গাজীপুরের টঙ্গীতে এক মাদ্রাসায় নিজের আট বছর বয়সী মেয়েকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ ঘিরে উত্তেজনার মধ্যে পরিবারসহ বাসা ছেড়েছেন শাহজালাল রুমি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা, বিভিন্ন নম্বর থেকে হত্যার হুমকি পাওয়ার অভিযোগ এবং পরিবারের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগের কারণে তিনি আত্মগোপনে রয়েছেন বলে জানিয়েছেন ভবনটির কেয়ারটেকার। তবে স্ত্রী ও দুই সন্তানসহ বর্তমানে তিনি কোথায় আছেন, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
রোববার টঙ্গীতে রুমির বাসায় গিয়ে দরজায় তালা দেখতে পান গণমাধ্যমকর্মীরা। ভবনের কেয়ারটেকার হাবিবুর রহমানের ভাষ্য অনুযায়ী, গত দুই থেকে তিন দিন ধরে ভয় ও নিরাপত্তাহীনতার কারণে রুমির পরিবারের সদস্যরা বাসায় থাকছেন না।কেয়ারটেকার জানান, মাদ্রাসার ঘটনাটি সামনে আসার পর থেকেই রুমি হুমকি পাওয়ার অভিযোগ করছিলেন। একই সঙ্গে গ্রেপ্তার হওয়ার আশঙ্কাও প্রকাশ করেছিলেন তিনি। স্ত্রী, দুই সন্তান এবং শ্বশুর-শাশুড়ির নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে বাসা ছেড়ে অন্যত্র চলে গেছেন বলে জানান রুমি।
রুমি পেশায় একজন কাপড়ের ব্যবসায়ী। পাশাপাশি শরীরচর্চার সঙ্গেও তাঁর সম্পৃক্ততা রয়েছে। ঢাকায় ব্যবসার সুবাদে তিনি বাবার ফ্ল্যাটে স্ত্রী, আট বছর বয়সী মেয়ে ও চার বছর বয়সী ছেলেকে নিয়ে বসবাস করতেন। ঘটনাটি নিয়ে সংবাদ সম্মেলন এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা ছড়িয়ে পড়ার পর রুমি একাধিকবার ফেসবুক সরাসরি সম্প্রচারে নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাঁর অভিযোগ, বিভিন্ন ব্যক্তি তাঁকে হুমকি দিয়েছেন। তবে এসব হুমকির বিষয়ে তদন্তের ফল এখনো জানা যায়নি।
এদিকে, মাদ্রাসার ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি মামলা হয়েছে। একটি মামলা করেছে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ, অন্যটি করেছেন শিশুটির বাবা রুমি। মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের করা মামলায় অর্থ আত্মসাৎ ও ভাঙচুরসহ বিভিন্ন অভিযোগের বিষয়ও রয়েছে। অন্যদিকে, নিজের মেয়ের সঙ্গে ঘটে যাওয়া ঘটনার বিচার চেয়ে আইনি লড়াই চালিয়ে যাওয়ার কথা জানিয়েছেন রুমি। টঙ্গী পশ্চিম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আরিফ হোসেন জানিয়েছেন, দুটি মামলাই গুরুত্বের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ ও তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্তের ভিত্তিতে পুরো বিষয়টি আইনি প্রক্রিয়ায় এগিয়ে নেওয়া হবে। তবে তদন্তের স্বার্থে মামলার বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করতে চাননি তিনি।
ঘটনাটি দেশজুড়ে আলোচনায় আসার পর সংশ্লিষ্ট মাদ্রাসা ও রুমির বাসায় গণমাধ্যমকর্মীদের উপস্থিতিও বেড়েছে। সাংবাদিকেরা দুই পক্ষের বক্তব্য, ঘটনার প্রকৃত তথ্য এবং তদন্তের অগ্রগতি জানার চেষ্টা করছেন। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা বক্তব্য ও অভিযোগ ছড়িয়ে পড়লেও তদন্ত শেষ হওয়ার আগে কোনো অভিযোগকেই চূড়ান্ত সত্য হিসেবে ধরে নেওয়া যায় না। একই সঙ্গে শিশুটির নিরাপত্তা, মানসিক সুস্থতা এবং ব্যক্তিগত গোপনীয়তা রক্ষা করা জরুরি। এখন তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটন এবং সংশ্লিষ্ট সবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই গুরুত্বপূর্ণ।