সাজেকের পর্যটন সৌন্দর্যের আড়ালে এখন ভয়াবহ মানবিক সংকট। দুই সশস্ত্র গোষ্ঠীর মধ্যে এলাকা নিয়ন্ত্রণের লড়াইয়ে টানা ১৩ দিন

দুই সশস্ত্র গোষ্ঠীর দ্বন্দ্বের নেপথ্যে চাঁদা, দখলবাজি

নিউজটি প্রতিবেদন করেছেন: নিউজ ডেস্ক।

আপলোড সময় : ৩ নভেম্বর ২০২৬, সকাল ৯:৫৭ সময় , আপডেট সময় : ৩ নভেম্বর ২০২৬, সকাল ৯:৫৭ সময়

সাজেকের পর্যটন সৌন্দর্যের আড়ালে এখন ভয়াবহ মানবিক সংকট। দুই সশস্ত্র গোষ্ঠীর মধ্যে এলাকা নিয়ন্ত্রণের লড়াইয়ে টানা ১৩ দিন ধরে অবরোধের কবলে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। খাদ্যসামগ্রী, ওষুধসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সংকটে দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে তাদের জীবন। এক দিনের জন্য অবরোধ শিথিল হলেও সোমবার থেকে আবারও শুরু হয়েছে অবরোধ।


রাঙ্গামাটির বাঘাইছড়ির সাজেক ও আশপাশের এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে জনসংহতি সমিতি বা জেএসএসের মূল অংশ এবং ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট বা ইউপিডিএফের মূল অংশের মধ্যে এই সংঘাত চলছে। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, এলাকা নিয়ন্ত্রণ, চাঁদা আদায় এবং কথিত সামরিক ঘাঁটির দখল নিয়ে দুই পক্ষের বিরোধ দীর্ঘদিনের। গত কয়েক মাসে একাধিকবার তাদের মধ্যে গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে। সর্বশেষ সংঘাতের জেরে ১১ অক্টোবর থেকে অবরোধ শুরু হয়। এতে সাজেকের সঙ্গে বাইরের এলাকার যোগাযোগ ও পণ্য সরবরাহ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।


অবরোধের মধ্যে গতকালও দুই পক্ষের মধ্যে গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে। তবে হতাহতের কোনো খবর পাওয়া যায়নি। নতুন করে গোলাগুলির ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে একপর্যায়ে সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে মোটা অঙ্কের চাঁদা দিয়ে এক দিনের জন্য অবরোধ শিথিল করা হয় বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। ওই সুযোগে সাজেকের ব্যবসায়ী ও দোকানিরা খাগড়াছড়ি ও চট্টগ্রাম থেকে খাদ্যসামগ্রীসহ প্রয়োজনীয় পণ্য কেনার সুযোগ পান। কিন্তু সেই স্বস্তি বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি। সোমবার থেকে আবারও অবরোধ শুরু হয়েছে।


স্থানীয় ব্যবসায়ী ও বিভিন্ন পেশার মানুষের অভিযোগ, পাহাড়ের বিভিন্ন এলাকায় সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর চাঁদাবাজি, অপহরণ ও সহিংসতার কারণে সাধারণ মানুষ দীর্ঘদিন ধরে আতঙ্কে রয়েছেন। ব্যবসায়ী, হোটেল-মোটেল মালিক থেকে শুরু করে ক্ষুদ্র দোকানদারদেরও নির্ধারিত হারে চাঁদা দিতে হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এদিকে, সাজেকের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দুই পক্ষের সংঘাতের প্রভাব শুধু পর্যটন এলাকাতেই সীমাবদ্ধ নয়। খাগড়াছড়ি, রাঙ্গামাটি ও বান্দরবানসহ পুরো পার্বত্য অঞ্চলের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।


গত ১৬ অক্টোবর খাগড়াছড়ির সংসদ সদস্য ওয়াদুদ ভুঁইয়ার নেতৃত্বে সরকারের উচ্চপর্যায়ের একটি প্রতিনিধিদলের সঙ্গে এ বিষয়ে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সরকার পরিস্থিতিকে গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে বলে জানানো হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীও সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। তবে সবচেয়ে বড় সংকটে রয়েছেন সাধারণ মানুষ। সশস্ত্র গোষ্ঠীর সংঘাত ও অবরোধের কারণে তাদের খাদ্য, চিকিৎসা ও স্বাভাবিক জীবনযাপন ব্যাহত হচ্ছে। সাজেকের বাসিন্দারা এখন সংঘাতের অবসান এবং নিরাপদে স্বাভাবিক জীবনে ফেরার অপেক্ষায় রয়েছেন।

সম্পাদকীয় :

সম্পাদকঃ মো: ফারুক হোসেইন,

এক্সিকিউটিভ এডিটরঃ ড. আব্দুর রহিম খান,

প্রকাশকঃ মো: মতিউর রহমান।


অফিস :

অফিস : রুপায়ন জেড. আর প্লাজা (৯তলা), প্লট- ৪৬,রোড নং- ৯/এ, সাতমসজিদ রোড, ধানমন্ডি, ঢাকা- ১২০৯।

ইমেইল : info@banglann.com.bd, banglanewsnetwork@gmail.com

মোবাইল : +৮৮ ০২ ২২২২৪৬৯১৮, ০২২২২২৪৬৪৪৯