ভেনেজুয়েলা কি সত্যিই যুক্তরাষ্ট্রের ৫১তম অঙ্গরাজ্য হতে যাচ্ছে? দেশটি থেকে আনা ১০ লাখ ব্যারেল তেলবাহী একটি ট্যাংকার সামনে

খুব শিগগির ভেনেজুয়েলা যুক্তরাষ্ট্রের ৫১তম অঙ্গরাজ্য হয়ে উঠবে: ট্রাম্প

নিউজটি প্রতিবেদন করেছেন: নিউজ ডেস্ক।

আপলোড সময় : ২৮ অক্টোবর ২০২৬, দুপুর ৩:২ সময় , আপডেট সময় : ২৮ অক্টোবর ২০২৬, দুপুর ৩:২ সময়

ভেনেজুয়েলা কি সত্যিই যুক্তরাষ্ট্রের ৫১তম অঙ্গরাজ্য হতে যাচ্ছে? দেশটি থেকে আনা ১০ লাখ ব্যারেল তেলবাহী একটি ট্যাংকার সামনে রেখে এমনই ইঙ্গিত দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। শুধু তাই নয়, ভেনেজুয়েলার সঙ্গে তেল চুক্তিকে তিনি আখ্যা দিয়েছেন ইতিহাসের সবচেয়ে বড় তেল বিজয় হিসেবে। তবে এই ঘোষণার পেছনে রয়েছে তেলের বিশাল স্বার্থ, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ এবং যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক চাপ।


মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর টেক্সাসের করপাস ক্রিস্টিতে এক নির্বাচনী সমাবেশে এসব মন্তব্য করেন ট্রাম্প। ভেনেজুয়েলার অন্তর্বর্তী সরকারের সঙ্গে করা তেল চুক্তির কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, দেশটি একসময় সমৃদ্ধ দেশে পরিণত হবে। এরপরই তিনি বলেন, কে জানে, হয়তো খুব শিগগির ভেনেজুয়েলা যুক্তরাষ্ট্রের ৫১তম অঙ্গরাজ্য হয়ে উঠবে।


এর আগে গ্রিনল্যান্ড, কানাডা ও মেক্সিকোকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুক্ত করার সম্ভাবনা নিয়েও নানা সময়ে মন্তব্য করেছিলেন ট্রাম্প। এবার ভেনেজুয়েলাকে নিয়ে তাঁর এমন বক্তব্য নতুন করে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আলোচনা তৈরি করেছে। তবে তাঁর এই মন্তব্যকে বাস্তব কোনো সংযুক্তিকরণ পরিকল্পনার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা হিসেবে দেখার মতো তথ্য এখনো নেই।


ভেনেজুয়েলার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের তেল চুক্তির পেছনে রয়েছে গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত জানুয়ারিতে দেশটিতে মার্কিন সামরিক অভিযানে দীর্ঘদিনের প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো আটক হওয়ার পর ওয়াশিংটন ও কারাকাসের মধ্যে তেল চুক্তি হয়। ট্রাম্পের দাবি, এই চুক্তির আওতায় যুক্তরাষ্ট্র কয়েকশ কোটি ব্যারেল তেল পাবে। তাঁর আরও দাবি, মার্কিন করদাতাদের কোনো খরচ ছাড়াই এই তেল যুক্তরাষ্ট্রে আসছে। তেলবাহী ট্যাংকার প্রদর্শন করে তিনি চুক্তিটির গুরুত্ব তুলে ধরার চেষ্টা করেন।


কিন্তু কেন এই মুহূর্তে ভেনেজুয়েলার তেল যুক্তরাষ্ট্রের জন্য এত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে? এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ ও বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের সংকট।ইরানের সঙ্গে যুদ্ধের কারণে হরমুজ প্রণালি বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানির দাম বেড়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের প্রায় ২০ শতাংশ এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ দিয়ে পরিবাহিত হয়। ফলে সেখানে চলাচল বন্ধ বা ব্যাহত হলে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের সরবরাহে বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে।


ট্রাম্পের দাবি, ভেনেজুয়েলা থেকে তেল পাওয়ার ফলে যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানির দাম শিগগিরই অনেক কমে আসবে। তবে এই প্রত্যাশা বাস্তবে কতটা পূরণ হবে, তা নির্ভর করবে তেল সরবরাহ, বাজার পরিস্থিতি এবং চুক্তি বাস্তবায়নের ওপর। অন্যদিকে, ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে সমালোচনাও বাড়ছে। সমালোচকদের অভিযোগ, ভেনেজুয়েলার তেল নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের তৎপরতা স্পষ্ট হলেও দেশটিতে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার বিষয়ে প্রশাসনের উদ্যোগ পরিষ্কার নয়। নিকোলাস মাদুরো আটক হওয়ার পরও দেশটিতে নতুন নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়নি।


এদিকে, আগামী সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন। বিভিন্ন জনমত জরিপে ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা কমার ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ এবং বিভিন্ন দেশের পণ্যের ওপর শুল্ক আরোপসহ তাঁর পররাষ্ট্রনীতি নিয়েও সমালোচনা রয়েছে। সব মিলিয়ে ভেনেজুয়েলার তেল চুক্তি এখন শুধু জ্বালানি সরবরাহের বিষয় নয়; এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে আন্তর্জাতিক রাজনীতি, গণতন্ত্রের প্রশ্ন এবং যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ নির্বাচনী হিসাব। ট্রাম্পের ৫১তম অঙ্গরাজ্যসংক্রান্ত মন্তব্য কতটা রাজনৈতিক বক্তব্য আর কতটা বাস্তব পরিকল্পনার ইঙ্গিত—তা এখনো স্পষ্ট নয়। তবে ভেনেজুয়েলার তেলকে কেন্দ্র করে ওয়াশিংটনের কৌশল যে নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রে এসেছে, তা বলাই যায়।

সম্পাদকীয় :

সম্পাদকঃ মো: ফারুক হোসেইন,

এক্সিকিউটিভ এডিটরঃ ড. আব্দুর রহিম খান,

প্রকাশকঃ মো: মতিউর রহমান।


অফিস :

অফিস : রুপায়ন জেড. আর প্লাজা (৯তলা), প্লট- ৪৬,রোড নং- ৯/এ, সাতমসজিদ রোড, ধানমন্ডি, ঢাকা- ১২০৯।

ইমেইল : info@banglann.com.bd, banglanewsnetwork@gmail.com

মোবাইল : +৮৮ ০২ ২২২২৪৬৯১৮, ০২২২২২৪৬৪৪৯