বিএনপির বিরুদ্ধে সরাসরি প্রতারণার অভিযোগ তুলে কঠোর ভাষায় বক্তব্য দিয়েছেন বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নুরুল ইসলাম সাদ্দাম। তাঁর দাবি, বিএনপি অতীতেও জনগণকে দেওয়া প্রতিশ্রুতি রক্ষা করেনি, আর বর্তমানেও রাষ্ট্র সংস্কারের দাবিগুলো উপেক্ষা করছে। একই সঙ্গে সরকারকে সতর্ক করে তিনি বলেছেন, জনগণের দাবি না মানলে কঠোর গণপ্রতিরোধের মুখে পড়তে হবে।
শনিবার ৩১ অক্টোবর রাত ৯টার দিকে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে ১১ দলীয় ঐক্যের লংমার্চের পথসভায় বক্তব্য দেন নুরুল ইসলাম সাদ্দাম। ঢাকা, খুলনা, ঝিনাইদহ ও কুষ্টিয়াগামী এই লংমার্চের অংশ হিসেবে আয়োজিত পথসভায় তিনি বিএনপির রাজনৈতিক ভূমিকা নিয়ে সমালোচনা করেন। বক্তব্যে বিএনপিকে ‘মুনাফেকের দল’ আখ্যা দিয়ে তিনি অভিযোগ করেন, দলটি প্রতিষ্ঠার পর থেকেই জাতি, রাষ্ট্র ও জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করে আসছে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, ১৯৯০-৯১ সালের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠার দাবি উঠেছিল। বিএনপি সেই দাবির পক্ষে আন্দোলন করলেও ক্ষমতায় যাওয়ার পর পাঁচ বছরেও এ বিষয়ে বিল উত্থাপন করেনি। পরে ১৯৯৬ সালে গণআন্দোলনের চাপে বিল উত্থাপন এবং ১৮ দিনের মাথায় নির্বাচন আয়োজন করা হয় বলে দাবি করেন তিনি।
নুরুল ইসলাম সাদ্দাম বলেন, ১১ দলীয় ঐক্যের লংমার্চে শিক্ষার্থী, সাধারণ মানুষ, ব্যবসায়ী, শ্রমজীবীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নিচ্ছেন। তাঁর দাবি, জুলাই সনদ বাস্তবায়নের পক্ষে গণভোটে ৭০ শতাংশ মানুষের রায়কে উপেক্ষা করা হচ্ছে। এতে দেশের মানুষ ক্ষুব্ধ হয়ে উঠছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। জুলাই আন্দোলনে নিহত মুগ্ধ ও আবু সাঈদের প্রসঙ্গ টেনে শিবির সভাপতি বলেন, তাঁদের আত্মত্যাগ এখনো মানুষ ভুলে যায়নি। তাঁর অভিযোগ, আন্দোলনের মধ্য দিয়ে পরিবর্তনের পর ক্ষমতায় আসা ব্যক্তিরা জনগণের প্রত্যাশা বুঝতে পারছেন না। জনগণ চাইলে আবারও আন্দোলনের মাধ্যমে ক্ষমতাসীনদের বিরুদ্ধে অবস্থান নিতে পারে বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
সরকারের প্রতি সতর্কবার্তা দিয়ে তিনি বলেন, বিরোধী দল ও জনগণ সরকারকে সময় দিচ্ছে। কিন্তু জনগণের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ এবং রাষ্ট্র সংস্কারের দাবিতে অবহেলা অব্যাহত থাকলে পরিস্থিতি আরও কঠিন হতে পারে। সংবিধান সংস্কার করে রাষ্ট্রের কাঠামোয় আমূল পরিবর্তন আনার আহ্বান জানান তিনি। এ ছাড়া নির্বাচন কমিশন ও সরকারি কর্ম কমিশন সংস্কার নিয়েও সরকারের বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলেন নুরুল ইসলাম সাদ্দাম। তাঁর দাবি, এসব সংস্কারে গড়িমসি করা হচ্ছে এবং নির্বাচন ও সরকারি চাকরিতে নিয়োগপ্রক্রিয়া নিজেদের স্বার্থে প্রভাবিত করার চেষ্টা চলছে। সরকারি কর্ম কমিশনের সদস্যদের পদত্যাগে বাধ্য করা এবং দলীয় নেতাকর্মীদের পুনর্বহালের অভিযোগও করেন তিনি।
বক্তব্যের শেষ দিকে শিবির সভাপতি বলেন, জনগণ নীরব থাকলেও অন্যায়-অবিচার মেনে নেয় না। তাঁর অভিযোগ অনুযায়ী, এসব কর্মকাণ্ড বন্ধ না হলে সরকারকে কঠোর গণপ্রতিরোধের মুখোমুখি হতে হবে। তবে বক্তব্যে উত্থাপিত অভিযোগগুলোর বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে কোনো প্রতিক্রিয়া এই প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি।