ইরানের ভূখণ্ডে নতুন করে কোনো সামরিক আগ্রাসন চালানো হলে তেহরান কেবল প্রথাগত প্রতিশোধমূলক পদক্ষেপে সীমাবদ্ধ থাকবে না; প্রয়োজনে

যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য হামলার বিপরীতে আক্রমণাত্মক নীতি গ্রহণের ঘোষণা ইরানের; মধ্যপ্রাচ্যে নতুন যুদ্ধের শঙ্কা

নিউজটি প্রতিবেদন করেছেন: স্টাফ রির্পোটার।

আপলোড সময় : ২৪ অক্টোবর ২০২৬, বিকাল ৭:৫১ সময় , আপডেট সময় : ২৪ অক্টোবর ২০২৬, বিকাল ৭:৫১ সময়
ইরানের ভূখণ্ডে নতুন করে কোনো সামরিক আগ্রাসন চালানো হলে তেহরান কেবল প্রথাগত প্রতিশোধমূলক পদক্ষেপে সীমাবদ্ধ থাকবে না; প্রয়োজনে প্রতিবেশী দেশগুলোতেও সামরিক অভিযান পরিচালনা করবে। একই সঙ্গে মার্কিন সামরিক কার্যক্রমে ব্যবহৃত ঘাঁটিগুলোকেও লক্ষ্যবস্তু বানানোর হুশিয়ারি দেওয়া হয়েছে। নিজেদের সামরিক ও প্রতিরক্ষানীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তনের ঘোষণা দিয়ে এই কঠোর সতর্কবার্তা দিয়েছে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)।

গত বুধবার প্রকাশিত এই বিবৃতির পর থেকেই কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জলযানে হামলার মাত্রা বেড়ে গেছে। এর ফলে দীর্ঘ আট মাস ধরে চলা মধ্যপ্রাচ্য সংকট নিরসনে চলমান কূটনৈতিক প্রচেষ্টার ভবিষ্যৎ চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। ইয়েমেনের বিদ্রোহী গোষ্ঠী হুদিদের ধারাবাহিক হামলার জেরে সৌদি আরব থেকে জরুরি দায়িত্বে নিয়োজিত নন এমন মার্কিন কূটনৈতিক কর্মী ও তাঁদের পরিবারকে সরিয়ে নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করেছে ওয়াশিংটন। ইতোমধ্যে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছেন যে বর্তমান আঞ্চলিক পরিস্থিতি নিয়ে তিনি অতিদ্রুত গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে পারেন।

ইরানের নতুন সামরিক কৌশলের রূপরেখা
চলতি ও বিগত বছরের সংঘাত থেকে কৌশলগত শিক্ষা নিয়ে নিজেদের সুরক্ষাব্যূহ বদলাচ্ছে তেহরান। অতীতে কেবল শত্রুর হামলার জবাবে পাল্টাকৌশল গ্রহণ করলেও তাতে কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়া যায়নি বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

আইআরজিসির মুখপাত্র হোসেইন মোহেবি জানান, তাঁদের পূর্ববর্তী প্রতিরক্ষানীতি পুরোপুরি আত্মরক্ষামূলক ছিল। কিন্তু পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে নতুন নীতিটিকে ‘আক্রমণাত্মক ও অসমতাভিত্তিক (অফেনসিভ অ্যান্ড অ্যাসিমেট্রিক্যাল)’ হিসেবে সাজানো হয়েছে। অর্থাৎ, কোনো দেশ আক্রমণ চালালে ইরান কেবল তার জবাবই দেবে না, বরং প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে আরও বিস্তৃত পরিসরে আক্রমণাত্মক অভিযান চালাবে।

আইআরজিসির দাবি অনুযায়ী:

২০২৫ সালের জুনে ইসরায়েলের সঙ্গে ১২ দিনের যুদ্ধের পর থেকে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত দেড় গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে।

ক্ষেপণাস্ত্রের পাল্লা, ধ্বংসাত্মক ক্ষমতা এবং নিখুঁত নিশানাভেদের কার্যকারিতাও আগের চেয়ে অনেক উন্নত হয়েছে।

খুব শীঘ্রই ‘ফাদার অব অল বম্বস’ বা সব বোমার জনক নামক সম্পূর্ণ নতুন একটি ধ্বংসাত্মক অস্ত্র জনসমক্ষে আনার প্রস্তুতি চলছে।

হরমুজ প্রণালিতে জাহাজে হামলা ও জ্বালানি বাজারের অস্থিরতা
ইরানি বাহিনীর নতুন এই নীতির ঘোষণার মাঝেই হরমুজ প্রণালি ও সংলগ্ন জলসীমায় জাহাজ চলাচলের ওপর হামলার ঘটনা ঘটছে। গত বৃহস্পতিবার আইআরজিসির নৌবাহিনী জানায়, পারস্য উপসাগরের উত্তরাঞ্চলে অবৈধভাবে তেল স্থানান্তরের অভিযোগে চারটি জাহাজে হামলা চালানো হয়েছে। এছাড়া প্রণালির পশ্চিম অংশে সামুদ্রিক মাইনের আঘাতে আরও তিনটি জলযান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথে নতুন করে অস্থিরতা তৈরি হওয়ায় বিশ্ববাজারে এর তাৎক্ষণিক প্রভাব পড়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম প্রতি ব্যারেল ১১০ মার্কিন ডলার ছাড়িয়ে গেছে।

কৌশল পরিবর্তনের নেপথ্য কারণ
সেন্টার ফর ইন্টারন্যাশনাল পলিসির জ্যেষ্ঠ ফেলো নেগার মোর্তাজাভির মতে, নতুন এই সামরিক নীতির মাধ্যমে তেহরান ওয়াশিংটন ও তেল আবিবকে স্পষ্ট বার্তা দিতে চাইছে যে, ইরানে যেকোনো সামরিক অভিযানের চড়া মূল্য পরিশোধ করতে হবে। প্রচলিত সামরিক শক্তিতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সমকক্ষ না হওয়ায় ইরান মূলত অসমতাভিত্তিক যুদ্ধকৌশল, ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রযুক্তির পাশাপাশি হরমুজ প্রণালির ভূ-রাজনৈতিক প্রভাবকে কাজে লাগাতে চাইছে। তেহরানের মূল লক্ষ্য হলো ওয়াশিংটনের ওপর বহুমুখী চাপ সৃষ্টি করা, যার প্রভাব আসন্ন মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনেও পড়তে পারে।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের অবস্থান
যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে ইরানের সঙ্গে বর্তমান শান্তি আলোচনা স্থবির রয়েছে। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও স্পষ্ট করেছেন যে, হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা বন্ধ না হলে কোনো চুক্তিতে পৌঁছানো সম্ভব নয় এবং ইরানকে কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র অর্জনের সুযোগ দেওয়া হবে না।

অন্যদিকে, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ইরানের বর্তমান সরকারকে উৎখাত এবং তাদের পরমাণু কর্মসূচি পুরোপুরি ধ্বংস করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছেন।

আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক প্রভাব
রাজনৈতিক বিশ্লেষক রামি খুরির মতে, ইরানের নতুন রণকৌশলের অন্যতম প্রধান উদ্দেশ্য হলো যুদ্ধের ক্ষয়ক্ষতি ও পরিণতি কেবল নিজেদের ভূখণ্ডের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে তা যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল এবং তাদের আঞ্চলিক মিত্রদেরও ভোগ করতে বাধ্য করা। নতুন করে বড় ধরনের সামরিক সংঘাত ছড়িয়ে পড়লে তার মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব বিশ্ব অর্থনীতি, জ্বালানি সরবরাহ এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ওপর পড়বে বলে সতর্ক করেছেন সংশ্লিষ্টরা।

সম্পাদকীয় :

সম্পাদকঃ মো: ফারুক হোসেইন,

এক্সিকিউটিভ এডিটরঃ ড. আব্দুর রহিম খান,

প্রকাশকঃ মো: মতিউর রহমান।


অফিস :

অফিস : রুপায়ন জেড. আর প্লাজা (৯তলা), প্লট- ৪৬,রোড নং- ৯/এ, সাতমসজিদ রোড, ধানমন্ডি, ঢাকা- ১২০৯।

ইমেইল : info@banglann.com.bd, banglanewsnetwork@gmail.com

মোবাইল : +৮৮ ০২ ২২২২৪৬৯১৮, ০২২২২২৪৬৪৪৯