ইরানের অস্ত্রভান্ডারে যুক্ত হয়েছে আরও শক্তিশালী অস্ত্র! যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সম্ভাব্য নতুন হামলার আশঙ্কার মধ্যেই এমন দাবি করেছে দেশটির ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী। অন্যদিকে ইরানে হামলার সময় এখন অনুকূল নয় বলে মন্তব্য করেছেন ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। একই সময়ে যুক্তরাজ্যের সামরিক ঘাঁটিসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় হামলার চেষ্টা নিয়ে ইরানের বিরুদ্ধে গুরুতর সতর্কবার্তা দিয়েছে ব্রিটিশ গোয়েন্দা সংস্থা। তাহলে কি মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত আবারও নতুন দিকে মোড় নিতে যাচ্ছে?
ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর মুখপাত্র হোসেইন মোহেব্বির দাবি, ৪০ দিনের যুদ্ধের পর ইরানের সামরিক সক্ষমতা আগের চেয়ে বেড়েছে। দেশটির অস্ত্রভান্ডারে যুক্ত হয়েছে আরও উন্নত অস্ত্র। তবে কী ধরনের অস্ত্র যুক্ত হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানাননি তিনি। মোহেব্বি আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের জন্য ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে যুদ্ধ শুরু করা হবে অযৌক্তিক সিদ্ধান্ত। তবে নতুন করে সংঘাত শুরু হওয়ার আশঙ্কাও উড়িয়ে দিচ্ছে না তেহরান। তার দাবি, যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক সাফল্য দেখানোর প্রয়োজন থেকে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন ইরানের বিরুদ্ধে নতুন সামরিক পদক্ষেপ নিতে পারে। ইরানের ওপর আবারও হামলা হলে এবার আগের চেয়ে আরও শক্তিশালী জবাব দেওয়া হবে বলেও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ইরানে নতুন করে হামলা চালাতে ট্রাম্পের ওপর চাপ সৃষ্টি করেছেন ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু—এমন খবর প্রকাশ করেছে ইসরাইলি সংবাদমাধ্যম চ্যানেল টুয়েলভ। তবে নেতানিয়াহু বলেছেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে ইরানের ওপর হামলা চালানো সুবিধাজনক হবে না। কেন এই মুহূর্তে হামলা উপযুক্ত নয়, সে বিষয়ে অবশ্য বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেননি তিনি।
আগামী ২৭ অক্টোবর ইসরাইলের পার্লামেন্ট নির্বাচন এবং ৪ নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। এই দুই নির্বাচনকে সামনে রেখে ইরানকে ঘিরে ওয়াশিংটন ও তেল আবিবের সামরিক পরিকল্পনা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে ইরানে হামলার কোনো তাৎক্ষণিক পরিকল্পনা রয়েছে কি না, সে বিষয়ে নেতানিয়াহুর বক্তব্য থেকে স্পষ্ট কোনো সিদ্ধান্ত পাওয়া যায়নি।
অন্যদিকে সম্ভাব্য মার্কিন ও ইসরাইলি হামলার আশঙ্কায় নিজেদের সামরিক প্রস্তুতি জোরদার করছে ইরান। প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, প্রতিপক্ষ হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে নিশ্চিত হলে ইরান আগে থেকেই আঘাত হানতে পারে—এমন আশঙ্কাও রয়েছে। ফলে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। এদিকে ইরানকে ঘিরে উদ্বেগ শুধু মধ্যপ্রাচ্যেই সীমাবদ্ধ নেই। যুক্তরাজ্যের অভ্যন্তরীণ গোয়েন্দা সংস্থা এমআইফাইভের প্রধান কেন ম্যাককালাম সতর্ক করে বলেছেন, দেশটিতে সামরিক স্থাপনাসহ বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে হামলার চেষ্টা বাড়াচ্ছে ইরান।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, গত মাসে রয়্যাল এয়ার ফোর্সের ফেয়ারফোর্ড ঘাঁটিতে হামলার একটি কথিত ষড়যন্ত্রের সঙ্গে ইরানের সংশ্লিষ্টতা থাকার সম্ভাবনাকে অত্যন্ত জোরালো বলে মন্তব্য করেছেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহ্যাম। এই ঘাঁটি ব্যবহার করেই মার্কিন বোমারু বিমান ইরানে হামলা চালিয়েছিল বলে জানা গেছে। তবে ফেয়ারফোর্ড ঘাঁটির ঘটনায় ইরানের সংশ্লিষ্টতা নিয়ে তদন্ত এখনো শেষ হয়নি। এ কারণে বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা সম্ভব নয় বলে জানিয়েছেন এমআইফাইভের প্রধান। তার ভাষ্য, চলতি বছরে সামরিক স্থাপনার মতো সুরক্ষিত লক্ষ্যবস্তুতে হামলার ক্ষেত্রে ইরানের তৎপরতায় উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন দেখা গেছে। ঘটনাটি বিচ্ছিন্ন নয়, বিশ্বের অন্যান্য স্থানেও এ ধরনের ঘটনা ঘটেছে বলেও সতর্ক করেছেন তিনি।
সব মিলিয়ে ইরানের সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধির দাবি, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সম্ভাব্য নতুন হামলার আশঙ্কা এবং যুক্তরাজ্যের নিরাপত্তা নিয়ে গোয়েন্দা সতর্কতা—সবকিছু মিলিয়ে আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠছে। এখন নজর, তেহরান ও ওয়াশিংটন কি নতুন সংঘাতের পথে এগোবে, নাকি শেষ পর্যন্ত কূটনৈতিক সমাধানের সুযোগ তৈরি হবে।