ইন্টারনেট ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে তথ্য সংগ্রহ করে নিজ বাড়িতেই ইয়াবা তৈরির কারখানা গড়ে তুলেছিলেন এক যুবক। গাজীপুরের টঙ্গীতে গভীর রাতে অভিযান চালিয়ে এমন একটি গোপন কারখানার সন্ধান পেয়েছে পুলিশ। এ সময় মাদক তৈরির বিভিন্ন যন্ত্রপাতি ও রাসায়নিক উপাদান জব্দের পাশাপাশি ৩২ বছর বয়সী এক যুবককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
গ্রেপ্তার ব্যক্তির নাম নাজমুল ইসলাম বাপ্পি। তিনি টঙ্গীর পাগার আলেক টেক এলাকার বাসিন্দা তাইজুল ইসলামের বড় ছেলে। শনিবার সকালে অভিযানের বিষয়টি নিশ্চিত করেন টঙ্গী জোনের সহকারী পুলিশ কমিশনার মো. এরশাদুল রহমান। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গোপন তথ্যের ভিত্তিতে কয়েক দিন ধরে নাজমুলের বাড়ির ওপর নজরদারি চালাচ্ছিলেন গোয়েন্দারা। তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত হওয়ার পর শুক্রবার দিবাগত রাত আনুমানিক একটার দিকে টঙ্গী পূর্ব থানা-পুলিশের একটি দল ওই আবাসিক বাড়িতে অভিযান চালায়।
এ সময় বাড়ির ভেতরের একটি কক্ষে ইয়াবা তৈরির কারখানার সন্ধান পাওয়া যায়। সেখানে মাদক উৎপাদনে ব্যবহৃত বিভিন্ন ধরনের যন্ত্রপাতি এবং বেশ কিছু রাসায়নিক উপাদান মজুত ছিল। পরে সেগুলো জব্দ করে পুলিশ। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে নাজমুল দাবি করেছেন, প্রেমের সম্পর্কে ব্যর্থ হয়ে আর্থিক ও মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছিলেন তিনি। এরপর দ্রুত অর্থ উপার্জনের পথ খুঁজতে গিয়ে ইয়াবা তৈরির পরিকল্পনা করেন। ইন্টারনেট ঘেঁটে এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বিভিন্ন ভিডিও দেখে এ বিষয়ে কৌশল শেখেন। পরে প্রয়োজনীয় উপকরণ সংগ্রহ করে নিজের বাড়িতেই উৎপাদনকেন্দ্র গড়ে তোলেন বলে পুলিশের কাছে জানিয়েছেন তিনি।
এদিকে স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য, বিদেশ থেকে দেশে ফেরার পর থেকেই নাজমুল মাদকাসক্ত হয়ে পড়েছিলেন। পরবর্তী সময়ে নিজেই মাদক উৎপাদনের মতো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়েন। টঙ্গী জোনের সহকারী পুলিশ কমিশনার মো. এরশাদুল রহমান জানান, নাজমুলের বাড়ি থেকে বিপুল পরিমাণ নিষিদ্ধ রাসায়নিক উপাদান ও ইয়াবা তৈরির সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে।