ইসরায়েলের নির্বাচনে শুরুতে যে ব্যবধানে এগিয়ে ছিল প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর লিকুদ পার্টি, ভোট গণনা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সেই ব্যবধানের চিত্র বদলাতে শুরু করেছে। একদিকে কমছে লিকুদ পার্টির প্রাপ্ত ভোটের হার, অন্যদিকে ধীরে ধীরে বাড়ছে প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী গাদি আইজেনকোটের ইয়াশার পার্টির ভোট। ফলে প্রাথমিক ফলাফলে এগিয়ে থেকেও সরকার গঠন নিয়ে এখনো নিশ্চিত অবস্থানে পৌঁছাতে পারেনি নেতানিয়াহুর দল।
বুধবার, ২৮ অক্টোবর প্রকাশিত নির্বাচনী তথ্য অনুযায়ী, ইসরায়েলের কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিটির হিসাবে ২১ লাখের বেশি ভোট গণনা শেষে লিকুদ পার্টি পেয়েছে ২১ দশমিক ৭২ শতাংশ ভোট নয়, বরং প্রকাশিত এক পর্যায়ের হিসাবে দলটির ভোটের হার ছিল ২১ দশমিক ৭ শতাংশ। এর আগের গণনায় এই হার ছিল ২৩ দশমিক ২৪ শতাংশ। অর্থাৎ, ভোট গণনা এগোনোর সঙ্গে সঙ্গে দলটির প্রাপ্ত ভোটের শতকরা হার কমেছে। অন্যদিকে, গাদি আইজেনকোটের ইয়াশার পার্টির ভোটের হার কিছুটা বেড়েছে। আগের গণনায় দলটি পেয়েছিল ১৫ দশমিক ৪১ শতাংশ ভোট। পরবর্তী হিসাবে তা বেড়ে দাঁড়ায় ১৫ দশমিক ৭২ শতাংশে। ফলে দুই দলের ভোটের ব্যবধান কমে আসার ইঙ্গিত দেখা যাচ্ছে।
এ ছাড়া ফিলিস্তিনি ও ইসরায়েলি রাজনৈতিক দলগুলোর জোট জয়েন্ট লিস্ট ৯ দশমিক ২২ শতাংশ ভোট পেয়ে তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে। সাবেক প্রধানমন্ত্রী নাফতালি বেনেটের দল পেয়েছে ৮ দশমিক ২২ শতাংশ ভোট। তবে ভোটের হার নিয়ে এই হিসাবই শেষ কথা নয়। ভোট গণনার পরবর্তী পর্যায়ে প্রকাশিত আরেকটি হিসাবে লিকুদ পার্টির ভোটের হার আরও কমে ২০ দশমিক ৬ শতাংশে নেমে আসে। অন্যদিকে, ইয়াশার পার্টির ভোটের হার বেড়ে দাঁড়ায় ১৬ দশমিক ৮ শতাংশে। ফলে ভোট গণনার বিভিন্ন পর্যায়ে দলগুলোর অবস্থানে পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে।
এবারের নির্বাচনে ইসরায়েলের নিবন্ধিত ভোটার ছিলেন প্রায় ৭৩ লাখ ৩০ হাজার। তাঁদের মধ্যে ৫৬ লাখ ৯০ হাজারের বেশি ভোটার ভোট দিয়েছেন। তবে সব ভোট গণনা শেষ না হওয়া পর্যন্ত চূড়ান্ত ফলাফল সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাচ্ছে না। এদিকে, লিকুদ পার্টি এগিয়ে থাকলেও সরকার গঠনের হিসাব এখনো জটিল। ইসরায়েলের পার্লামেন্ট নেসেটের মোট আসন ১২০টি। সরকার গঠন করতে হলে অন্তত ৬১টি আসনের সমর্থন প্রয়োজন। কিন্তু প্রাথমিক ফলাফলে এখন পর্যন্ত কোনো রাজনৈতিক জোটই সেই সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিশ্চিত করতে পারেনি।
এ কারণে শুধু কোন দল বেশি ভোট পেয়েছে, সেটিই নয়—কোন দল কতটি আসন পাবে এবং সরকার গঠনের জন্য অন্য দলগুলোর সমর্থন আদায় করতে পারবে কি না, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ইসরায়েলের নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, ফলাফল এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। ভোট গণনা চলতে থাকায় দলগুলোর ভোটের হার ও অবস্থানে পরিবর্তন আসতে পারে। তাই নেতানিয়াহুর লিকুদ পার্টি শেষ পর্যন্ত কতটা এগিয়ে থাকে এবং কোনো জোট সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে পারে কি না, তা জানতে অপেক্ষা করতে হবে চূড়ান্ত ফলাফলের জন্য।