দুর্গাপূজার আনন্দে যখন সারা দেশের সনাতন ধর্মাবলম্বীরা মেতে উঠেছেন, ঠিক সেই সময়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের একটি বার্তা নতুন

‘ধর্ম যার যার-নিরাপত্তা পাবার অধিকার সবার, নিশ্চিন্তে দুর্গাপূজা উদযাপন করুন’

নিউজটি প্রতিবেদন করেছেন: নিউজ ডেস্ক।

আপলোড সময় : ১৭ অক্টোবর ২০২৬, দুপুর ৪:৩৯ সময় , আপডেট সময় : ১৭ অক্টোবর ২০২৬, দুপুর ৪:৩৯ সময়

দুর্গাপূজার আনন্দে যখন সারা দেশের সনাতন ধর্মাবলম্বীরা মেতে উঠেছেন, ঠিক সেই সময়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের একটি বার্তা নতুন করে সামনে এনেছে ধর্মীয় সম্প্রীতি, নিরাপত্তা ও সবার সমান অধিকারের বিষয়টি। তিনি বলেছেন, “ধর্ম যার যার, রাষ্ট্র সবার। ধর্ম যার যার, নিরাপত্তা পাবার অধিকার সবার।” শুধু শুভেচ্ছা জানানোই নয়, দেশের হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষকে নিশ্চিন্তে ও নিরাপদে উৎসব উদযাপনের আহ্বানও জানিয়েছেন তিনি।


শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর রাতে নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পাতায় দেওয়া এক বার্তায় বাংলাদেশসহ বিশ্বের সব সনাতন ধর্মাবলম্বীকে শারদীয় দুর্গাপূজার শুভেচ্ছা জানান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। শুভেচ্ছা বার্তায় তিনি বলেন, দুর্গাপূজা হিন্দু সম্প্রদায়ের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব। হিন্দুধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, জগতের মঙ্গল সাধনের জন্য দেবী দুর্গার আগমন ঘটে মর্ত্যলোকে। অশুভ শক্তির বিনাশ, সত্যের প্রতিষ্ঠা এবং সুন্দরের আরাধনার মধ্য দিয়ে দুর্গোৎসবের বিশেষ তাৎপর্য প্রকাশ পায়।


প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, বাংলাদেশের মানুষ দীর্ঘদিন ধরেই বিভিন্ন ধর্মীয় উৎসব পারস্পরিক আনন্দ, উৎসাহ ও সম্প্রীতির মধ্য দিয়ে পালন করে আসছেন। বিভিন্ন ধর্ম, গোষ্ঠী ও সম্প্রদায়ের মানুষের নিজ নিজ ধর্ম পালনের স্বাধীনতা বাংলাদেশের সামাজিক মূল্যবোধ ও সংস্কৃতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তাঁর মতে, ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক উৎসব শুধু আনন্দ উদযাপনের উপলক্ষ নয়, বরং এসব আয়োজনের মধ্য দিয়ে মানুষের মধ্যে বন্ধুত্ব, সৌহার্দ্য, পারস্পরিক শ্রদ্ধা এবং ভ্রাতৃত্বের বন্ধন আরও দৃঢ় হয়। বহুমাত্রিক এই সমাজের সৌন্দর্য ধরে রাখতে হলে সব সম্প্রদায়ের মানুষের মধ্যে পারস্পরিক সম্মান বজায় রাখা জরুরি।


বার্তায় তারেক রহমান সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক সুবিচারের ওপরও গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, মানবতার কল্যাণ সব ধর্মের অন্যতম প্রধান শিক্ষা। তাই প্রত্যেকের নিজস্ব ধর্মীয় বিধান ও সংস্কৃতি অনুসরণের পাশাপাশি অন্যের প্রতি শ্রদ্ধা, সম্মান ও সহমর্মিতা বজায় রাখতে হবে। সমাজে শান্তি প্রতিষ্ঠা এবং সেই শান্তিপূর্ণ পরিবেশ ধরে রাখা সবার দায়িত্ব।


দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও ভবিষ্যৎ নিয়েও বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, বহু প্রাণের বিনিময়ে ফ্যাসিবাদের অবসানের পর বাংলাদেশ আবার গণতন্ত্রের পথে যাত্রা শুরু করেছে। একই সঙ্গে শুরু হয়েছে দেশ পুনর্গঠনের বিশাল কর্মযজ্ঞ। দল, মত, ধর্ম ও বর্ণনির্বিশেষে সব নাগরিকের জন্য একটি কল্যাণমূলক, নিরাপদ ও মানবিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করাই সরকারের অঙ্গীকার বলে উল্লেখ করেন তিনি।


সনাতন ধর্মাবলম্বীদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী আবারও উৎসবের শুভেচ্ছা জানিয়ে বলেন, দেশের হিন্দু সম্প্রদায়ের ভাইবোনেরা যেন উৎসাহ ও উদ্দীপনার সঙ্গে, নিশ্চিন্তে এবং নিরাপদে দুর্গাপূজা উদযাপন করতে পারেন। এদিকে, এর আগের দিন সকালে মন্দিরে মন্দিরে কল্পারম্ভ ও বিহিত পূজার মধ্য দিয়ে এবারের দুর্গোৎসবের মূল আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়েছে। বুধবার বিজয়া দশমীতে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে উৎসবের সমাপ্তি হওয়ার কথা রয়েছে।


সব মিলিয়ে, প্রধানমন্ত্রীর এই শুভেচ্ছা বার্তায় ধর্মীয় স্বাধীনতা, নাগরিকের নিরাপত্তা এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির বিষয়গুলো বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। উৎসবের আনন্দ যেন সব সম্প্রদায়ের মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে এবং প্রত্যেকে যেন নিরাপদে নিজ নিজ ধর্মীয় অনুষ্ঠান পালন করতে পারেন—এটাই এখন সবার প্রত্যাশা।

সম্পাদকীয় :

সম্পাদকঃ মো: ফারুক হোসেইন,

এক্সিকিউটিভ এডিটরঃ ড. আব্দুর রহিম খান,

প্রকাশকঃ মো: মতিউর রহমান।


অফিস :

অফিস : রুপায়ন জেড. আর প্লাজা (৯তলা), প্লট- ৪৬,রোড নং- ৯/এ, সাতমসজিদ রোড, ধানমন্ডি, ঢাকা- ১২০৯।

ইমেইল : info@banglann.com.bd, banglanewsnetwork@gmail.com

মোবাইল : +৮৮ ০২ ২২২২৪৬৯১৮, ০২২২২২৪৬৪৪৯