সরকারের গোপন তথ্য সংবাদমাধ্যমের কাছে ফাঁস করলে কি কাউকে গুলি করে হত্যা করা উচিত? এমনই কঠোর মন্তব্য করে

তথ্য ফাঁসকারীদের ‘গুলি করে মারা’ উচিত: ট্রাম্প

নিউজটি প্রতিবেদন করেছেন: নিউজ ডেস্ক।

আপলোড সময় : ১৫ অক্টোবর ২০২৬, সকাল ৯:৪৮ সময় , আপডেট সময় : ১৫ অক্টোবর ২০২৬, সকাল ৯:৪৮ সময়

সরকারের গোপন তথ্য সংবাদমাধ্যমের কাছে ফাঁস করলে কি কাউকে গুলি করে হত্যা করা উচিত? এমনই কঠোর মন্তব্য করে নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তাঁর দাবি, সামরিক অভিযানসংক্রান্ত গোপন তথ্য ফাঁসকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হওয়া উচিত। এমনকি তাঁদের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া কিংবা গুলি করে হত্যার কথাও বলেছেন তিনি। ট্রাম্পের এই বক্তব্য ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রে তথ্যের গোপনীয়তা, সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা এবং সরকারি জবাবদিহি নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।


বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়, আগামী ৩ নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচন সামনে রেখে অ্যারিজোনার বুলহেড সিটিতে আয়োজিত এক নির্বাচনী জনসভায় সমর্থকদের উদ্দেশে বক্তব্য দেওয়ার সময় ট্রাম্প এই মন্তব্য করেন। সেখানে তিনি অতীতে সামরিক অভিযানের সময়সূচি ফাঁসের ঘটনায় কঠোর শাস্তির উদাহরণ টেনে নিজের ক্ষোভ প্রকাশ করেন।


ট্রাম্পের এই ক্ষোভের পেছনে রয়েছে ২০২৫ সালের জুনে ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে সংঘটিত ১২ দিনের যুদ্ধের সময় যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানসংক্রান্ত তথ্য প্রকাশের ঘটনা। ওই সময় ‘অপারেশন মিডনাইট হ্যামার’ নামের মার্কিন অভিযানের বিভিন্ন তথ্য নিউইয়র্ক টাইমস ও সিএনএনের মতো সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছিল। এসব প্রতিবেদনে মার্কিন প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা সংস্থার তথ্যের বরাতে বলা হয়, ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় হামলার ক্ষয়ক্ষতি ট্রাম্পের প্রকাশ্য দাবির তুলনায় কম হতে পারে। পাশাপাশি, ইরান তার সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত অন্যত্র সরিয়ে নিতে পেরেছিল বলেও প্রতিবেদনে দাবি করা হয়।


তবে এসব তথ্য প্রকাশের বিষয়ে ট্রাম্পের অভিযোগ, সামরিক অভিযানের গোপন তথ্য ফাঁস করে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা মার্কিন সেনাদের জীবন ঝুঁকির মুখে ফেলেছেন। তাঁর দাবি, অভিযানের সময়সূচি ফাঁস হয়ে যাওয়ার কারণে মূল বোমাবর্ষণ অভিযান দুই দিন পিছিয়ে দিতে হয়েছিল। এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে তথ্য ফাঁসকারীদের কঠোর শাস্তির দাবি জানান তিনি।


তথ্য ফাঁসের উৎস শনাক্ত করতে ট্রাম্প প্রশাসন ইতোমধ্যে বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে। এর মধ্যে শ্বেতভবন ও পেন্টাগনের কর্মকর্তা-কর্মীদের মিথ্যা শনাক্তকরণ পরীক্ষার আওতায় আনার উদ্যোগ এবং নিউইয়র্ক টাইমস, ওয়াশিংটন পোস্ট ও ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে সমন জারির বিষয়টি রয়েছে। সাবেক শ্বেতভবন কর্মকর্তা অ্যালিসা ফারাহ গ্রিফিনও ২০২৪ সালের একটি পডকাস্টে দাবি করেছিলেন, ট্রাম্প ২০২০ সালেও তথ্য ফাঁসকারীদের মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার কথা বলেছিলেন।


এদিকে, ইরানের বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধ নিয়েও নতুন মন্তব্য করেছেন ট্রাম্প। তাঁর দাবি, যুদ্ধ খুব শিগগিরই শেষ হতে যাচ্ছে। একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালির ওপর যুক্তরাষ্ট্র বর্তমানে পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ বজায় রেখেছে বলেও দাবি করেছেন তিনি। তবে এসব বক্তব্যের বাস্তব পরিস্থিতি ও সামরিক অগ্রগতির সঙ্গে সামঞ্জস্য কতটা, তা নির্ভর করছে সংশ্লিষ্ট ঘটনাপ্রবাহের ওপর।


সব মিলিয়ে, সরকারি গোপন তথ্য ফাঁসকারীদের গুলি করে হত্যার বিষয়ে ট্রাম্পের মন্তব্য যুক্তরাষ্ট্রে নতুন বিতর্ক তৈরি করেছে। একদিকে সামরিক নিরাপত্তা ও গোপন তথ্য রক্ষার প্রশ্ন, অন্যদিকে সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা ও তথ্য প্রকাশের অধিকার—এই দুইয়ের মধ্যে ভারসাম্য কীভাবে বজায় রাখা হবে, তা নিয়ে আলোচনা আরও জোরালো হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।


সূত্র: আল জাজিরা।

সম্পাদকীয় :

সম্পাদকঃ মো: ফারুক হোসেইন,

এক্সিকিউটিভ এডিটরঃ ড. আব্দুর রহিম খান,

প্রকাশকঃ মো: মতিউর রহমান।


অফিস :

অফিস : রুপায়ন জেড. আর প্লাজা (৯তলা), প্লট- ৪৬,রোড নং- ৯/এ, সাতমসজিদ রোড, ধানমন্ডি, ঢাকা- ১২০৯।

ইমেইল : info@banglann.com.bd, banglanewsnetwork@gmail.com

মোবাইল : +৮৮ ০২ ২২২২৪৬৯১৮, ০২২২২২৪৬৪৪৯