জাপানের সঙ্গে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ক কি এবার নতুন উচ্চতায় পৌঁছাতে যাচ্ছে? বিনিয়োগ বৃদ্ধি, নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং প্রযুক্তিগত

রাতে জাপান যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

নিউজটি প্রতিবেদন করেছেন: নিউজ ডেস্ক।

আপলোড সময় : ২৫ অক্টোবর ২০২৬, সকাল ৯:৩৮ সময় , আপডেট সময় : ২৫ অক্টোবর ২০২৬, সকাল ৯:৩৮ সময়

জাপানের সঙ্গে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ক কি এবার নতুন উচ্চতায় পৌঁছাতে যাচ্ছে? বিনিয়োগ বৃদ্ধি, নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং প্রযুক্তিগত সহযোগিতা সম্প্রসারণের লক্ষ্য নিয়ে চার দিনের সরকারি সফরে জাপান যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এই সফরে দুই দেশের মধ্যে অর্থনৈতিক সহযোগিতা জোরদার করার পাশাপাশি বাংলাদেশের উন্নয়ন ও বাণিজ্য সম্প্রসারণে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত আসতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।


জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির আমন্ত্রণে রোববার, ২৫ অক্টোবর দিনগত রাত ১২টা ১০ মিনিটে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইটে টোকিওর উদ্দেশে ঢাকা ছাড়ার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের। সফরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচি হচ্ছে মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর টোকিওতে জাপানের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের দ্বিপক্ষীয় বৈঠক। এই বৈঠকে দুই দেশের বিদ্যমান সহযোগিতা পর্যালোচনার পাশাপাশি বাণিজ্য, বিনিয়োগ, অবকাঠামো উন্নয়ন, প্রযুক্তি হস্তান্তর এবং মানবসম্পদ উন্নয়নের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।


বাংলাদেশে জাপানি বিনিয়োগ বাড়ানো এবং নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরির বিষয়টি সফরে বিশেষ গুরুত্ব পাবে। পাশাপাশি চলমান উন্নয়ন প্রকল্পগুলোর বাস্তবায়ন ত্বরান্বিত করা এবং বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রায় জাপানের সহযোগিতা আরও বিস্তৃত করার বিষয়েও আলোচনা হতে পারে। সফরকালে জাপান-বাংলাদেশ অর্থনৈতিক ফোরামে মূল বক্তব্য দেবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এ ছাড়া জাপানের শীর্ষস্থানীয় ব্যবসায়ী নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করে বাংলাদেশের বিনিয়োগ সম্ভাবনা তুলে ধরার কথা রয়েছে তাঁর। এর মাধ্যমে বাংলাদেশের শিল্প, বাণিজ্য ও অবকাঠামো খাতে নতুন বিনিয়োগের পথ তৈরি হতে পারে।


প্রধানমন্ত্রীর সম্ভাব্য কর্মসূচিতে রয়েছে জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থা, জাপান বৈদেশিক বাণিজ্য সংস্থা, জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ব্যাংক এবং সাসাকাওয়া শান্তি ফাউন্ডেশনের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক। এ ছাড়া তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের টার্মিনাল, বিদ্যুৎকেন্দ্র, ইউনিক্লোর সদর দপ্তর এবং টয়োটার কারখানা পরিদর্শনের কর্মসূচিও রয়েছে।


বাংলাদেশ ও জাপানের অর্থনৈতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে স্বাক্ষরিত অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তির বাস্তবায়নও গুরুত্বপূর্ণ আলোচ্য বিষয় হতে পারে। এই চুক্তির মাধ্যমে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য সম্প্রসারণ এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতা আরও জোরদার করার সুযোগ তৈরি হয়েছে। ফলে চুক্তির কার্যকর বাস্তবায়ন বাংলাদেশের রপ্তানি ও ব্যবসা-বাণিজ্যে নতুন সম্ভাবনা সৃষ্টি করতে পারে।


পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়াম জানিয়েছেন, সফরকালে কৃষি, মৎস্য, দক্ষতা উন্নয়ন, বাণিজ্য, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং স্থানীয় সরকারব্যবস্থার আধুনিকায়নসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর কিংবা সহযোগিতার বিষয়ে ঘোষণা আসতে পারে। সব মিলিয়ে, প্রধানমন্ত্রীর এই জাপান সফর শুধু কূটনৈতিক সৌজন্য বিনিময়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং বিনিয়োগ বৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, প্রযুক্তিগত দক্ষতা অর্জন এবং উন্নয়ন সহযোগিতা সম্প্রসারণের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। এখন দেখার বিষয়, চার দিনের এই সফর থেকে বাংলাদেশের অর্থনীতি ও সাধারণ মানুষের জন্য কী ধরনের বাস্তব সুফল আসে।

সম্পাদকীয় :

সম্পাদকঃ মো: ফারুক হোসেইন,

এক্সিকিউটিভ এডিটরঃ ড. আব্দুর রহিম খান,

প্রকাশকঃ মো: মতিউর রহমান।


অফিস :

অফিস : রুপায়ন জেড. আর প্লাজা (৯তলা), প্লট- ৪৬,রোড নং- ৯/এ, সাতমসজিদ রোড, ধানমন্ডি, ঢাকা- ১২০৯।

ইমেইল : info@banglann.com.bd, banglanewsnetwork@gmail.com

মোবাইল : +৮৮ ০২ ২২২২৪৬৯১৮, ০২২২২২৪৬৪৪৯