দেশে ডেঙ্গুর পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক হয়ে উঠছে। প্রতিদিনই বাড়ছে আক্রান্তের সংখ্যা, দীর্ঘ হচ্ছে মৃত্যুর তালিকা। এবার একদিনে হাসপাতালে ভর্তি ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা ছাড়িয়ে গেল চলতি বছরের আগের সব রেকর্ড। গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ২ হাজার ২৪৯ জন। একই সময়ে প্রাণ হারিয়েছেন আরও সাতজন। ফলে ডেঙ্গু নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে দেশজুড়ে।
রোববার, ২৫ অক্টোবর, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত ডেঙ্গুবিষয়ক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়। অধিদপ্তরের হিসাব অনুযায়ী, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত সারা দেশে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১ লাখ ২৩ হাজার ৯৪৮ জন। আর এ রোগে প্রাণ হারিয়েছেন মোট ৩৮৪ জন। সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো, একদিনে হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যায় এবার নতুন রেকর্ড তৈরি হয়েছে। এর আগে গত ১১ অক্টোবর একদিনে ২ হাজার ১৯৩ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন। ১২ অক্টোবর এই সংখ্যা ছিল ২ হাজার ১৬৭ জন। এ ছাড়া ২৭ সেপ্টেম্বর হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন ২ হাজার ১৫৮ জন এবং ১৮ অক্টোবর ভর্তি হয়েছিলেন ২ হাজার ৮৮ জন।
কিন্তু এসব সংখ্যাকে ছাড়িয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ২ হাজার ২৪৯ জন। অর্থাৎ, ডেঙ্গুর সংক্রমণ এখনো নিয়ন্ত্রণে আসেনি; বরং নতুন রোগীর চাপ বাড়ছে হাসপাতালগুলোতে। এদিকে, গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে মারা যাওয়া সাতজনের মধ্যে দুজন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন এলাকায় এবং দুজন ময়মনসিংহ বিভাগে মারা গেছেন। এ ছাড়া ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন, খুলনা বিভাগ ও রাজশাহী বিভাগে একজন করে মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।
মৃত্যুর পরিসংখ্যানেও পরিস্থিতির ভয়াবহতা স্পষ্ট। চলতি বছরের ৬ ও ১৫ অক্টোবর একদিনে সর্বোচ্চ ১০ জন করে ডেঙ্গু রোগীর মৃত্যু হয়েছিল। এবার একদিনে মৃত্যুর সংখ্যা সেই রেকর্ডে না পৌঁছালেও আক্রান্তের সংখ্যা নতুন সর্বোচ্চ পর্যায়ে উঠেছে। ডেঙ্গু প্রতিরোধে তাই ব্যক্তিগত সচেতনতার পাশাপাশি বাড়ি ও আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার রাখাও জরুরি। জমে থাকা পানি নিয়মিত সরিয়ে ফেলতে হবে, কারণ এমন পানিতেই এডিস মশা বংশবিস্তার করতে পারে। ফুলের টব, ছাদের পাত্র, পরিত্যক্ত টায়ার কিংবা পানি জমতে পারে—এমন যেকোনো জায়গায় নজর দেওয়া প্রয়োজন। জ্বর হলে অবহেলা না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া এবং নিজের ইচ্ছায় ওষুধ না খাওয়াও গুরুত্বপূর্ণ।
একদিকে এক লাখ ২৩ হাজারের বেশি মানুষ হাসপাতালে ভর্তি, অন্যদিকে ৩৮৪ জনের মৃত্যু—এই পরিসংখ্যান ডেঙ্গু মোকাবিলায় আরও সতর্ক হওয়ার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরছে। এখন দেখার বিষয়, সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে স্বাস্থ্যসেবা ও মশা নিধন কার্যক্রম কতটা কার্যকর হয় এবং সামনে আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা কমানো সম্ভব হয় কি না।