ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণসহ বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা বাড়ানোর দাবিতে কয়েকদিনের শ্রমিক অসন্তোষের পর অবশেষে স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে সাভার-আশুলিয়ার শিল্পাঞ্চল। সরকারের মজুরি বোর্ড গঠনের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে কারখানায় ফিরতে শুরু করেছেন শ্রমিকরা। অধিকাংশ কারখানায় আবারও শুরু হয়েছে উৎপাদন কার্যক্রম। তবে শ্রমিকদের প্রত্যাশা, শুধু আশ্বাস নয়, দ্রুত বাস্তবায়ন করতে হবে তাদের দীর্ঘদিনের দাবি।
সোমবার, ২ নভেম্বর সকালে আশুলিয়ার ঢাকা রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চলে শ্রমিকদের শান্তিপূর্ণভাবে কারখানায় প্রবেশ করতে দেখা যায়। শুধু ডিইপিজেড নয়, সাভার-আশুলিয়া শিল্পাঞ্চলের অন্যান্য কারখানাতেও স্বাভাবিকভাবে কাজে যোগ দেন শ্রমিকরা। ফলে আগের অস্থিরতা কাটিয়ে ধীরে ধীরে কর্মচাঞ্চল্য ফিরতে শুরু করেছে শিল্পকারখানাগুলোতে। শ্রমিক সংগঠনের নেতারা জানিয়েছেন, দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে পোশাকশ্রমিকদের ন্যূনতম মাসিক মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণের দাবিতে আন্দোলন করে আসছেন তারা। অবশেষে সরকারের মজুরি বোর্ড গঠনের সিদ্ধান্তকে ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন শ্রমিক নেতারা।
তাদের প্রত্যাশা, গঠিত মজুরি বোর্ড আগামী দুই মাসের মধ্যে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম সম্পন্ন করবে। একই সঙ্গে শ্রমিকদের জীবনযাত্রার ব্যয় ও বর্তমান বাজার পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে ন্যূনতম মাসিক মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণের ঘোষণা দেওয়া হবে। অন্যদিকে সাধারণ শ্রমিকরাও সরকারের এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন। তবে তাদের মধ্যে রয়েছে কিছু উদ্বেগ। আন্দোলনে অংশ নেওয়ার কারণে কোনো শ্রমিক যেন চাকরির ক্ষেত্রে হয়রানির শিকার না হন, সে বিষয়ে বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন তারা। বিশেষ করে শ্রমিকদের নাম কালো তালিকাভুক্ত না করার দাবি জানিয়েছেন সাধারণ কর্মীরা। পাশাপাশি তাদের অন্যান্য ন্যায্য দাবিও দ্রুত বাস্তবায়নের আহ্বান জানিয়েছেন।
এদিকে শিল্পাঞ্চলে আবারও কোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি তৈরি হওয়া ঠেকাতে সকাল থেকেই সতর্ক অবস্থানে ছিল আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। সাভার-আশুলিয়ার গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন স্থানে অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়। সর্বশেষ পরিস্থিতি অনুযায়ী, সাভার, আশুলিয়া ও ধামরাই শিল্পাঞ্চলে এখন পর্যন্ত নতুন করে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি। অধিকাংশ কারখানায় শ্রমিকরা শান্তিপূর্ণভাবে কাজে যোগ দিয়েছেন এবং উৎপাদন কার্যক্রমও শুরু হয়েছে।
তবে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলেও শ্রমিকদের মূল দাবি এখনো বাস্তবায়নের অপেক্ষায়। মজুরি বোর্ডের মাধ্যমে আগামী দুই মাসের মধ্যে ৩০ হাজার টাকা ন্যূনতম মজুরির বিষয়ে কী সিদ্ধান্ত আসে, এখন সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছেন শিল্পাঞ্চলের শ্রমিকরা।