রাজনীতির মঞ্চে দেশপ্রেমের কথা বলেন নেতারা, কিন্তু নিজেদের সন্তানের ভবিষ্যৎ গড়তে বেছে নেন বিদেশের নিরাপদ জীবন। অন্যদিকে, সেই

নিজের ছেলে লন্ডনে পড়ে, পরের ছেলে রাস্তায় মরে: চিফ হুইপের মন্তব্যের জবাবে হাসনাত

নিউজটি প্রতিবেদন করেছেন: নিউজ ডেস্ক।

আপলোড সময় : ১৮ অক্টোবর ২০২৬, দুপুর ২:২৪ সময় , আপডেট সময় : ১৮ অক্টোবর ২০২৬, দুপুর ২:২৪ সময়

রাজনীতির মঞ্চে দেশপ্রেমের কথা বলেন নেতারা, কিন্তু নিজেদের সন্তানের ভবিষ্যৎ গড়তে বেছে নেন বিদেশের নিরাপদ জীবন। অন্যদিকে, সেই নেতাদের পেছনে স্লোগান দিতে গিয়ে সাধারণ কর্মীদের সন্তানদের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়ে—এমনই তীব্র বৈষম্যের অভিযোগ তুলে রাজনীতিতে নতুন করে বিতর্ক সৃষ্টি করেছেন সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ।


জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মণির সাম্প্রতিক এক বক্তব্যকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন কুমিল্লা-৪, দেবীদ্বার আসনের সংসদ সদস্য এবং জাতীয় নাগরিক পার্টির দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ। চিফ হুইপ তাঁর বক্তব্যে নিজের তিন ছেলের প্রসঙ্গ টেনে বলেন, তাঁরা যুক্তরাষ্ট্রে থাকেন, জন্ম থেকেই সেখানকার নাগরিক এবং ভালো চাকরি করে শান্তিতে জীবনযাপন করছেন। তাঁর এই বক্তব্যের পর রাজনীতিবিদদের সন্তানদের জীবনযাপন এবং সাধারণ রাজনৈতিক কর্মীদের পরিবারের বাস্তবতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন হাসনাত আবদুল্লাহ।


সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া প্রতিক্রিয়ায় তিনি রাজনীতিবিদদের কথিত দ্বিমুখী আচরণের সমালোচনা করেন। তাঁর বক্তব্য, দেশের রাজনীতিবিদেরা নিজেদের সন্তানদের ভবিষ্যৎ নিরাপদ করতে বিদেশে পাঠান, অথচ দেশের সাধারণ পরিবারের সন্তানদের রাজনৈতিক কর্মসূচি ও স্লোগান দেওয়ার কাজে ব্যবহার করেন। এতে অনেক তরুণ নিজেদের জীবন, সময় এবং পরিবারের প্রতি দায়িত্ব পালনের সুযোগ হারান বলে মন্তব্য করেন তিনি।


সাধারণ কর্মীদের পরিবারের আর্থিক সংকটের প্রসঙ্গ তুলে হাসনাত আরও বলেন, অর্থের অভাবে অসহায় কর্মীর সন্তানকে চিকিৎসার জন্য হিমশিম খেতে হয়। অন্যদিকে, রাজনীতিবিদদের সন্তানেরা বিদেশে উন্নত সুযোগ-সুবিধার মধ্যে জীবন কাটান। তাঁর এই বক্তব্যে উঠে এসেছে রাজনৈতিক নেতৃত্বের পরিবার এবং মাঠপর্যায়ের কর্মীদের পরিবারের মধ্যে সুযোগ-সুবিধার বৈষম্যের বিষয়টি।


নিজের বক্তব্যের সবচেয়ে তীক্ষ্ণ অংশে হাসনাত আবদুল্লাহ লেখেন, ‘নিজের ছেলে লন্ডনে পড়ে, পরের ছেলে রাস্তায় মরে।’ এই মন্তব্যের মাধ্যমে তিনি এমন রাজনীতির সমালোচনা করেছেন, যেখানে নেতাদের পরিবারের নিরাপত্তা ও ভবিষ্যৎ নিশ্চিত হলেও সাধারণ কর্মীদের জীবন ও ভবিষ্যৎ ঝুঁকির মুখে পড়ে বলে তাঁর অভিযোগ। তিনি সাধারণ তরুণদের প্রচলিত অন্ধ রাজনৈতিক আনুগত্য থেকে বেরিয়ে এসে নিজেদের ভবিষ্যৎ ও পরিবারের দায়িত্ব সম্পর্কে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।


হাসনাত আবদুল্লাহর এই প্রতিক্রিয়া রাজনৈতিক অঙ্গনে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন সামনে এনেছে—রাজনীতির মাঠে যারা নেতাদের জন্য সময়, শ্রম ও জীবনের ঝুঁকি নেন, তাঁদের পরিবার ও ভবিষ্যতের দায়িত্ব কে নেবে? রাজনৈতিক নেতৃত্বের সন্তানদের জন্য বিদেশে নিরাপদ ভবিষ্যৎ গড়ার সুযোগ থাকলেও সাধারণ কর্মীদের সন্তানদের কেন একই ধরনের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হতে হবে?


তবে বিষয়টি নিয়ে বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে চিফ হুইপের বক্তব্যের ব্যাখ্যা এবং হাসনাত আবদুল্লাহর উত্থাপিত বৈষম্যের অভিযোগ। রাজনৈতিক বক্তব্যের বাইরে গিয়ে বাস্তব পরিস্থিতি যাচাই এবং সাধারণ কর্মীদের পরিবারগুলোর জন্য শিক্ষা, চিকিৎসা ও জীবিকার সুযোগ নিশ্চিত করা—এই প্রশ্নগুলোই এখন আলোচনায় গুরুত্ব পাচ্ছে।

সম্পাদকীয় :

সম্পাদকঃ মো: ফারুক হোসেইন,

এক্সিকিউটিভ এডিটরঃ ড. আব্দুর রহিম খান,

প্রকাশকঃ মো: মতিউর রহমান।


অফিস :

অফিস : রুপায়ন জেড. আর প্লাজা (৯তলা), প্লট- ৪৬,রোড নং- ৯/এ, সাতমসজিদ রোড, ধানমন্ডি, ঢাকা- ১২০৯।

ইমেইল : info@banglann.com.bd, banglanewsnetwork@gmail.com

মোবাইল : +৮৮ ০২ ২২২২৪৬৯১৮, ০২২২২২৪৬৪৪৯