ভারতের এক উচ্চপর্যায়ের গোয়েন্দা কর্মকর্তার সঙ্গে জামায়াতে ইসলামীর শীর্ষ নেতাদের গোপন বৈঠক হয়েছে—এমন বিস্ফোরক অভিযোগ তুলেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের রাজনৈতিক সহকারী মো. রাশেদ খাঁন। তাঁর দাবি, গত ১৬ অক্টোবর রাজধানীর বারিধারার একটি বাড়িতে এই বৈঠক হয়। কিন্তু কেন এই বৈঠক, আর এর পেছনে কী উদ্দেশ্য ছিল? এ নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা তৈরি হয়েছে।
সোমবার, ২৬ অক্টোবর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে নিজের যাচাইকৃত অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে রাশেদ খাঁন এই অভিযোগ করেন। পোস্টে তিনি দাবি করেন, ১৬ অক্টোবর মাগরিবের পর অনুষ্ঠিত ওই বৈঠকে জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার, দলটির নেতা এ টি এম মাছুমসহ মোট তিনজন অংশ নেন। রাশেদ খাঁনের প্রশ্ন, ভারতের বিরুদ্ধে বক্তব্য দেওয়া নেতারা কেন দেশটির একজন উচ্চপর্যায়ের গোয়েন্দা কর্মকর্তার সঙ্গে গোপনে বৈঠক করবেন?
তিনি আরও বলেন, কোনো ভারতীয় কূটনীতিকের সঙ্গে বৈঠক করা আর দেশটির গোয়েন্দা কর্মকর্তার সঙ্গে বৈঠক করা এক বিষয় নয়। তাই বৈঠকের উদ্দেশ্য প্রকাশ্যে ব্যাখ্যা করার আহ্বান জানান তিনি। রাশেদ খাঁন তাঁর পোস্টে মিয়া গোলাম পরওয়ারকে বৈঠকের বিষয়টি পরিষ্কার করার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, বিষয়টি ব্যাখ্যা করা না হলে জামায়াতের কর্মকাণ্ড নিয়ে সন্দেহ তৈরি হতে পারে। তাঁর পোস্টে আওয়ামী লীগকে সঙ্গে নিয়ে জামায়াতের আন্দোলনের পরিকল্পনা নিয়েও অভিযোগ তোলা হয়।
এরপর প্রথম পোস্ট দেওয়ার প্রায় এক ঘণ্টা পর আরেকটি স্ট্যাটাস দেন রাশেদ খাঁন। সেখানে তিনি দাবি করেন, জামায়াতের নেতাদের সঙ্গে ভারতীয় গোয়েন্দা কর্মকর্তার গোপন বৈঠকের তথ্য শতভাগ সত্য। তবে এই প্রতিবেদন তৈরির জন্য দেওয়া তথ্যের মধ্যে অভিযোগটির স্বাধীন প্রমাণ কিংবা বৈঠক সম্পর্কে জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে কোনো বক্তব্য উল্লেখ নেই। ফলে বৈঠকের বিষয়টি এবং এর উদ্দেশ্য সম্পর্কে নিশ্চিত হতে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর বক্তব্য ও নির্ভরযোগ্য প্রমাণ গুরুত্বপূর্ণ।
সব মিলিয়ে, রাশেদ খাঁনের এই অভিযোগ বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। এখন দেখার বিষয়, জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কোনো ব্যাখ্যা আসে কি না এবং অভিযোগের পক্ষে আরও কোনো তথ্য সামনে আসে কি না।