একটি যুদ্ধের সিদ্ধান্ত শুধু যুদ্ধক্ষেত্রেই সীমাবদ্ধ থাকে না, তার প্রভাব ছড়িয়ে পড়ে পুরো বিশ্বে—বাড়ে জ্বালানি তেলের দাম, চাপে

ইরানে ট্রাম্পের ‘অপ্রয়োজনীয় যুদ্ধের’ কড়া সমালোচনা ওবামার

নিউজটি প্রতিবেদন করেছেন: নিউজ ডেস্ক।

আপলোড সময় : ২৫ অক্টোবর ২০২৬, বিকাল ৫:৩৪ সময় , আপডেট সময় : ২৫ অক্টোবর ২০২৬, বিকাল ৫:৩৪ সময়

একটি যুদ্ধের সিদ্ধান্ত শুধু যুদ্ধক্ষেত্রেই সীমাবদ্ধ থাকে না, তার প্রভাব ছড়িয়ে পড়ে পুরো বিশ্বে—বাড়ে জ্বালানি তেলের দাম, চাপে পড়ে অর্থনীতি, আর সংকটে পড়ে সাধারণ মানুষ। এবার এমনই এক যুদ্ধকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিরুদ্ধে সরাসরি আক্রমণ শানালেন সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা। তবে ওবামার সমালোচনার জবাব দিতেও দেরি করেননি ট্রাম্প।


যুক্তরাষ্ট্রের ওহাইও অঙ্গরাজ্যের ক্লিভল্যান্ডে এক জনসভায় বক্তব্য দিতে গিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের একের পর এক সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেন বারাক ওবামা। আগামী ৩ নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচন সামনে রেখে দেওয়া এই বক্তব্যে তিনি বলেন, বর্তমান প্রেসিডেন্টের নেওয়া ভুল সিদ্ধান্তগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বড় হলো এমন একটি অপ্রয়োজনীয় যুদ্ধ শুরু করা, যার দাবি কেউ জানায়নি। ওবামার এই বক্তব্যের কেন্দ্রে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের সংঘাত। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দুই দেশের যৌথ হামলার পর ইরান কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি অবরুদ্ধ করে দিয়েছে। এর প্রভাব পড়েছে বিশ্ব জ্বালানি বাজারে। তেলের সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ বাড়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দামে ঊর্ধ্বমুখী চাপ তৈরি হয়েছে। আর তেলের দাম বাড়লে পরিবহন ব্যয় থেকে শুরু করে বিভিন্ন পণ্যের উৎপাদন ও সরবরাহ খরচও বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে।


ওবামার অভিযোগ, এমন একটি যুদ্ধের কারণে যুক্তরাষ্ট্রকে শুধু সামরিক ও কূটনৈতিক ঝুঁকির মুখেই পড়তে হচ্ছে না, এর অর্থনৈতিক প্রভাবও ছড়িয়ে পড়ছে বিশ্বজুড়ে। মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে তাঁর এই বক্তব্য ট্রাম্প প্রশাসনের নীতি নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ককে আরও উসকে দিতে পারে। তবে সাবেক প্রেসিডেন্টের সমালোচনার জবাবে চুপ থাকেননি ডোনাল্ড ট্রাম্প। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে তিনি ওবামাকে আক্রমণ করে বলেন, ওবামা অত্যন্ত অযোগ্য প্রেসিডেন্ট ছিলেন।


এ সময় ২০১৫ সালে ইরানের সঙ্গে সম্পাদিত পারমাণবিক চুক্তির প্রসঙ্গও সামনে আনেন ট্রাম্প। তাঁর অভিযোগ, ওবামা প্রশাসন অতীতে ইরানকে কয়েক বিলিয়ন ডলার দিয়ে তুষ্ট করার চেষ্টা করেছিল। ট্রাম্পের দাবি, সেই নীতির মাধ্যমে ইরানের পারমাণবিক অস্ত্র অর্জনের পথ আরও সহজ হয়েছিল। অর্থাৎ, ইরানকে ঘিরে বর্তমান সংঘাত এখন শুধু সামরিক পরিস্থিতি বা জ্বালানি বাজারের বিষয় নয়; এটি যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতেও বড় বিতর্কের কারণ হয়ে উঠেছে। একদিকে ওবামা বর্তমান প্রশাসনের যুদ্ধনীতিকে ভুল সিদ্ধান্ত হিসেবে তুলে ধরছেন, অন্যদিকে ট্রাম্প পুরোনো পারমাণবিক চুক্তি নিয়ে তাঁর পূর্বসূরির সমালোচনা করছেন।


৩ নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচন যত এগিয়ে আসবে, ততই এই বিতর্ক রাজনৈতিক আলোচনায় গুরুত্ব পেতে পারে। তবে শেষ পর্যন্ত যুদ্ধ পরিস্থিতি, জ্বালানি তেলের দাম এবং সরকারের সিদ্ধান্ত নিয়ে ভোটাররা কীভাবে প্রতিক্রিয়া জানান, সেটিই হবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

সম্পাদকীয় :

সম্পাদকঃ মো: ফারুক হোসেইন,

এক্সিকিউটিভ এডিটরঃ ড. আব্দুর রহিম খান,

প্রকাশকঃ মো: মতিউর রহমান।


অফিস :

অফিস : রুপায়ন জেড. আর প্লাজা (৯তলা), প্লট- ৪৬,রোড নং- ৯/এ, সাতমসজিদ রোড, ধানমন্ডি, ঢাকা- ১২০৯।

ইমেইল : info@banglann.com.bd, banglanewsnetwork@gmail.com

মোবাইল : +৮৮ ০২ ২২২২৪৬৯১৮, ০২২২২২৪৬৪৪৯