বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর সাবেক ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট কে এম তাহসিফ সাউরির রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনায় তদন্তে নতুন তথ্য সামনে এসেছে। মৃত্যুর আগে প্রায় ছয় ঘণ্টা তাহসিফের সঙ্গে সময় কাটানো তার জুনিয়র বন্ধু দীপকে জিজ্ঞাসাবাদ ও ঘটনাস্থল পরিদর্শনের পর নৌ পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন।
গত বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে রাজধানীর মোহাম্মদপুরের বাবর রোডের বাসা থেকে দীপকে আটক করা হয়। পরদিন শুক্রবার তাকে সঙ্গে নিয়ে টঙ্গীর তুরাগ নদসংলগ্ন মাজার বস্তি এলাকার ২৯ নম্বর সীমানা পিলারের পাশের মাঠে যায় তদন্তকারী দল। সেখানে দীপের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে নম্বরপ্লেটবিহীন কালো রঙের একটি সুজুকি জিক্সার মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়। ধারণা করা হচ্ছে, মোটরসাইকেলটি নিহত তাহসিফের। তদন্তসংশ্লিষ্টদের ভাষ্য অনুযায়ী, দীপের বক্তব্যে বেশ কিছু অসংগতি পাওয়া গেছে। ঘটনার রাতে তারা কেন ওই এলাকায় গিয়েছিলেন, সে বিষয়ে তিনি বিভিন্ন সময়ে ভিন্ন ভিন্ন তথ্য দিয়েছেন।
দীপের দাবি, তুরাগ নদসংলগ্ন এলাকায় দুজনের কথাবার্তার সময় পুলিশি পোশাক পরা কয়েকজন তাদের ধাওয়া করেন। ভয়ে তাহসিফ নদীতে ঝাঁপ দেন। আর দীপ নিজে আড়ালে লুকিয়ে পরে সেখান থেকে পালিয়ে যান। তবে যারা ধাওয়া করেছিলেন, তারা সত্যিই পুলিশ সদস্য ছিলেন কি না, কিংবা সেখানে তাদের উপস্থিতির বৈধ কারণ ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। মামলার তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, গত ২৭ অক্টোবর সন্ধ্যায় উত্তরার বাসা থেকে বের হওয়ার পর রাজউক উত্তরা অ্যাপার্টমেন্ট প্রকল্পের গ্যারেজে দীপের সঙ্গে তাহসিফের দেখা হয়। এরপর মধ্যরাত পর্যন্ত দুজনের মধ্যে একাধিকবার মুঠোফোন ও হোয়াটসঅ্যাপে যোগাযোগ হয়।
পরদিন ২৮ অক্টোবর বিকেলে টঙ্গীর তুরাগ নদের রাজাবাড়ী ঘাট এলাকা থেকে তাহসিফের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তার হাতে থাকা ঘড়ি ও পকেটে পাওয়া আইফোনের মাধ্যমে পরিচয় শনাক্ত করা হয়। ময়নাতদন্তের পাশাপাশি মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে মরদেহের বিভিন্ন নমুনা পরীক্ষাগারে পাঠানো হয়েছে। তবে ছেলের মৃত্যুকে দুর্ঘটনা হিসেবে মানতে নারাজ তাহসিফের বাবা কে এম এনায়েতুল করিম। তার দাবি, তাহসিফ সাঁতার জানতেন এবং প্রশিক্ষিত পাইলট হিসেবে সাঁতারের বিশেষ প্রশিক্ষণও নিয়েছিলেন। তাই ভয়ে নদীতে ঝাঁপ দিয়ে মৃত্যুর যে বর্ণনা দীপ দিয়েছেন, তা তিনি বিশ্বাস করছেন না। বরং ছেলের মৃত্যুকে পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বলে দাবি করে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনের আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
এদিকে নৌ পুলিশের মূল তদন্তের পাশাপাশি ছায়া তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন। দীপের বক্তব্যের অসংগতি, উদ্ধার হওয়া মোটরসাইকেল এবং ঘটনার রাতে কথিত ধাওয়ার বিষয়গুলো এখন তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে। তাহসিফের মৃত্যু দুর্ঘটনা, নাকি এর পেছনে অন্য কোনো ঘটনা রয়েছে—তা নির্ধারণে তদন্তের ফলাফলের অপেক্ষা করছেন স্বজনেরা।