উত্তর কোরিয়ার একসঙ্গে প্রায় এক ডজন স্বল্পপাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ ঘিরে পূর্ব এশিয়ায় নতুন করে সতর্কতা জোরদার হয়েছে। পূর্ব সাগর লক্ষ্য করে চালানো এই উৎক্ষেপণের পর নজরদারি বাড়িয়েছে দক্ষিণ কোরিয়া। একই সঙ্গে সম্ভাব্য নতুন ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ মোকাবিলায় যুক্তরাষ্ট্র ও জাপানের সঙ্গে তথ্য বিনিময় করছে দেশটি।
বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক বাহিনীর বরাতে এ তথ্য জানানো হয়। দক্ষিণ কোরিয়ার জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের তথ্য অনুযায়ী, উত্তর কোরিয়ার উনসান অঞ্চল থেকে ক্ষেপণাস্ত্রগুলো উৎক্ষেপণ করা হয়েছে। তবে ক্ষেপণাস্ত্রগুলো ঠিক কত দূর অতিক্রম করেছে এবং এগুলোর অন্যান্য সামরিক বৈশিষ্ট্য কী, তা এখনো বিশ্লেষণ করছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, পরিস্থিতির ওপর নিবিড় নজর রাখা হচ্ছে এবং নতুন করে কোনো ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হলে তা মোকাবিলায় তারা সতর্ক রয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্র ও জাপানের সঙ্গে ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণসংক্রান্ত তথ্য ভাগাভাগি করছে সিউল। এর লক্ষ্য, সম্ভাব্য নিরাপত্তাঝুঁকি সম্পর্কে দ্রুত তথ্য পাওয়া এবং সমন্বিত প্রতিরক্ষাব্যবস্থা বজায় রাখা। অন্যদিকে, জাপানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, উত্তর কোরিয়া এমন একটি বস্তু নিক্ষেপ করেছে, যা ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হতে পারে। বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করছে টোকিও। জাপানের উপকূলরক্ষী বাহিনী জাহাজগুলোকে পরবর্তী নির্দেশনার দিকে নজর রাখতে এবং সমুদ্রে কোনো বস্তু পড়ে থাকতে দেখা গেলে তার কাছাকাছি না যাওয়ার অনুরোধ জানিয়েছে।
উত্তর কোরিয়া এর আগেও পূর্ব সাগরের দিকে একাধিক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে। ফলে সর্বশেষ এই উৎক্ষেপণকে ঘিরে আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তবে সর্বশেষ ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণের উদ্দেশ্য কী ছিল, সেগুলোর পূর্ণাঙ্গ বৈশিষ্ট্য কী এবং এর পর আরও কোনো পরীক্ষা চালানো হবে কি না—এসব বিষয়ে এখনো বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি। পরিস্থিতির পরবর্তী গতিপ্রকৃতির দিকে নজর রাখছে দক্ষিণ কোরিয়া, জাপান ও তাদের মিত্ররা।