দুর্গাপূজাকে ঘিরে নাশকতার আশঙ্কা প্রকাশ করে নতুন অভিযোগ তুলেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবীর রিজভী। তাঁর দাবি, দুর্গাপূজার সময় নাশকতা ঘটিয়ে সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার ষড়যন্ত্র করছে পরাজিত শক্তি, আর দেশের অভ্যন্তরীণ একটি পক্ষ তাদের মদদ দিচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে পূজাকে কেন্দ্র করে দলীয় নেতাকর্মীদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।
সোমবার, ১২ অক্টোবর, রাজধানীর প্রেসক্লাবে বিএনপির প্রয়াত নেতা হান্নান শাহর স্মরণসভায় বক্তব্য দিতে গিয়ে এসব কথা বলেন রুহুল কবীর রিজভী। তিনি বলেন, দুর্গাপূজাকে ঘিরে যেন কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে, সে বিষয়ে নেতাকর্মীদের সচেতন থাকতে হবে। তবে নাশকতার ষড়যন্ত্রে কারা জড়িত, কিংবা তাঁর অভিযোগের পক্ষে কী ধরনের তথ্য রয়েছে, সে বিষয়ে বক্তব্যে বিস্তারিত কিছু উল্লেখ করা হয়নি।
রিজভীর এই বক্তব্য এমন সময়ে এল, যখন দুর্গাপূজাকে ঘিরে নিরাপত্তা ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। তাঁর অভিযোগ, একটি পক্ষ পরিকল্পিতভাবে পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করে সরকারের ভাবমূর্তি নষ্ট করতে চায়। তবে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষের কোনো বক্তব্য বা অভিযোগের স্বাধীন যাচাই সংবাদে উল্লেখ নেই।
বক্তব্যে বিএনপির রাজনৈতিক অবস্থান তুলে ধরতে গিয়ে রুহুল কবীর রিজভী আরও বলেন, তাঁর দল অতীতের লুটপাটের রাজনীতির পুনরাবৃত্তি করতে চায় না। সংকটের মধ্যেও জনগণকে স্বস্তি দেওয়ার জন্য সরকার কাজ করছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। রাজনীতিতে ব্যক্তিগত স্বার্থের পরিবর্তে জনসেবাকে গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান বিএনপির এই নেতা। তিনি বলেন, রাজনীতি করার উদ্দেশ্য অর্থ উপার্জন হওয়া উচিত নয়। সংসদ সদস্যদের জনগণের ভালো-মন্দের দিকে নজর দিতে হবে। সার ডিলারশিপ কিংবা ঠিকাদারি ব্যবসার উদ্দেশ্যে কেউ যেন রাজনীতিতে যুক্ত না হন, সে বিষয়েও সতর্ক করেন তিনি।
রিজভীর বক্তব্যে একদিকে দুর্গাপূজাকে ঘিরে সম্ভাব্য নাশকতার অভিযোগ, অন্যদিকে রাজনৈতিক নেতৃত্বের দায়িত্ব ও জনসেবার প্রসঙ্গ উঠে এসেছে। তবে নাশকতার আশঙ্কা নিয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কোনো বক্তব্য বা নির্দিষ্ট নিরাপত্তা পরিকল্পনার তথ্য এই প্রতিবেদনে দেওয়া হয়নি। সব মিলিয়ে, দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে সম্ভাব্য ষড়যন্ত্রের অভিযোগ তুলেছেন রুহুল কবীর রিজভী। তাঁর বক্তব্যের পর এখন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, পূজার সময় নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কী পদক্ষেপ নেয় এবং রাজনৈতিক দলগুলো কীভাবে সম্প্রীতি বজায় রাখতে ভূমিকা রাখে।