েলি নাগরিক বৈধ অনুমতি ছাড়াই ব্যবসা পরিচালনা করছেন। পাশাপাশি স্থানীয় সংস্কৃতিকে অসম্মান করা এবং বিদেশি মালিকানার বিধিনিষেধ এড়াতে থাই নাগরিকদের নাম ব্যবহার করার অভিযোগও তুলেছেন তাঁরা। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি।
এদিকে থাইল্যান্ডে ইহুদি ধর্মীয় সংগঠন চাবাদের বিভিন্ন কেন্দ্র নিয়েও তদন্ত চলছে। গত জুলাইয়ে এক ইসরায়েলি পর্যটকের সঙ্গে কর্মকর্তাদের বিরোধের পর তদন্তের পরিধি বাড়ানো হয়। সেপ্টেম্বরে দেশজুড়ে অন্তত নয়টি চাবাদ হাউসের লাইসেন্স ও সম্পত্তির মালিকানা যাচাই করা হয়। গত সপ্তাহে থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অনুতিন চার্নভিরাকুল চাবাদ প্রধান রব্বাই ইউসেফ চাইম কান্টোরের থাই নাগরিকত্ব বাতিল করেন। তদন্তে তাঁর বিদেশ ভ্রমণের ক্ষেত্রে নাগরিকত্বসংক্রান্ত তথ্য ব্যবহারে অসঙ্গতির বিষয় উঠে আসে।
উল্লেখ্য, থাইল্যান্ড ইসরায়েলি পর্যটকদের কাছে জনপ্রিয় একটি গন্তব্য। বিশেষ করে সামরিক বাহিনীর চাকরি শেষ করে অনেক ইসরায়েলি সেখানে ভ্রমণে যান। তবে সাম্প্রতিক বিক্ষোভের মূল কারণ হিসেবে স্থানীয় পর্যটন ব্যবসা, সংস্কৃতি ও বিদেশি মালিকানার বিধিনিষেধ নিয়ে অসন্তোষের কথা উঠে এসেছে। এখন দেখার বিষয়, বিক্ষোভকারীদের দাবির পর ইসরায়েলি পর্যটকদের ভিসানীতি ও সংশ্লিষ্ট ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান নিয়ে থাই সরকার কী সিদ্ধান্ত নেয়।
সূত্র: দ্য নিউ আরব।