সিলেটের বিখ্যাত দরগাহ হজরত শাহজালাল (রহ.)-এর মাজারে পঞ্চমবারের মতো দানবাক্স ও তবারক তৈরির ডেগ খুলে অর্থ গণনার কাজ শুরু করা হয়েছে। শনিবার (২৪ অক্টোবর) সকালে জেলা প্রশাসনের সিলগালা করা ডেগ ও সম্প্রতি বসানো দানবাক্সগুলো উন্মুক্ত করে মাজার চত্বরে এই গণনা কার্যক্রম শুরু হয়।
সিলেটের জেলা প্রশাসক আবদুল্লাহ আল মামুন, প্রশাসনের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা এবং মাজার পরিচালনা কমিটির দায়িত্বশীলদের উপস্থিতিতে সিন্দুক ও ডেগের তালা খোলা হয়। এরপর উপস্থিত সদস্যরা জমানো টাকা গণনার কাজ শুরু করেন।
এর আগে চতুর্থ দফায় মাজারের ডেগ ও দানবাক্স সিন্দুক উন্মোচন করে মোট ৮৮ লাখ ৯২ হাজার ৯৬৬ টাকা সংগ্রহ করা হয়েছিল। পাশাপাশি বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা ও সোনার অলংকার জমা পড়েছিল। জেলা প্রশাসক আবদুল্লাহ আল মামুন সাংবাদিকদের অবহিত করেন, আপাতত মাসে অন্তত একবার মাজারের দানবাক্স ও ডেগ খুলে প্রাপ্ত অর্থ হিসাব করা হবে। পরবর্তীতে একজন অ্যাকাউন্ট ম্যানেজার ও একজন কম্পিউটার অপারেটর নিয়োগের চিন্তাভাবনা চলছে। তাঁরা দায়িত্ব নিলে প্রতিদিনের জমানো টাকা প্রতিদিনই গণনা ও হিসাব রাখা সম্ভব হবে।
মাজারের সকল আর্থিক পরিচালনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি আনতে গত ২৩ সেপ্টেম্বর পরিচালনা কমিটির বৈঠকে অর্জিত আয় খরচের নতুন রূপরেখা অনুমোদিত হয়। গৃহীত নীতিমালা অনুসারী, মাজারের আয়ের ৩৫ শতাংশ অবকাঠামোগত উন্নয়নকাজে এবং অবশিষ্ট ৬৫ শতাংশ অন্যান্য প্রশাসনিক ও প্রশাসনিক সেবা খাতে ব্যয় করা হবে। ঐ সভায় সভাপতিত্ব করেন আর্থিক স্বচ্ছতা নিশ্চিতকরণে গঠিত কমিটির প্রধান ও বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির।
উল্লেখ্য, চলতি বছরের ২২ জুন, ১১ জুলাই, ১৫ আগস্ট ও ১৯ সেপ্টেম্বর চার দফায় একইভাবে ডেগ ও দানবাক্স খুলে অর্থ গণনা সম্পন্ন হয়েছিল। সংগৃহীত সব অর্থ জেলা প্রশাসকের তত্ত্বাবধানে একটি নতুন ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খুলে সেখানে গচ্ছিত রাখা হচ্ছে।
শনিবার পঞ্চম পর্যায়ের এই টাকা গণনা শুরু হলেও এবার ঠিক কত পরিমাণ নগদ অর্থ ও দান পাওয়া গেছে, তা সম্পূর্ণ গণনা শেষ হওয়ার পর আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হবে।