সারা দেশে টানা দুই দিন বন্ধ থাকতে পারে এলপিজি গ্যাসের দোকান! কমিশন বৃদ্ধি, গ্যাসের সরবরাহ নিশ্চিত করা এবং

সব এলপিজির দোকান দুই দিন বন্ধের ঘোষণা

নিউজটি প্রতিবেদন করেছেন: নিউজ ডেস্ক।

আপলোড সময় : ১৩ অক্টোবর ২০২৬, দুপুর ১২:২২ সময় , আপডেট সময় : ১৩ অক্টোবর ২০২৬, দুপুর ১২:২২ সময়

সারা দেশে টানা দুই দিন বন্ধ থাকতে পারে এলপিজি গ্যাসের দোকান! কমিশন বৃদ্ধি, গ্যাসের সরবরাহ নিশ্চিত করা এবং প্রশাসনিক হয়রানি বন্ধসহ সাত দফা দাবিতে নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করেছেন ব্যবসায়ীরা। তবে এরই মধ্যে নির্ধারিত দামের চেয়ে ৫০০ থেকে ৭০০ টাকা বেশি দিয়ে সিলিন্ডার কিনতে হচ্ছে বলে অভিযোগ করছেন ক্রেতারা। তাহলে এই সংকটের পেছনে কী রয়েছে, আর কবে মিলবে স্বস্তি?


এলপিজি ব্যবসায়ী সমবায় সমিতি লিমিটেড ঘোষণা দিয়েছে, আগামী বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার সারা দেশে এলপিজি বিক্রির দোকান বন্ধ রাখা হবে। রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের সভাপতি মো. সেলিম খান এই কর্মসূচি ঘোষণা করেন। তিনি জানান, দুই দিনের মধ্যে দাবিগুলোর সমাধান না হলে পরবর্তী সময়ে অনির্দিষ্টকালের জন্য দোকান বন্ধ রাখার মতো কঠোর কর্মসূচি দেওয়া হতে পারে। ব্যবসায়ীদের এই ঘোষণা এমন সময়ে এসেছে, যখন বাজারে এলপিজির দাম নিয়ে ক্রেতাদের মধ্যে অসন্তোষ বাড়ছে। গত ৪ অক্টোবর বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন ১২ কেজির একটি সিলিন্ডারের দাম ২৫২ টাকা বাড়িয়ে এক হাজার ৮৩৭ টাকা নির্ধারণ করে। কিন্তু ক্রেতাদের অভিযোগ, বাজারে একই সিলিন্ডার কিনতে নির্ধারিত দামের চেয়ে ৫০০ থেকে ৭০০ টাকা পর্যন্ত বেশি দিতে হচ্ছে। বিভিন্ন জেলা প্রশাসনও বেশি দামে এলপিজি বিক্রির তথ্য জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগকে জানিয়েছে।


ব্যবসায়ীদের দাবি, বর্তমান কমিশনে তাদের পরিচালন ব্যয় মেটানো কঠিন হয়ে পড়েছে। পাঁচ বছর আগে সিলিন্ডারপ্রতি পরিবেশকদের কমিশন নির্ধারণ করা হয়েছিল ৫০ টাকা। এরপর পরিবহন খরচ, সিলিন্ডার ওঠানো-নামানো, গুদামভাড়া, লাইসেন্স ফি ও কর্মচারীদের ব্যয় বেড়েছে। এসব ব্যয় বিবেচনায় কমিশন ৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১৫০ টাকা অথবা বিক্রয়মূল্যের ৭ শতাংশ করার দাবি জানিয়েছেন তারা।


ব্যবসায়ীদের সাত দফা দাবির মধ্যে রয়েছে, কোম্পানিগুলোর ইচ্ছামতো বারবার দাম পরিবর্তন বন্ধ করা এবং মাসে একাধিকবার মূল্য সমন্বয় করতে হলে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের ঘোষণার মাধ্যমে তা করা। পাশাপাশি কোম্পানির চালানে প্রকৃত দাম উল্লেখ করা এবং পরিবেশকের গুদামে সিলিন্ডার পৌঁছে না দিলে ন্যায্য পরিবহনভাড়া দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা। এ ছাড়া দীর্ঘদিন ধরে গ্যাস সরবরাহ করতে না পারা কোম্পানিগুলোর খালি সিলিন্ডারে নতুন করে গ্যাস ভরে বাজারে সরবরাহের ব্যবস্থা করার আহ্বান জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। তাদের দাবি, ঋণপত্র খোলার জটিলতা ও সরবরাহ সমস্যার কারণে অনেক সিলিন্ডার অব্যবহৃত পড়ে রয়েছে। এসব সিলিন্ডার কাজে লাগানো গেলে বাজারে সরবরাহ বাড়ানো সম্ভব হবে।


প্রশাসনিক হয়রানি নিয়েও অভিযোগ তুলেছেন ব্যবসায়ীরা। তাদের দাবি, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ঠিক থাকার পরও শুধু গাড়ির রেলিং থাকার কারণে সিলিন্ডার বহনকারী পিকআপ বা ট্রাকের বিরুদ্ধে মামলা দেওয়া যাবে না। একই সঙ্গে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের মাধ্যমে অযৌক্তিক জরিমানা আরোপ বন্ধের দাবি জানিয়েছেন তারা। তবে সরবরাহ পরিস্থিতি নিয়ে ব্যবসায়ী ও আমদানিকারকদের বক্তব্যে ভিন্নতা রয়েছে। ব্যবসায়ীরা বলছেন, হাতে গোনা কয়েকটি কোম্পানি ছাড়া অধিকাংশ প্রতিষ্ঠান নিয়মিত গ্যাস সরবরাহ করতে পারছে না। অন্যদিকে এলপিজি অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ দাবি করেছে, দেশে এলপিজির আমদানি ও সরবরাহ পর্যাপ্ত রয়েছে। নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে বিক্রির সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্যও সরকারকে আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি।


এর আগেও প্রশাসনিক অভিযান ও জরিমানার প্রতিবাদে গত ৮ জানুয়ারি এলপিজি সরবরাহ ও বিক্রি বন্ধ রেখেছিলেন ব্যবসায়ীরা। পরে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বৈঠক এবং দাবি পূরণের আশ্বাসের পর ধর্মঘট প্রত্যাহার করা হয়। এবার বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার দোকান বন্ধ থাকলে সাধারণ ক্রেতাদের এলপিজি সংগ্রহে ভোগান্তি বাড়তে পারে। বিশেষ করে যেসব পরিবার রান্নার কাজে সিলিন্ডার গ্যাসের ওপর নির্ভরশীল, তাদের মধ্যে আগেভাগে গ্যাস কেনার চাপ তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এখন দেখার বিষয়, দুই দিনের কর্মসূচির আগেই ব্যবসায়ীদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সমঝোতা হয় কি না, নাকি এলপিজি বাজারে সংকট আরও দীর্ঘায়িত হয়।

সম্পাদকীয় :

সম্পাদকঃ মো: ফারুক হোসেইন,

এক্সিকিউটিভ এডিটরঃ ড. আব্দুর রহিম খান,

প্রকাশকঃ মো: মতিউর রহমান।


অফিস :

অফিস : রুপায়ন জেড. আর প্লাজা (৯তলা), প্লট- ৪৬,রোড নং- ৯/এ, সাতমসজিদ রোড, ধানমন্ডি, ঢাকা- ১২০৯।

ইমেইল : info@banglann.com.bd, banglanewsnetwork@gmail.com

মোবাইল : +৮৮ ০২ ২২২২৪৬৯১৮, ০২২২২২৪৬৪৪৯