সুনামগঞ্জের তাহিরপুরে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-কে নিয়ে ফেসবুকে আপত্তিকর পোস্ট দেওয়ার অভিযোগে এক যুবককে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। তবে অভিযুক্ত ব্যক্তির দাবি, তাঁর নাম ও ছবি ব্যবহার করে তৈরি করা ফেসবুক আইডিটি ভুয়া। এ বিষয়ে তিনি থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছিলেন।
সোমবার দুপুরে উপজেলার একটি গ্রাম থেকে ওই ব্যক্তিকে থানায় নিয়ে যায় পুলিশ। এর আগে একই দিন সকালে তিনি তাহিরপুর থানায় জিডি করেন। সুনামগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) রাকিবুল হাসান রাসেল প্রথম আলোকে জানান, ওই ব্যক্তিকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে এবং ঘটনাটি তদন্ত করা হচ্ছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে গ্রামের গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সঙ্গে পুলিশ কথা বলেছে। বর্তমানে গ্রামে পুলিশ মোতায়েন রয়েছে এবং পরিস্থিতি শান্ত আছে। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত রোববার একটি ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-কে নিয়ে আপত্তিকর একটি পোস্ট প্রকাশ করা হয়। পোস্টটি ছড়িয়ে পড়ার পর স্থানীয়দের মধ্যে আলোচনা ও সমালোচনা শুরু হয়। সোমবার দুপুরের দিকে ঘটনাটি ঘিরে গ্রামে উত্তেজনা দেখা দেয়।
স্থানীয় এক বাসিন্দা জানান, পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হওয়ার আশঙ্কায় তাঁরা পুলিশকে খবর দেন। পরে বেলা আড়াইটার দিকে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ওই ব্যক্তিকে থানায় নিয়ে যায়। পুলিশ তাঁকে নিয়ে নৌকায় ওঠার সময় পেছন দিক থেকে কয়েকজন ঢিল ছোড়েন বলে জানা গেছে। পরিস্থিতি বিবেচনায় পুলিশ দ্রুত সেখান থেকে চলে যায়। পরে উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক জুনাব আলী ও মেহেদী হাসান গ্রামে গিয়ে স্থানীয়দের সঙ্গে বৈঠক করেন এবং সবাইকে শান্ত থাকার আহ্বান জানান। এ সময় জুনাব আলী বলেন, পুলিশ বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করছে। আটক ব্যক্তি অপরাধে জড়িত প্রমাণিত হলে আইন অনুযায়ী তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। গ্রামে যাতে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি না হয়, সে বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি।
অন্যদিকে, পুলিশ হেফাজতে নেওয়ার আগে করা জিডিতে ওই যুবক উল্লেখ করেন, তাঁর ও পরিবারের সদস্যদের ছবি ব্যবহার করে একটি ভুয়া ফেসবুক অ্যাকাউন্ট খোলা হয়েছে। ওই অ্যাকাউন্ট থেকে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানোর পাশাপাশি সাম্প্রদায়িক উসকানিমূলক পোস্ট দেওয়া হচ্ছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।
জিডিতে তিনি এ ধরনের কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
ঘটনাটি তদন্তাধীন থাকায় ফেসবুক পোস্টটির প্রকৃত উৎস এবং এর সঙ্গে ওই ব্যক্তির সংশ্লিষ্টতা সম্পর্কে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনো পাওয়া যায়নি।