ইসরায়েলে নির্বাচনের ফল প্রকাশের পরও সরকার গঠনের পথ পরিষ্কার হয়নি। সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠ আসন পেয়েছে নেতানিয়াহুবিরোধী দলগুলো। কিন্তু সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় সমর্থন জোগাড় করতে গিয়ে বড় বাধার মুখে পড়েছে তারা। কারণ, বিরোধী শিবিরের জয় নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা আরব দলগুলোর সঙ্গে জোট গড়তে রাজি নন অনেক ইহুদি নেতৃত্বাধীন দল। এমন পরিস্থিতিতে তেল আবিবের রাজপথে নেমেছেন প্রায় পাঁচশ মানুষ। তাঁদের দাবি, ইহুদি ও আরব দলগুলোকে একসঙ্গে নিয়ে গঠন করতে হবে যৌথ সরকার।
শনিবার, ৩১ অক্টোবর তেল আবিবের হাবিমা স্কয়ারে এই বিক্ষোভের নেতৃত্ব দেয় ‘স্ট্যান্ডিং টুগেদার’ নামের একটি বামপন্থী সংগঠন। বিক্ষোভকারীরা স্লোগান দেন, ‘ইহুদি ও আরবরা শত্রু হতে অস্বীকার করে’ এবং ‘বর্ণবাদকে না, অংশীদারিত্বকে হ্যাঁ’। তাঁদের বক্তব্য, নির্বাচনে পরিবর্তনের পক্ষে যে সংখ্যাগরিষ্ঠতা তৈরি হয়েছে, নতুন সরকারেও তার প্রতিফলন থাকতে হবে। প্রাথমিক প্রতিবেদনে বিক্ষোভে প্রায় পাঁচশ মানুষের উপস্থিতির কথা বলা হলেও পরবর্তী প্রতিবেদনে মিছিলের সংখ্যা প্রায় দুই হাজার বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
নির্বাচনের হিসাব বলছে, ইসরায়েলের ১২০ আসনের সংসদে নেতানিয়াহুবিরোধী দলগুলো সম্মিলিতভাবে পেয়েছে ৬৭টি আসন। এর মধ্যে ইহুদি নেতৃত্বাধীন বিরোধী দলগুলোর আসন ৪৮টি। আরব নেতৃত্বাধীন দলগুলো পেয়েছে ১৯টি আসন। অন্যদিকে নেতানিয়াহুর জোট পেয়েছে ৫৩টি আসন। সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজন ৬১টি আসন।
অর্থাৎ, আরব দলগুলোর সমর্থন ছাড়া নেতানিয়াহুবিরোধী ইহুদি দলগুলোর পক্ষে সরকার গঠন করা কঠিন। কিন্তু বিরোধী শিবিরের বেশ কয়েকটি দল আরব দলগুলোর সঙ্গে জোট করতে অনীহা প্রকাশ করেছে। ফলে নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠ আসন পেলেও সরকার গঠনের প্রশ্নে বিরোধীদের মধ্যে তৈরি হয়েছে বড় ধরনের মতবিরোধ।
এদিকে, নেতানিয়াহুর দল লিকুদ পার্টি অভিযোগ করেছে, বিদেশি শত্রুভাবাপন্ন সরকারের সহায়তায় আরব দলগুলো নির্বাচনকে প্রভাবিত করেছে। দলটি নির্বাচন জালিয়াতির তদন্তের দাবিও তুলেছে। তবে নির্বাচনী কর্তৃপক্ষের বক্তব্য অনুযায়ী, ভোটের ফল পাল্টে দেওয়ার মতো কোনো পরিকল্পিত অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া যায়নি। এই অভিযোগের প্রতিবাদে হাবিমা স্কয়ারেই ডানপন্থীদের পাল্টা বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে নেতানিয়াহুর সমর্থকেরা আরব দলগুলোর সঙ্গে সরকার গঠনের বিরোধিতা করেন। ফলে একই এলাকায় ইহুদি-আরব রাজনৈতিক অংশীদারত্বের দাবির পাশাপাশি তার বিরোধিতায়ও বিক্ষোভ দেখা যায়।
নতুন সংসদের অধিবেশন বসার কথা ১০ নভেম্বর। তার আগে সরকার গঠনের সমীকরণ মেলাতে রাজনৈতিক দলগুলোর সামনে কঠিন আলোচনা অপেক্ষা করছে। আরব দলগুলোর সমর্থন পাওয়া যাবে কি না, কিংবা বিরোধী জোটের কোনো দল অবস্থান পরিবর্তন করবে কি না—তার ওপরই নির্ভর করছে পরবর্তী সরকারের ভাগ্য। সব মিলিয়ে, ইসরায়েলের এবারের নির্বাচন শুধু ক্ষমতার লড়াই নয়; দেশটির রাজনীতিতে আরব নাগরিকদের প্রতিনিধিত্ব ও ইহুদি-আরব রাজনৈতিক সহযোগিতার প্রশ্নকেও সামনে নিয়ে এসেছে। এখন দেখার বিষয়, ৬৭ আসনের সম্মিলিত সংখ্যাগরিষ্ঠতা শেষ পর্যন্ত নেতানিয়াহুকে ক্ষমতা থেকে সরাতে পারে, নাকি বিরোধীদের অভ্যন্তরীণ মতবিরোধেই সরকার গঠনের সুযোগ হাতছাড়া হবে।
সূত্র: টাইমস অব ইসরায়েল।