সৌদি আরবের বিমানবন্দরগুলোতে নিরাপত্তাজনিত বিধিনিষেধের কারণে বাংলাদেশের সঙ্গে আকাশপথে যোগাযোগে বড় ধরনের বিঘ্ন দেখা দিয়েছে। সরাসরি ও ট্রানজিট রুট মিলিয়ে মোট ১৪৪টি ফ্লাইটের কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন ২২ হাজার ২১ জন যাত্রী। এর মধ্যে অনেক যাত্রীর ভ্রমণ পরিকল্পনা অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। পরিস্থিতি কবে স্বাভাবিক হবে, তা নিয়েও তৈরি হয়েছে উদ্বেগ।
বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ব্যাহত হওয়া ফ্লাইটগুলোর মধ্যে ৬৭টি সরাসরি এবং ৭৭টি ট্রানজিট ফ্লাইট। শনিবার, ২৪ অক্টোবর রাত সাড়ে ১১টার পর প্রকাশিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। সরাসরি ফ্লাইট চলাচলে সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়েছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস, সৌদিয়া, ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনস ও রিয়াদ এয়ারের কার্যক্রমে। এসব সংস্থার যথাক্রমে ২৮টি, ১৯টি, ১০টি ও ১০টি ফ্লাইট বাতিল বা স্থগিত হয়েছে।
অন্যদিকে, ট্রানজিট রুটেও দেখা দিয়েছে ব্যাপক বিপর্যয়। ইন্ডিগোর ৩০টি, এমিরেটসের ১৪টি, কাতার এয়ারওয়েজের ৯টি, ফ্লাইদুবাইয়ের ৮টি, এয়ার ইন্ডিয়ার ৮টি, সালাম এয়ারের ৭টি এবং ইজিপ্ট এয়ারের একটি ফ্লাইটের কার্যক্রম ব্যাহত হয়েছে। ফলে সৌদি আরবগামী যাত্রীদের পাশাপাশি বিভিন্ন দেশের বিমানবন্দর হয়ে যাতায়াতকারী যাত্রীরাও ভোগান্তিতে পড়েছেন।
সৌদি আরবের বিমানবন্দরগুলোতে ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠী হুতিদের হামলার পরিপ্রেক্ষিতে ফ্লাইট পরিচালনায় বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। এর প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশের সঙ্গে সৌদি আরবের সরাসরি আকাশপথের যোগাযোগে। একই সঙ্গে বিভিন্ন দেশের বিমানবন্দর হয়ে চলাচলকারী সংযোগ ফ্লাইটও পড়েছে সংকটে। এ পরিস্থিতিতে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস তাদের সৌদি আরবগামী কয়েকটি রুটে ফ্লাইট স্থগিতের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সংস্থাটির ঘোষণা অনুযায়ী, দাম্মামগামী ফ্লাইট ২৫ অক্টোবর পর্যন্ত এবং রিয়াদগামী সব ফ্লাইট ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত স্থগিত থাকবে। এর আগে দাম্মাম রুটে আবারও ফ্লাইট চালু করা হলেও পরে নিরাপত্তাজনিত পরিস্থিতির কারণে সেই সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করা হয়।
তবে স্বস্তির খবর হলো, ঢাকা থেকে জেদ্দা ও মদিনাগামী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ফ্লাইট পূর্বনির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী চলাচল করছে। জরুরি প্রয়োজনে রিয়াদ ও দাম্মামগামী যাত্রীরা আসন খালি থাকা সাপেক্ষে জেদ্দা ও মদিনা বিমানবন্দর ব্যবহার করে সৌদি আরবে যাতায়াত করতে পারবেন। সব মিলিয়ে, সৌদি আরবের বিমানবন্দরগুলোতে চলমান অস্থিরতার কারণে বাংলাদেশের হাজারো যাত্রীর যাত্রা ব্যাহত হচ্ছে। যাত্রীদের ভ্রমণের আগে সংশ্লিষ্ট বিমান সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ করে ফ্লাইটের সর্বশেষ অবস্থা জেনে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।