সৌদি আরব ও ইয়েমেনের হুতি গোষ্ঠীর দীর্ঘদিনের বিরোধে এবার নতুন করে আলোচনায় এসেছে যুক্তরাষ্ট্রের কুখ্যাত যৌন অপরাধী জেফরি এপস্টিনের নাম। মার্কিন বিচার বিভাগের প্রকাশিত এপস্টিন-সংক্রান্ত নথিতে পবিত্র কাবা শরিফের গিলাফের মতো নকশা করা কাপড় তাঁর কাছে পাঠানোর তথ্য উঠে এসেছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। আর এই তথ্যকে কেন্দ্র করেই সৌদি আরবের বিরুদ্ধে নতুন প্রচারণা শুরু করেছে হুতি গোষ্ঠী। তবে নথিতে উঠে আসা তথ্য এবং এ নিয়ে হুতিদের অভিযোগের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে, যা নিয়ে সতর্ক থাকা জরুরি।
শনিবার, ২৪ অক্টোবর, নিউইয়র্ক টাইমসের তথ্যের ভিত্তিতে ভারতের সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি এ বিষয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করে। প্রতিবেদনে বলা হয়, সৌদি রাজপরিবারের সহযোগীদের মাধ্যমে কাবার গিলাফের আদলে তৈরি নকশাদার কাপড় এপস্টিনের কাছে পাঠানোর তথ্য সামনে আসার পর বিষয়টি রাজনৈতিক প্রচারণায় ব্যবহার করছে হুতিরা।
হুতি গোষ্ঠী নিজেদের সংবাদমাধ্যম, নেতাদের বক্তব্য, ভিডিও, গান এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পরিচিত ব্যক্তিদের মাধ্যমে সৌদি আরবের বিরুদ্ধে প্রচারণা চালাচ্ছে। তাদের এই প্রচারণার লক্ষ্য সৌদি নেতৃত্বের ভাবমূর্তি নিয়ে প্রশ্ন তোলা এবং চলমান রাজনৈতিক বিরোধে জনমতকে প্রভাবিত করা। এর আগে গত মাসে মক্কাকে লক্ষ্য করে হুতিদের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার অভিযোগ তুলেছিল রিয়াদ। তবে হুতি নেতৃত্ব সেই অভিযোগ অস্বীকার করেছে। হুতি প্রেসিডেন্ট মাহদি আল-মাশাত পাল্টা বক্তব্যে দাবি করেন, যারা এপস্টিনকে কাবার গিলাফের মতো কাপড় উপহার দিয়েছে, তারাই মক্কাকে লক্ষ্যবস্তু বানাচ্ছে। তবে এই বক্তব্য হুতি পক্ষের দাবি; এর পক্ষে স্বাধীনভাবে যাচাই করা প্রমাণ প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি।
সৌদি আরবের বিরুদ্ধে প্রচারণায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকেও ব্যাপকভাবে ব্যবহার করছে হুতিরা। এক্সে ২৭ লাখের বেশি অনুসারী থাকা ইয়েমেনি কৌতুক অভিনেতা মুস্তফা আল-মোমারি সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের সমালোচনা করে ভিডিও প্রকাশ করেছেন। স্থানীয় শিল্পীরাও এ বিষয় নিয়ে গান তৈরি করেছেন বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।
এ ছাড়া হুতি নেতা আব্দুল মালেক আল-হুতি বিভিন্ন ভাষণে এপস্টিন-সংক্রান্ত নথির প্রসঙ্গ তুলে ধরেছেন। তিনি বিষয়টিকে ইহুদিবাদী তৎপরতার অংশ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। অন্যদিকে, হুতিদের এই প্রচারণা ইয়েমেনের বাইরেও আলোচনায় এসেছে। যুক্তরাষ্ট্রের ডানপন্থী পডকাস্টার জেক শিল্ডসের মতো ব্যক্তিরাও হুতিদের অবস্থানের প্রশংসা করেছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে এপস্টিন-সংক্রান্ত নথির তথ্য নিয়ে সৌদি কর্তৃপক্ষের কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। একইভাবে, হুতিদের প্রচারণায় উত্থাপিত অভিযোগগুলোর সত্যতা সম্পর্কেও স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়ার মতো বিস্তারিত তথ্য সামনে আসেনি। সব মিলিয়ে, সৌদি আরব ও হুতি গোষ্ঠীর দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক ও সামরিক বিরোধে এবার এপস্টিন-সংক্রান্ত নথি নতুন প্রচারণার উপাদান হয়ে উঠেছে। কিন্তু নথিতে কোনো তথ্যের উল্লেখ থাকা এবং সেই তথ্যের ভিত্তিতে উত্থাপিত রাজনৈতিক অভিযোগ প্রমাণিত হওয়া এক বিষয় নয়। তাই এ বিতর্কের প্রকৃত চিত্র বুঝতে নথির নির্ভরযোগ্যতা, সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর বক্তব্য এবং স্বাধীন যাচাইয়ের দিকে নজর রাখা প্রয়োজন।