মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জনসমর্থন সামান্য বাড়লেও আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচন ঘিরে নতুন চ্যালেঞ্জের মুখে তাঁর দল রিপাবলিকান পার্টি।

মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে বাড়লো ট্রাম্পের জনসমর্থন

নিউজটি প্রতিবেদন করেছেন: নিউজ ডেস্ক।

আপলোড সময় : ২৭ অক্টোবর ২০২৬, দুপুর ১০:২ সময় , আপডেট সময় : ২৭ অক্টোবর ২০২৬, দুপুর ১০:২ সময়

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জনসমর্থন সামান্য বাড়লেও আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচন ঘিরে নতুন চ্যালেঞ্জের মুখে তাঁর দল রিপাবলিকান পার্টি। সর্বশেষ জনমত জরিপে ট্রাম্পের প্রতি সমর্থন দাঁড়িয়েছে ৩২ শতাংশে। অন্যদিকে, কংগ্রেসের নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটদের প্রতি ভোটারদের সমর্থন তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা গেছে। জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি, জ্বালানির দাম এবং অর্থনীতি পরিচালনা নিয়ে অসন্তোষের কারণে নির্বাচনের আগে মার্কিন রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ সমীকরণ তৈরি হচ্ছে।


মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর প্রকাশিত রয়টার্স ও ইপসোসের সর্বশেষ জরিপে এসব তথ্য উঠে এসেছে। পাঁচ দিন ধরে অনলাইনে পরিচালিত এই জরিপে অংশ নেন ১ হাজার ৬৭৯ জন প্রাপ্তবয়স্ক মার্কিন নাগরিক এবং ১ হাজার ২৮০ জন নিবন্ধিত ভোটার। জরিপ অনুযায়ী, গত সপ্তাহের সর্বনিম্ন অবস্থান থেকে ট্রাম্পের জনসমর্থন এক শতাংশ বেড়ে ৩২ শতাংশে পৌঁছেছে। আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেটের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে পারবে কি না, সেটিই এখন রিপাবলিকানদের জন্য বড় প্রশ্ন। কারণ, কংগ্রেসের সাধারণ নির্বাচনে ভোটারদের পছন্দের ক্ষেত্রে ডেমোক্র্যাটরা এগিয়ে রয়েছেন।


জরিপে দেখা গেছে, নিবন্ধিত ভোটারদের ৪৭ শতাংশ ডেমোক্র্যাটদের সমর্থন করেছেন। বিপরীতে রিপাবলিকানদের পক্ষে রয়েছেন ৩৬ শতাংশ ভোটার। সিদ্ধান্তহীন ভোটারদের সম্ভাব্য পছন্দ হিসাব করার পর জাতীয় পর্যায়ে ডেমোক্র্যাটদের সমর্থন ৫০ শতাংশ এবং রিপাবলিকানদের ৪১ শতাংশ বলে উল্লেখ করা হয়েছে। সম্ভাব্য ভোটারদের মধ্যেও ডেমোক্র্যাটদের প্রতি সমর্থনের ব্যবধান দেখা গেছে। জরিপে এই ভোটারদের ৫৩ শতাংশ ডেমোক্র্যাটদের পক্ষে মত দিয়েছেন, যেখানে রিপাবলিকানদের সমর্থন করেছেন ৪৪ শতাংশ। নির্বাচন নিয়ে নিজ দলের সমর্থকদের উৎসাহের ক্ষেত্রেও ব্যবধান রয়েছে। ডেমোক্র্যাট সমর্থকদের ৪৬ শতাংশ নির্বাচনে অংশ নেওয়ার বিষয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন। রিপাবলিকান সমর্থকদের ক্ষেত্রে এই হার ৩০ শতাংশ।


নির্বাচনী বিশ্লেষকদের ধারণা, প্রতিনিধি পরিষদের নিয়ন্ত্রণ ডেমোক্র্যাটদের হাতে যাওয়ার সুযোগ রয়েছে। তবে সিনেটে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের লড়াই তাদের জন্য তুলনামূলক কঠিন হতে পারে। শেষ পর্যন্ত কোন দল কতটি আসন পাবে, তা নির্ভর করবে বিভিন্ন নির্বাচনী এলাকার ফলাফল এবং ভোটারদের অংশগ্রহণের ওপর। এদিকে, ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য অর্থনীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয় বড় উদ্বেগের বিষয় হয়ে উঠেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ফেব্রুয়ারিতে ট্রাম্পের নির্দেশে ইরানে সামরিক অভিযান চালানোর পর জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি পায় এবং মূল্যস্ফীতির চাপও বাড়ে। এর প্রভাব পড়েছে সাধারণ মার্কিন নাগরিকদের দৈনন্দিন ব্যয়ে।


জরিপে অংশ নেওয়া ৭৩ শতাংশ ভোটার মনে করেন, জীবনযাত্রার ব্যয়ের পরিস্থিতি ভুল পথে এগোচ্ছে। অর্থনীতি পরিচালনার ক্ষেত্রেও রিপাবলিকানদের প্রতি আস্থার চিত্র বদলেছে। বর্তমানে ৩৭ শতাংশ ভোটার মনে করেন, ডেমোক্র্যাটরা অর্থনীতি পরিচালনায় ভালো করতে পারবেন। অন্যদিকে, রিপাবলিকানদের প্রতি আস্থা প্রকাশ করেছেন ৩৩ শতাংশ ভোটার। সব মিলিয়ে ট্রাম্পের জনসমর্থনে সামান্য উন্নতি হলেও অর্থনীতি, মূল্যস্ফীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ে ভোটারদের অসন্তোষ আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে। প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেটে সংখ্যাগরিষ্ঠতা ধরে রাখতে রিপাবলিকানদের সামনে বড় পরীক্ষা অপেক্ষা করছে। তবে জনমত জরিপ নির্বাচনের চূড়ান্ত ফলাফল নিশ্চিত করে না; ভোটের দিনই স্পষ্ট হবে মার্কিন ভোটাররা কোন দলকে কতটা সমর্থন দিচ্ছেন।

সম্পাদকীয় :

সম্পাদকঃ মো: ফারুক হোসেইন,

এক্সিকিউটিভ এডিটরঃ ড. আব্দুর রহিম খান,

প্রকাশকঃ মো: মতিউর রহমান।


অফিস :

অফিস : রুপায়ন জেড. আর প্লাজা (৯তলা), প্লট- ৪৬,রোড নং- ৯/এ, সাতমসজিদ রোড, ধানমন্ডি, ঢাকা- ১২০৯।

ইমেইল : info@banglann.com.bd, banglanewsnetwork@gmail.com

মোবাইল : +৮৮ ০২ ২২২২৪৬৯১৮, ০২২২২২৪৬৪৪৯