পিরোজপুরে আলোচিত একটি মামলার বাদী মানিক পশারীর মৃত্যু ঘিরে তৈরি হয় উত্তেজনাকর পরিস্থিতি। তাঁর মরদেহ বাড়িতে নেওয়া থেকে

পুলিশি নিরাপত্তায় সাঈদীর মামলার বাদী মানিকের লাশ দাফন

নিউজটি প্রতিবেদন করেছেন: নিউজ ডেস্ক।

আপলোড সময় : ২৫ অক্টোবর ২০২৬, সকাল ৯:৩৯ সময় , আপডেট সময় : ২৫ অক্টোবর ২০২৬, সকাল ৯:৩৯ সময়

পিরোজপুরে আলোচিত একটি মামলার বাদী মানিক পশারীর মৃত্যু ঘিরে তৈরি হয় উত্তেজনাকর পরিস্থিতি। তাঁর মরদেহ বাড়িতে নেওয়া থেকে শুরু করে দাফন সম্পন্ন করা পর্যন্ত নিতে হয় পুলিশের বিশেষ নিরাপত্তা। স্থানীয়দের বিরোধিতা ও উত্তেজনার কারণে একপর্যায়ে মরদেহ নিয়ে যাওয়া হয় পুলিশ লাইনসে। পরে প্রশাসনের তৎপরতায় রাতের আঁধারে নিজ বাড়িতে সম্পন্ন হয় তাঁর দাফন।


শনিবার, ২৪ অক্টোবর রাত ২টার দিকে পিরোজপুর সদর উপজেলার শংকরপাশা ইউনিয়নের চিতলিয়া গ্রামে নিজ বাড়িতে মানিক পশারীর মরদেহ দাফন করা হয়। এ সময় তাঁর স্ত্রী, সন্তান এবং স্থানীয়রা উপস্থিত ছিলেন। এর আগে শনিবার দুপুর ১২টার দিকে মানিক পশারীর মরদেহ উপজেলা পরিষদ চত্বরে পৌঁছালে তাঁর স্বজনেরা জেলা জামায়াতের নেতাকর্মী ও স্থানীয়দের বিরোধিতার মুখে পড়েন বলে সংবাদে উল্লেখ করা হয়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে পুলিশ মরদেহটি সেখান থেকে সরিয়ে পুলিশ লাইনসে নিয়ে যায়।


পরে বিকেল ৫টার দিকে সেখানে গার্ড অব অনার দেওয়া হয়। এরপর মরদেহের নিরাপত্তায় দায়িত্ব পালন করে পিরোজপুর সদর থানা পুলিশ। রাত ১টার দিকে সদর থানা পুলিশের সদস্যরা জেলা জামায়াতে ইসলামীর নেতাদের সহযোগিতায় মরদেহটি তাঁর বাড়িতে পৌঁছে দেন। এর প্রায় এক ঘণ্টা পর দাফন সম্পন্ন হয়। পিরোজপুর জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি আব্দুর রাজ্জাক দাবি করেন, মানিক পশারীর মরদেহ দাফনে জেলা জামায়াত ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতারা কোনো বাধা দেননি। তিনি বলেন, জামায়াতে ইসলামী লাশের রাজনীতি করে না। দাফন সম্পন্ন করতে পিরোজপুর সদর থানা পুলিশকে পূর্ণ সহযোগিতা করা হয়েছে।


অন্যদিকে, পিরোজপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. শরিফুল ইসলাম জানান, পুলিশের নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে মানিক পশারীর দাফন সম্পন্ন হয়েছে। পরিস্থিতি বিবেচনায় কবরের পাশে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। মানিক পশারী পিরোজপুর সদর উপজেলার শংকরপাশা ইউনিয়নের চিতলিয়া গ্রামের চার নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা ছিলেন। শনিবার সকাল ১০টার দিকে গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়া এলাকায় এক আত্মীয়ের বাড়িতে তাঁর মৃত্যু হয়।


মানিক পশারী ২০০৯ সালের ১২ আগস্ট পিরোজপুর থানায় আল্লামা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে মামলা করেছিলেন। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে করা ওই মামলাটি পরবর্তী সময়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে সাঈদীর বিরুদ্ধে চলা মূল মামলার সঙ্গে যুক্ত করা হয়। সব মিলিয়ে, মানিক পশারীর মৃত্যু এবং তাঁর মরদেহ দাফনকে কেন্দ্র করে পিরোজপুরে যে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছিল, তা সামাল দিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে পুলিশ। তবে ঘটনাটি ঘিরে স্থানীয় পর্যায়ে তৈরি হওয়া পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে।

সম্পাদকীয় :

সম্পাদকঃ মো: ফারুক হোসেইন,

এক্সিকিউটিভ এডিটরঃ ড. আব্দুর রহিম খান,

প্রকাশকঃ মো: মতিউর রহমান।


অফিস :

অফিস : রুপায়ন জেড. আর প্লাজা (৯তলা), প্লট- ৪৬,রোড নং- ৯/এ, সাতমসজিদ রোড, ধানমন্ডি, ঢাকা- ১২০৯।

ইমেইল : info@banglann.com.bd, banglanewsnetwork@gmail.com

মোবাইল : +৮৮ ০২ ২২২২৪৬৯১৮, ০২২২২২৪৬৪৪৯