ভোটগ্রহণ শুরুর কয়েক ঘণ্টা আগেই ঠাকুরগাঁও-১ আসনে নির্বাচনি দায়িত্বে থাকা ৯ সহকারী প্রিসাইডিং কর্মকর্তাকে প্রত্যাহার করেছে নির্বাচন কর্তৃপক্ষ। সরকারি দলের পক্ষে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে প্রচার এবং সমর্থন দেওয়ার অভিযোগ ওঠার পর তাঁদের বিরুদ্ধে এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়। ভোটের আগের রাতে এমন সিদ্ধান্তকে ঘিরে নির্বাচনি নিরপেক্ষতা নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি হয়েছে।
বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর সকাল ৮টা থেকে ঠাকুরগাঁও-১ আসনে ভোটগ্রহণ শুরু হয়। তবে ভোট শুরুর আগেই বুধবার রাতে ওই কর্মকর্তাদের প্রত্যাহারের আদেশ কার্যকর করা হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন আসনটির রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা কামরুল ইসলাম। প্রত্যাহার হওয়া ৯ কর্মকর্তার মধ্যে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং একজন ব্যাংক কর্মকর্তা রয়েছেন। তাঁদের মধ্যে ছিলেন সবুজ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রের মাসুদ রানা, ঠাকুরগাঁও সরকারি কলেজ কেন্দ্রের জয়নাল আবেদীন, ঠাকুরগাঁও রোড বালিকা উচ্চবিদ্যালয় কেন্দ্রের জুলফিকার আলী এবং গোপালপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রের ফরিদা ইয়াসমিন।
এ ছাড়া সালন্দর পাঁচপীর ডাঙ্গা স্বতন্ত্র এবতেদায়ি মাদ্রাসা কেন্দ্রের সাদেকুল ইসলাম, সিঙ্গিয়া মুন্সিপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রের মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ, দৌলতপুর সলেমান খান বহুমুখী উচ্চবিদ্যালয় কেন্দ্রের ওবাইদুর রহমান, বালাপাড়া দ্বিমুখী উচ্চবিদ্যালয় কেন্দ্রের শাহাদুল ইসলাম এবং বড়গ্রাম আলিম মাদ্রাসা কেন্দ্রের আব্দুল জব্বারকেও দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা কামরুল ইসলাম জানান, নির্বাচনি নিরপেক্ষতা ক্ষুণ্ন হওয়ার বিষয়ে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পাওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ভোটের পরিবেশ সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ রাখতে দ্রুত তাঁদের পরিবর্তে নতুন কর্মকর্তাদের নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এতে নির্বাচনি কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখার ব্যবস্থা করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
তবে অভিযোগের বিষয়ে প্রত্যাহার হওয়া কর্মকর্তাদের বক্তব্য কিংবা অভিযোগের পূর্ণাঙ্গ বিবরণ প্রকাশিত তথ্যে উল্লেখ করা হয়নি। ফলে অভিযোগের সত্যতা ও সংশ্লিষ্ট ঘটনাগুলোর বিস্তারিত জানতে পরবর্তী তথ্যের অপেক্ষা করতে হবে। ভোটগ্রহণের ঠিক আগমুহূর্তে একসঙ্গে ৯ কর্মকর্তাকে প্রত্যাহারের এই ঘটনা ঠাকুরগাঁও-১ আসনের নির্বাচনি ব্যবস্থাপনায় নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করার বিষয়টিকে সামনে নিয়ে এসেছে।