ইরানের বিরুদ্ধে আবারও সামরিক অভিযান চালানো হলে তার জবাব শুধু ইরানের ভূখণ্ডের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না—এমনই কঠোর হুঁশিয়ারি

সেনা কর্মকর্তাদের সঙ্গে প্রথম আনুষ্ঠানিক বৈঠকে যে নির্দেশ দিলেন মোজতবা খামেনি

নিউজটি প্রতিবেদন করেছেন: নিউজ ডেস্ক।

আপলোড সময় : ১ নভেম্বর ২০২৬, দুপুর ১০:১৬ সময় , আপডেট সময় : ১ নভেম্বর ২০২৬, দুপুর ১০:১৬ সময়

ইরানের বিরুদ্ধে আবারও সামরিক অভিযান চালানো হলে তার জবাব শুধু ইরানের ভূখণ্ডের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না—এমনই কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন দেশটির সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি। শুধু তাই নয়, সম্ভাব্য হামলার লক্ষ্যবস্তুর তালিকা আরও বিস্তৃত করার নির্দেশও দিয়েছেন তিনি। ফলে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের সংঘাত নতুন করে ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।


ইরানের শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তাদের সঙ্গে প্রথম আনুষ্ঠানিক বৈঠকে এমন বার্তা দিয়েছেন মোজতবা খামেনি। বৈঠকে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, যেকোনো ধরনের হুমকির তাৎক্ষণিক ও কার্যকর জবাব দিতে হবে। আর সেই জবাবের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট কোনো ভৌগোলিক সীমারেখা মেনে চলা হবে না। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন ইরানের সামরিক বাহিনীর চিফ অব স্টাফ আলি আবদোল্লাহি, সেনাপ্রধান আমির হাতামি এবং বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর প্রধান আহমাদ ওয়াহিদি। তাঁদের সামনে মোজতবা খামেনি সম্ভাব্য হামলার লক্ষ্যবস্তুর তালিকা নতুন করে পর্যালোচনা ও হালনাগাদ করার নির্দেশ দেন। তালিকায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের দৃশ্যমান এবং অদৃশ্য—সব ধরনের সম্পদ অন্তর্ভুক্ত করার কথা বলেছেন তিনি। অর্থাৎ, ভবিষ্যতে সংঘাত শুরু হলে ইরানের পাল্টা পদক্ষেপ আরও বিস্তৃত হতে পারে—এমন বার্তাই দিচ্ছে তেহরান।


এই হুঁশিয়ারির পেছনে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক বক্তব্য। আগামী ৩ নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্রে মধ্যবর্তী নির্বাচন। এর পর ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার সম্ভাবনার কথা আলোচনায় এসেছে। ট্রাম্প এর আগে ইরানকে সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস করে দেওয়ার কথা ভাবছেন বলেও মন্তব্য করেছিলেন। অন্যদিকে, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুও ইরানের সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করার জন্য একটি ঐতিহাসিক সুযোগের কথা বলেছেন। ফলে তেহরান মনে করছে, নতুন করে সামরিক সংঘাত শুরু হওয়ার ঝুঁকি এখনো কাটেনি।


এদিকে, যুদ্ধ এড়াতে কূটনৈতিক তৎপরতাও চলছে। শুক্রবার কাতারের মধ্যস্থতাকারীরা ইরানের রাজধানী তেহরানে পৌঁছে আলোচনা করেছেন। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভ্যান্স ইরানের নিরাপত্তাপ্রধান মোহসেন রেজায়ির কাছে একটি চিঠি পাঠিয়েছেন বলে খবর প্রকাশিত হয়েছে। তবে চিঠির বিস্তারিত বিষয়বস্তু এখনো স্পষ্ট নয়। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি জানিয়েছেন, আপাতত মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে সরাসরি বৈঠকের কোনো পরিকল্পনা নেই। অর্থাৎ, একদিকে সামরিক প্রস্তুতির বার্তা, অন্যদিকে আলোচনার পথ খোলা রাখার চেষ্টা—দুই অবস্থানেই এগোচ্ছে তেহরান।


এর আগে ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার মধ্য দিয়ে ইরানকে ঘিরে যুদ্ধ শুরু হয়। পাল্টা জবাবে ইরান মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে থাকা মার্কিন সামরিক স্থাপনা ও সম্পদে হামলা চালায়। বর্তমানে সরাসরি পাল্টাপাল্টি হামলা বন্ধ থাকলেও দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা রয়ে গেছে। ইরানের সেনাবাহিনীর মুখপাত্র মোহাম্মদ আকারামিনিয়াও সতর্ক করেছেন, নতুন করে শত্রুতা শুরু হলে যুদ্ধ আর আগের মতো সীমিত থাকবে না। বরং সংঘাত আরও বড় ভৌগোলিক এলাকায় ছড়িয়ে পড়তে পারে।


সব মিলিয়ে, ইরানের সর্বোচ্চ নেতার এই নির্দেশ শুধু সামরিক বাহিনীকে প্রস্তুত থাকার বার্তা নয়; যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের প্রতিও এটি সরাসরি সতর্কসংকেত। এখন দেখার বিষয়, সামরিক হুঁশিয়ারির মধ্যেও কূটনৈতিক আলোচনা কোনো সমঝোতার পথ তৈরি করতে পারে, নাকি মধ্যপ্রাচ্য আবারও বড় ধরনের যুদ্ধের দিকে এগিয়ে যায়।

সম্পাদকীয় :

সম্পাদকঃ মো: ফারুক হোসেইন,

এক্সিকিউটিভ এডিটরঃ ড. আব্দুর রহিম খান,

প্রকাশকঃ মো: মতিউর রহমান।


অফিস :

অফিস : রুপায়ন জেড. আর প্লাজা (৯তলা), প্লট- ৪৬,রোড নং- ৯/এ, সাতমসজিদ রোড, ধানমন্ডি, ঢাকা- ১২০৯।

ইমেইল : info@banglann.com.bd, banglanewsnetwork@gmail.com

মোবাইল : +৮৮ ০২ ২২২২৪৬৯১৮, ০২২২২২৪৬৪৪৯