বাংলাদেশ ও আজারবাইজানের মধ্যে এবার বিমান যোগাযোগ, জ্বালানি সরবরাহ এবং দক্ষ জনশক্তি পাঠানোর ক্ষেত্রে সহযোগিতা বাড়ানোর আলোচনা হয়েছে। এর পাশাপাশি সংঘাতের মধ্যে ইরানে আটকে পড়া বাংলাদেশিদের নিরাপদে সরিয়ে আনতে সহায়তা করায় আজারবাইজানের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছে বাংলাদেশ। দুই দেশের সম্পর্ক আরও এগিয়ে নিতে বাকুতে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করেছেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির ও আজারবাইজানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জেহুন বায়রামভ। শুক্রবার ১৬ অক্টোবর আজারবাইজানের রাজধানী বাকুতে অনুষ্ঠিত দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে দুই দেশের পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন তারা। বৈঠকে বিমান যোগাযোগ সহজ করা, দক্ষ জনশক্তির অভিবাসন এবং জ্বালানি সরবরাহসহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ খাতে সহযোগিতা আরও জোরদার করার বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয়।
বৈঠকে আজারবাইজানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বাংলাদেশকে তার দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হিসেবে উল্লেখ করেন। একই সঙ্গে আগামী দিনগুলোতে দুই দেশের সম্পর্ক আরও গতিশীল হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি। এ ছাড়া সিআইসিএ শীর্ষ সম্মেলনে অংশ নেওয়ার জন্য বাংলাদেশের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানান জেহুন বায়রামভ। অন্যদিকে, চলমান সংঘাতের কারণে ইরানে আটকে পড়া বাংলাদেশি নাগরিকদের নিরাপদে সরিয়ে আনার ক্ষেত্রে সহযোগিতার জন্য আজারবাইজানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন হুমায়ুন কবির। সংকটের সময়ে বাংলাদেশি নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এই সহযোগিতাকে দুই দেশের সম্পর্কের গুরুত্বপূর্ণ একটি দিক হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বিমান যোগাযোগ, জ্বালানি এবং জনশক্তি অভিবাসনের মতো খাতে সহযোগিতা বাড়ানো গেলে দুই দেশের অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক সম্পর্ক আরও বিস্তৃত হওয়ার সুযোগ তৈরি হতে পারে। তবে এসব আলোচনার বাস্তব অগ্রগতি নির্ভর করবে ভবিষ্যতে নেওয়া সিদ্ধান্ত ও যৌথ উদ্যোগের ওপর। সব মিলিয়ে, বাকুর এই বৈঠকে দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা বাড়ানোর পাশাপাশি সংকটের সময়ে বাংলাদেশের নাগরিকদের পাশে দাঁড়ানোর বিষয়টিও গুরুত্ব পেয়েছে। এখন দেখার বিষয়, আলোচনায় উঠে আসা প্রস্তাবগুলো বাস্তবে কতটা কার্যকর হয় এবং বাংলাদেশ-আজারবাইজান সম্পর্ক কোন পথে এগিয়ে যায়।