সিঙ্গাপুরকে হারাতে টাইব্রেকারে স্নায়ুর লড়াই, তার আগে সিশেলসের বিপক্ষেও একই রোমাঞ্চকর জয়—একদিনেই দুটি নকআউট ম্যাচ জিতে ফিফার অনূর্ধ্ব-১৫ বিশ্বকাপ ও ফেস্টিভ্যালের কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে বাংলাদেশ। বয়সভিত্তিক এই আন্তর্জাতিক আসরে লাল-সবুজের তরুণ ফুটবলারদের এমন সাফল্যে এখন নতুন করে আশার আলো দেখছেন দেশের ফুটবলপ্রেমীরা।
বুধবার আজারবাইজানের রাজধানী বাকুর হোভসান প্রতিযোগিতা কমপ্লেক্সে শেষ ষোলোর ম্যাচে সিঙ্গাপুরের মুখোমুখি হয় বাংলাদেশ। নির্ধারিত ৪০ মিনিটের খেলা ১-১ গোলে সমতায় শেষ হলে ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণের জন্য টাইব্রেকারের আশ্রয় নেওয়া হয়। সেখানে দারুণ আত্মবিশ্বাস দেখিয়ে ৪-৩ ব্যবধানে জয় তুলে নেয় বাংলাদেশের কিশোর ফুটবলাররা। তবে কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার পথটা মোটেও সহজ ছিল না। একই দিনে এর আগে শেষ বত্রিশের ম্যাচে সিশেলসের মুখোমুখি হয়েছিল বাংলাদেশ। সেই ম্যাচেও নির্ধারিত সময়ে দুই দল ১-১ গোলে সমতায় ছিল। পরে টাইব্রেকারে ৪-২ ব্যবধানে জিতে পরের পর্ব নিশ্চিত করে কোচ আকবর হোসেন রিদনের শিষ্যরা।
অর্থাৎ, একদিনে দুটি গুরুত্বপূর্ণ নকআউট ম্যাচ খেলেই শেষ আটে পৌঁছেছে বাংলাদেশ। টানা দুই ম্যাচে চাপ সামলে জয় পাওয়ায় দলের মানসিক দৃঢ়তার বিষয়টিও সামনে এসেছে। এবার কোয়ার্টার ফাইনালে বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ মন্টেনেগ্রো। এই ম্যাচ জিততে পারলে প্রতিযোগিতায় আরও এক ধাপ এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ পাবে তরুণ দলটি। তাই পরবর্তী লড়াই ঘিরে ফুটবলপ্রেমীদের আগ্রহও বাড়ছে।
এর আগে গ্রুপ পর্বে ‘জি’ গ্রুপে পর্তুগাল, ইন্দোনেশিয়া, ফিজি, বুরুন্ডি ও ওয়েলসের মতো দলের বিপক্ষে খেলেছে বাংলাদেশ। পর্তুগাল ও বুরুন্ডির কাছে হারলেও ওয়েলস ও ইন্দোনেশিয়ার সঙ্গে ড্র করেছে দলটি। আর ফিজির বিপক্ষে পেয়েছে ৩-১ গোলের জয়। সব মিলিয়ে এই আসরে এখন পর্যন্ত সাতটি ম্যাচ খেলে তিনটিতে জয় পেয়েছে বাংলাদেশ। ফিফার এই প্রতিযোগিতার উদ্বোধনী আসরে ১৯১টি দেশের বয়সভিত্তিক দল অংশ নিচ্ছে। এখানে আটজন করে খেলোয়াড় নিয়ে ছোট মাঠে ম্যাচ অনুষ্ঠিত হচ্ছে। মাঠের দৈর্ঘ্য ৬৮ মিটার এবং প্রস্থ ৪৮ মিটার। দুই অর্ধে ২০ মিনিট করে মোট ৪০ মিনিট খেলা হয়।
ছোট মাঠের দ্রুতগতির এই প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশের তরুণদের লড়াই এখন আরও কঠিন পরীক্ষার সামনে। সিঙ্গাপুর ও সিশেলসকে হারিয়ে যে আত্মবিশ্বাস তারা অর্জন করেছে, সেটি কাজে লাগিয়ে মন্টেনেগ্রোর বিপক্ষেও জয়ের ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে পারে কি না, এখন সেটিই দেখার অপেক্ষা। বাংলাদেশের কিশোর ফুটবলারদের এই সাফল্য দেশের ফুটবলে নতুন সম্ভাবনার বার্তা দিচ্ছে। শেষ আটের লড়াইয়ে তাদের জন্য রইল শুভকামনা।