ইরানে নতুন করে সামরিক হামলার পরিকল্পনা থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে সতর্ক করেছে রাশিয়া। মস্কোর আশঙ্কা, তেহরানের ওপর আবারও হামলা চালানো হলে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে দ্রুত স্বাভাবিক অবস্থা ফিরে আসার প্রত্যাশা জানিয়েছে দেশটি।
গত সোমবার, ২ নভেম্বর, রুশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মারিয়া জাখারোভা এক বিবৃতিতে ওয়াশিংটনের প্রতি এই সতর্কবার্তা দেন। তিনি বলেন, সাম্প্রতিক মাসগুলোর সামরিক সংঘাতের অভিজ্ঞতা থেকে স্পষ্ট হয়েছে, ইরানে মৃত্যু ও ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়ে দেশটির সার্বভৌমত্ব এবং স্বাধীনতা রক্ষার সংকল্প দুর্বল করা সম্ভব নয়। তাই যারা আবারও তেহরানের ওপর সামরিক হামলার হুমকি দিচ্ছেন, তাঁদের এই বাস্তবতা বিবেচনায় নেওয়া উচিত।
রাশিয়ার পক্ষ থেকে সংঘাত সমাধানে সামরিক শক্তি ব্যবহারের পরিবর্তে কূটনৈতিক উদ্যোগ জোরদারের আহ্বান জানানো হয়েছে। মারিয়া জাখারোভা বলেন, সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর মধ্যে আলোচনা বাড়ানো এবং শান্তি প্রতিষ্ঠায় কাজ করা মধ্যস্থতাকারীদের সহযোগিতা করাই এখন সবচেয়ে জরুরি। তিনি আরও জানান, সব পক্ষের কাছে গ্রহণযোগ্য একটি ভারসাম্যপূর্ণ সমাধান খুঁজে বের করতে এবং তা বাস্তবায়নে ভূমিকা রাখতে রাশিয়া প্রস্তুত রয়েছে।
এদিকে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি নিয়েও নিজেদের অবস্থান তুলে ধরেছে মস্কো। রাশিয়ার প্রত্যাশা, এই নৌপথে দ্রুত স্থিতিশীলতা ফিরে আসবে। তবে প্রণালিসংলগ্ন উপকূলীয় দেশগুলোর বৈধ স্বার্থের পাশাপাশি বিশ্ব অর্থনীতির জন্য নৌপথটি নিরাপদে ব্যবহার করতে আগ্রহী দেশগুলোর অধিকারও নিশ্চিত করতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন জাখারোভা।
তিনি জোর দিয়ে বলেন, এই অধিকার ও স্বার্থের বিষয়টি ইরানের ক্ষেত্রেও সমানভাবে প্রযোজ্য। কারণ রাশিয়ার দাবি, ইরান দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্রের অবৈধ নৌ অবরোধের শিকার হয়ে আসছে। সব মিলিয়ে ইরানকে ঘিরে নতুন করে সামরিক উত্তেজনা বাড়ার আশঙ্কার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রকে সংযত হওয়ার আহ্বান জানিয়েছে রাশিয়া। এখন প্রশ্ন, সামরিক সংঘাতের পথ এড়িয়ে কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্যে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে কি না।