২০২৭ সাল পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে না, নতুন শিক্ষাবর্ষের পাঠ্যবই ২০২৬ সালের মধ্যেই শিক্ষার্থীদের হাতে পৌঁছে দেওয়া হবে।

২০২৬ সালের মধ্যেই শিক্ষার্থীদের হাতে বই পৌঁছে দেব: শিক্ষামন্ত্রী

নিউজটি প্রতিবেদন করেছেন: নিউজ ডেস্ক।

আপলোড সময় : ২৮ অক্টোবর ২০২৬, দুপুর ১২:৪৯ সময় , আপডেট সময় : ২৮ অক্টোবর ২০২৬, দুপুর ১২:৪৯ সময়

২০২৭ সাল পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে না, নতুন শিক্ষাবর্ষের পাঠ্যবই ২০২৬ সালের মধ্যেই শিক্ষার্থীদের হাতে পৌঁছে দেওয়া হবে। বই বিতরণ নিয়ে এমন আশ্বাস দিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। তবে শুধু সময়মতো বই পৌঁছে দেওয়াই নয়, বইয়ের গুণগত মান নিয়েও কোনো আপস করা হবে না বলে স্পষ্ট জানিয়েছেন তিনি। পাশাপাশি নতুন শিক্ষাক্রমে যুক্ত হচ্ছে চারটি নতুন বই, যা শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় নতুন অভিজ্ঞতা যোগ করতে পারে।


মঙ্গলবার ২৭ অক্টোবর সন্ধ্যায় টাঙ্গাইলের সন্তোষে মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় দিবস উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন শিক্ষামন্ত্রী। তিনি জানান, নতুন শিক্ষাবর্ষের বই বিতরণ ২০২৭ সাল পর্যন্ত গড়াবে না। চলতি ২০২৬ সালের মধ্যেই শিক্ষার্থীদের হাতে বই পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। একই সঙ্গে বইয়ের মানের বিষয়ে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়ে তিনি বলেন, কোমলমতি শিক্ষার্থীদের হাতে মানসম্মত ও সুন্দর বই তুলে দেওয়া হবে। বইয়ের গুণগত মান নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে কোনো ধরনের আপস করা হবে না বলেও আশ্বাস দেন তিনি।


এদিকে শিক্ষার্থীদের জন্য নতুন চারটি বই তৈরির কথাও জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় এসব বই প্রস্তুত করা হয়েছে বলে জানান তিনি। এর মধ্যে চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের জন্য রয়েছে ‘সংস্কৃতি ও খেলাধুলা’ বিষয়ক বই। ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের জন্য যুক্ত হচ্ছে ‘আনন্দময় শিক্ষা’ এবং ‘আমার কারিগরি শিক্ষা’। এ ছাড়া জেলা শহরের যানজট ও সড়কে চলাচলের নিয়ম সম্পর্কে শিক্ষার্থীদের ধারণা দিতে পঞ্চম ও ষষ্ঠ শ্রেণির জন্য একটি ঐচ্ছিক বই চালু করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা ট্রাফিক ব্যবস্থা সম্পর্কে প্রাথমিক ধারণা পাবে বলে আশা করা হচ্ছে।


শিক্ষাবিদদের মতে, পাঠ্যবইয়ে সংস্কৃতি, খেলাধুলা, কারিগরি শিক্ষা ও সড়কব্যবস্থা সম্পর্কে ধারণা যুক্ত হলে প্রচলিত পড়াশোনার বাইরেও শিক্ষার্থীদের বাস্তবজ্ঞান বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হতে পারে। তবে নতুন বইগুলো শ্রেণিকক্ষে কীভাবে পড়ানো হবে এবং শিক্ষার্থীরা কতটা উপকৃত হবে, তা নির্ভর করবে বইয়ের বিষয়বস্তু, শিক্ষকদের প্রস্তুতি ও বাস্তবায়নের ওপর।


অনুষ্ঠানে শিক্ষামন্ত্রী মাওলানা ভাসানীর জীবন ও আদর্শের গুরুত্বও তুলে ধরেন। তিনি বলেন, মাওলানা ভাসানী একজন অনুকরণীয় ব্যক্তিত্ব। তাঁর জীবন থেকে অনেক কিছু শেখার রয়েছে, আর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাও তাঁর আদর্শ থেকে শিক্ষা নিতে পারেন। মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম শহীদুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের সদস্য অধ্যাপক ড. আবদুল্লাহ আল-মামুন, টাঙ্গাইলের দুই সংসদ সদস্য আব্দুস সালাম পিন্টু ও আবুল কালাম আজাদ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের সহ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আনিসুর রহমান।


সব মিলিয়ে নতুন শিক্ষাবর্ষের বই বিতরণ সময়মতো সম্পন্ন করা, বইয়ের মান বজায় রাখা এবং পাঠ্যক্রমে নতুন বিষয় যুক্ত করা—এই তিনটি বিষয়কে সামনে রেখেই শিক্ষামন্ত্রীর বক্তব্যে গুরুত্ব পেয়েছে শিক্ষার মান উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি। এখন দেখার বিষয়, ঘোষিত সময়সীমার মধ্যে সব শিক্ষার্থীর হাতে মানসম্মত বই পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনা কতটা সফলভাবে বাস্তবায়িত হয়।

সম্পাদকীয় :

সম্পাদকঃ মো: ফারুক হোসেইন,

এক্সিকিউটিভ এডিটরঃ ড. আব্দুর রহিম খান,

প্রকাশকঃ মো: মতিউর রহমান।


অফিস :

অফিস : রুপায়ন জেড. আর প্লাজা (৯তলা), প্লট- ৪৬,রোড নং- ৯/এ, সাতমসজিদ রোড, ধানমন্ডি, ঢাকা- ১২০৯।

ইমেইল : info@banglann.com.bd, banglanewsnetwork@gmail.com

মোবাইল : +৮৮ ০২ ২২২২৪৬৯১৮, ০২২২২২৪৬৪৪৯