হুইলচেয়ারে থাকা একজন মানুষকে ঘিরে স্লোগান, ‘সন্ত্রাসী’ ও ‘বিশ্বাসঘাতক’ বলে চিৎকার—নিউইয়র্কের বিমানবন্দরে অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসকে ঘিরে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও এবার নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্ক উসকে দিয়েছে। ঘটনাটি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সাবেক আইন উপদেষ্টা ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আসিফ নজরুল। তাঁর প্রশ্ন, একজন মানুষকে অপমান করে চিৎকার করলেই কি তাঁর সম্মান মুছে ফেলা যায়?
মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে আসিফ নজরুল অধ্যাপক ইউনূসকে হেনস্তার ঘটনার নিন্দা জানান। তিনি লেখেন, হুইলচেয়ারে থাকা একজন মানুষের সামনে হঠাৎ এসে তাঁকে ‘সন্ত্রাসী’ ও ‘বিশ্বাসঘাতক’ বলে চিৎকার করার মধ্যে কোনো গৌরব নেই; বরং এমন আচরণ মানুষের চিন্তাভাবনা ও মানসিকতা নিয়ে প্রশ্ন তোলে।
পোস্টে আসিফ নজরুল আরও দাবি করেন, অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস বিশ্বজুড়ে সম্মানিত একজন ব্যক্তি। তাঁর কাজ ও উদ্যোগ আন্তর্জাতিক পরিসরে অনুকরণীয় হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। এমনকি ভারতের মতো দেশেও ইউনূসের অবদান স্বীকৃতি পেয়েছে বলে উল্লেখ করেন সাবেক এই আইন উপদেষ্টা।
আসিফ নজরুলের বক্তব্য, বিশ্বের বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রপ্রধান, রাজা-রানি এবং বড় বড় প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ ব্যক্তিরা অধ্যাপক ইউনূসের সান্নিধ্য পেয়ে সম্মানিত বোধ করেছেন। তাঁর মতে, বিমানবন্দরে কয়েকজনের চিৎকার বা অপমানজনক মন্তব্যে ইউনূসের আন্তর্জাতিক মর্যাদা কমে যাওয়ার প্রশ্নই ওঠে না।
পোস্টের শেষাংশে আসিফ নজরুল তীব্র ভাষায় সমালোচনা করেন অধ্যাপক ইউনূসকে অপমানকারীদের। তিনি সূর্যের দিকে ইট ছুড়ে মারার উদাহরণ টেনে বলেন, এতে সূর্যের আলো আড়াল করা যায় না। অর্থাৎ, তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, অপমানজনক আচরণ করে অধ্যাপক ইউনূসের অর্জন ও সম্মান মুছে ফেলা সম্ভব নয়।
উল্লেখ্য, নিউইয়র্কের জন এফ কেনেডি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অধ্যাপক ইউনূসকে ঘিরে কয়েকজনের স্লোগান ও আপত্তিকর মন্তব্যের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিওতে তাঁকে উদ্দেশ করে চিৎকার করতে দেখা যায় বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ঘটনায় আওয়ামী লীগের কয়েকজন প্রবাসী সমর্থকের বিরুদ্ধে হেনস্তার অভিযোগ উঠলেও, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের পরিচয় ও ঘটনার পূর্ণ প্রেক্ষাপট স্বাধীনভাবে যাচাই করা জরুরি।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক অঙ্গনে নিন্দা ও পাল্টাপাল্টি বক্তব্য অব্যাহত রয়েছে। আসিফ নজরুলের মন্তব্য সেই বিতর্কে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। তবে রাজনৈতিক মতপার্থক্য যাই থাকুক, জনসমক্ষে কাউকে অপমান করার অভিযোগের ক্ষেত্রে ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত এবং সংশ্লিষ্ট সবার বক্তব্য যাচাই করাই গুরুত্বপূর্ণ।