ইসরায়েলের আসন্ন সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ইরানের সঙ্গে নতুন করে সামরিক সংঘাতের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, নির্বাচনের আগে ইরান ইস্যুকে রাজনৈতিকভাবে কাজে লাগাতে চাইছেন প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। আর এই পরিস্থিতিতে সামরিক পদক্ষেপ নিয়ে তাঁর সঙ্গে মতবিরোধ তৈরি হয়েছে দেশটির সেনাপ্রধান ইয়াল জামিরের। তাহলে কি নির্বাচনের আগে ইরানকে ঘিরে নতুন সংঘাতের পথে এগোচ্ছে ইসরায়েল?
সোমবার, ২৬ অক্টোবর প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে আনাদোলু এজেন্সি জানিয়েছে, ইরানের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য সামরিক পদক্ষেপ নিয়ে ইসরায়েলের রাজনৈতিক ও সামরিক নেতৃত্বের মধ্যে মতপার্থক্য দেখা দিয়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, রাজনৈতিক নেতৃত্ব যেন নির্বাচনী সুবিধা আদায়ের জন্য ইরানের সঙ্গে উত্তেজনাকে ব্যবহার করতে না পারে, সে বিষয়ে সতর্ক অবস্থান নিয়েছেন সেনাপ্রধান ইয়াল জামির। এ ধরনের সামরিক পদক্ষেপের আগে তিনি বিস্তারিত আলোচনা এবং লিখিত আইনি অনুমোদনের দাবি জানিয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
একজন নিরাপত্তা কর্মকর্তাও সতর্ক করে বলেছেন, ইরানের বিরুদ্ধে এমন পদক্ষেপ দ্রুতই সরাসরি সামরিক সংঘাতে রূপ নিতে পারে। ফলে সম্ভাব্য অভিযানের সিদ্ধান্ত এবং এর পরিণতি নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তবে সেনাপ্রধানের সঙ্গে বিরোধের খবর অস্বীকার করেছেন প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। ইসরায়েলের চ্যানেল ১৪-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, তাঁদের মধ্যে কোনো মুখোমুখি সংঘাত নেই। একই সঙ্গে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ইরান ইস্যু ব্যবহার করার অভিযোগও প্রত্যাখ্যান করেন তিনি।
কিন্তু ওই সাক্ষাৎকারেই নেতানিয়াহু জানান, ইরানের সরকার পতনের লক্ষ্যে কাজ করার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, ইসরায়েলের গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদ এবং সামরিক বাহিনীকে এ বিষয়ে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তিনি আরও দাবি করেন, ইরান আবারও তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি শুরু করেছে। এ পরিস্থিতিকে ইসরায়েলের অস্তিত্ব রক্ষার লড়াই হিসেবেও তুলে ধরেন তিনি।
এর আগে তেল আবিবের ওপর পারমাণবিক বিস্ফোরণের একটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দিয়ে তৈরি ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করেন নেতানিয়াহু। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে দেশটির বিরোধী দলের নেতা গাদি আইজেনকোট এবং ইয়াইর গোলান তাঁর সমালোচনা করেন। তাঁদের অভিযোগ, নির্বাচনের আগে এমন ছবি প্রকাশ করে মানুষের মধ্যে ভয় ও আতঙ্ক ছড়ানো হচ্ছে। সব মিলিয়ে, ইরানকে ঘিরে ইসরায়েলের রাজনৈতিক বক্তব্য, সম্ভাব্য সামরিক পদক্ষেপ এবং সেনাপ্রধানের অবস্থান নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে নেতানিয়াহু সামরিক নেতৃত্বের সঙ্গে বিরোধের কথা অস্বীকার করেছেন। এখন গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হলো, ইরানকে নিয়ে এই উত্তেজনা কূটনৈতিক পর্যায়ে সীমাবদ্ধ থাকবে, নাকি তা নতুন সামরিক সংঘাতের দিকে এগোবে।